বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৩০শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
রাহুলের এ প্রস্থান মেনে নেওয়া যায় না
প্রকাশ: ১০:৫৮ am ২০-১২-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:০০ am ২০-১২-২০১৭
 
চট্রগ্রাম প্রতিনিধি
 
 
 
 


মাটির ঘরে ঢোকার আগে চোখ আটকাল দরজার পাশে। লেমেনেটিং করা শ খানেক ছবি দেয়ালে পেরেক দিয়ে গাঁথা। কোনোটি বনভোজনের, কোনোটি বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার, কোনোটি ঐতিহাসিক কোনো এলাকার। তবে সব কটি ছবিতে একটি মিল রয়েছে। প্রতিটি ছবিতেই রয়েছেন হাস্যোজ্জ্বল এক তরুণ। নাম তাঁর দীপঙ্কর দাশ। বন্ধুরা অবশ্য তাঁকে রাহুল নামেই চেনে। মাটির ঘরের দেয়ালের সব ছবিই রাহুলের টাঙানো। এখন চাইলে রাহুলের বন্ধুরা সেখানে নতুন একটি ছবি টাঙাতে পারেন। সেটি রাহুলের শেষযাত্রার...।

Image may contain: one or more people, people standing and outdoor

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাহুল ভক্ত ছিলেন চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর। তাঁর কুলখানির মেজবানে অন্য আরও অনেকের সঙ্গে যোগ দিতে চেয়েছিলেন তিনি। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম শহরের রীমা কনভেনশন সেন্টারে প্রয়াত নেতার প্রতি ভালোবাসার টানে ভিড় করা জনতার মধ্যে তিনিও ছিলেন। পরে তাঁকে পাওয়া যায় সেখানে পদদলিত হয়ে নিহত হওয়া ১০ জনের মধ্যে।

রাহুলের বন্ধুরা জানালেন, দলের একজন হয়ে কাজ করা তাঁর বেশি পছন্দ ছিল। মৃত্যুর সময়ও কী এর প্রমাণ দিলেন রাহুল!

সামাজিক ও দলগত নানা কাজে সক্রিয় ছিলেন রাহুল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের অন্যতম কার্যকর্তা, বন্ধুসভার সদস্য, বিতর্ক ক্লাবের সদস্য, চকরিয়ার মাদকবিরোধী সংগঠন অনিবার্ণ, চকরিয়া-পেকুয়া ছাত্র ফোরামের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদকসহ আরও কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যুক্ততা ছিল।

চকরিয়া-পেকুয়া ছাত্র ফোরামের সভাপতি নাজিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, খুব কর্মঠ ছিলেন দীপঙ্কর। সময় মেনে কাজ করা ছিল তাঁর প্রথম বৈশিষ্ট্য। নিজের জন্য কখনো অবসর সময় রাখতেন না রাহুল।

রাহুলের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের তেলিয়াকাটার হিন্দুপাড়ায়। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ার বরইতলীর গোলাপবাগান এলাকা থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমে এই পাড়াটি। পাড়ার ভেতরে একটি পাহাড়ের ঢালুতে তাঁদের বাড়ি। মাটির ঘরের ওপর টিনের চালার তিন কক্ষের কামরায় থাকে তাঁর পরিবার।

রাহুলের বাবা সনাতন দাশ চকরিয়া পৌর এলাকার একটি আসবাব দোকানের কর্মচারী। মা স্মৃতি রানী দাশ গৃহিণী। তাঁরা দুই ভাই। বড় ভাই শুভঙ্কর দাশ চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানার কর্মী।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার বাড়ির সামনে পুকুরপাড়ের শ্মশানে লাশের সৎকার চলছিল। রাহুলের মা তখন বসে ছিলেন ঘরের দরজায়। সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। বসার ঘরের দেয়ালজুড়ে শুধু রাহুলের ছবি। ভেতরে আসবাব বলতে একটি টেবিল, একটি চেয়ার ও কয়েকটি মোড়া।

আঁচলে চোখ মুছে মা স্মৃতি রানী দাশ বলেন, রাহুল খুব ভ্রমণপ্রিয় ছিল। যেখানেই যেত ছবি তুলত। সেই ছবি লেমেনেটিং করে এনে দেয়ালে লাগাত। কয়েক দিন পর রাহুলের সিলেট ভ্রমণে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু...।

মা জানান, রাহুলকে ঘিরেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছিলেন। পড়ালেখা শেষ করে টানাটানির সংসারের হাল ধরে। একটু ভালোভাবে চলতে পারবেন তাঁরা। এখন তো সব শেষ।

রাহুল ২০১১ সালে চকরিয়ার হারবাং শাক্যমনি উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবসায় বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে। ২০১৩ সালে সেখান থেকে এইচএসসি পাসের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই টিউশনি করে পড়ার খরচ চালাতেন রাহুল।

রাহুলদের বাড়ির পুকুরপাড়ের শ্মশানে কথা হয় তাঁর বাবা সনাতন দাশের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সে শিক্ষক হতে চেয়েছিল। ঠিকঠাক চলছিল। হঠাৎ সব কেড়ে নিল।’ এরপর আর কথা বলতে পারেননি তিনি।

বাড়ির উঠানে কথা হয় শাক্যমনি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক শিবুল কান্তি দে, স্থানীয় ইউপি সদস্য রামানন্দ ঘোষ, ব্যবসায়ী রাসেল বিশ্বাস ও রাহুলের স্কুলজীবনের বন্ধু রুবেল দের সঙ্গে।

শিক্ষক শিবুল কান্তি দে বলেন, কলেজে পড়ার সময় এলাকায় মাদকবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন রাহুল। তাঁর মধ্যে একধরনের প্রতিবাদী মানসিকতা ছিল। এলাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। বড় সংগঠক হতে পারতেন ছেলেটি। এ রকম একটা ছেলের জীবন এত অল্পতে কেন শেষ হয়ে গেল।


প্রচ


 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71