রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৪ঠা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
রাস্তার ওপর বসে মা-বাবার জন্য মিলাদ পড়েছি : প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ: ০৯:৫৯ am ০২-০৮-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:০০ am ০২-০৮-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে যখন তিনি দেশে ফেরেন, তখন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। রাস্তার ওপর বসে মা-বাবার জন্য মিলাদ পড়েছি।

বুধবার শোকের মাস আগস্টের প্রথম দিনে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত স্মরণসভা ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করে না কিন্তু ঘটনাক্রমে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল, তারাই জাতির পিতার হত্যার মূল কুশীলব ছিল। 

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিচারপতি সায়েমকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করে জিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতা দখল এবং বিখ্যাত সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী আত্মস্বীকৃত খুনি ফারুক-রশিদের জিয়াকে মুজিব হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা এবং জিয়া তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার কথা বলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘জিয়া এই খুনের সঙ্গে জড়িত ছিল বলেই পরে সে খুনিদের বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সব খুনির বিচার এবং অনেককে শাস্তি দেওয়া হলেও জিয়া আগেই ঘটনাচক্রে নিহত হওয়ায় তাঁকে এই হত্যার বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়ার যা পরিণতি হয়েছিল, তা তাঁর অবধারিত। তবে আমার দুঃখ একটাই যে, তার বিচারটা আমি করতে পারলাম না। তার আগেই সে মরে গেল।’ তিনি বলেন, ‘জিয়া ঘাতকদের বলেছিলেন এগিয়ে যাও, আমি আছি। খুনি মোশতাক আমাদের দলেই ছিল, তবু সে বেইমানি ও মুনাফেকি করেছিল। অথচ তিন মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই এ কারণে যে, তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল বলেই আমরা ক্ষমতায় আসতে পেরেছি। খুনিদের বিচার করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে পেরেছি।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগস্ট শোকের মাস। এ মাসে আমি হারিয়েছি আমার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু জাতি হারিয়েছে দেশের অভিভাবককে। বঙ্গবন্ধু আজ বেঁচে থাকলে অনেক আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হতো।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৫ আগস্টের খুনিরা প্রতিনিয়ত আমাদের বাসায় যাতায়াত করত। বাবার কাছ থেকে নানা সুবিধা নিত। এরপরও তারা বেইমানি করেছে। তারা শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যাই করেনি, এ হত্যার বিচার যাতে না হয় সে জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশও জারি করে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর বাংলাদেশে ১৯টা ক্যু হয়েছিল। সেনাবাহিনীর বহু অফিসার, বহু সৈনিক, বিমানবাহিনীর অফিসারদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধা অফিসার কেউই ছিল না। একে একে সবাইকেই মেরে ফেলা হয়। এ দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ধ্বংস করা হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাকে আর রেহানাকে দেশে আসতে দেওয়া হয়নি। রেহানার পাসপোর্ট পর্যন্ত নবায়ন করে দেয়নি জিয়াউর রহমান। আওয়ামী লীগ যখন আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে, জোর করে আমি তখন দেশে ফিরে আসি।’ তিনি বলেন, ‘দেশে আসার পর আমাকে এই বাড়িতে (ধানমন্ডির ৩২ নম্বর) ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এই বাড়ির গেটে তালা ছিল। এই রাস্তার ওপর বসে বাবা-মা ও ভাইবোনের জন্য মিলাদ পড়েছিলাম আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ আমরা।’

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে কৃষক লীগের নিয়মিত প্রকাশনা ‘কৃষকের কণ্ঠ’র আগস্ট উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতাসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।সূএ: বাসস

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71