শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
রীমা ট্রাজেডি, বাংলাদেশ ও চট্টগ্রামের রাজনীতি
প্রকাশ: ১১:২১ am ২৩-১২-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:২২ am ২৩-১২-২০১৭
 
লেখক শুভ দে, প্রতিষ্ঠাতা কৃষ্ণ সারথী ফোরাম
 
 
 
 


রাজনীতি মহল থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সর্বত্রই গুঞ্জন উঠছে মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানি অনুষ্ঠানের ট্রাজেডি নাকি পূর্বপরিকল্পিত। যে ট্রেজেডিতে প্রাণ গেল ২১ জন হিন্দু যুবকের। ঘটনাটি পরিকল্পিত এই কথাটি প্রয়াত মহিউদ্দিন পুত্র নওফেলও বলেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে নাশকতার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। কেউ পরিকল্পিত ভাবেও এ ঘটনা ঘটাতে পারে। কুলখানিতে পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনা স্বাভাবিক নয়। অন্য ১৩ টি ক্লাবে তো এমন ঘটনা ঘটল না, রীমা ক্লাবে কেন ঘটল??

বাংলাদেশের রাজনীতির অতীত ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ বলেন আর বিএনপি বলেন তাদের নোংরা রাজনীতির বলির পাঁঠা হয় হিন্দুরাই। যেমন; ১) ২০০১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে তখন তারা হিন্দুদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছিল। কারণ বিএনপি মনে করেছিল হিন্দুরা একক ভাবে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয় বলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। বিএনপির এই নোংরা রাজনৈতিক ধারনার জন্য সেইসময় বলির পাঁঠা হয়েছিল হিন্দুগোষ্ঠী। যদিও বা এই নীতিটা এখনও বাংলাদেশের রাজনীতিতে চর্চিত হয়ে আসছে।

২) ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ শুরু করল। ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাইদির রায় দিবে ঠিক তখন সাইদির বিচার রায় প্রক্রিয়া বানচাল করার জন্য জামাত- শিবিরের কর্মীরা সাইদিকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে বলে গুজব রটিয়ে লোক জড় করে সাইদির এলাকায়সহ সারা বাংলাদেশে হিন্দুদের ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিল। এখানেও আওয়ামী লীগ-জামাতের নোংরা রাজনীতিতে বলির পাঁঠা হতে হল হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের। রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ এনে হিন্দুদের বলির পাঁঠা বানানো এই রকম হাজার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে আছে। তেমনি "রীমা ট্রাজেডিটি" যে আওয়ামী লীগের গ্রুপিং নামক নোংরা রাজনীতির শিকার নই সেটাও বলা যাবে না।

যেহেতু ১৪ টি ক্লাবের মধ্যে শুধু হিন্দুদের জন্য বরাদ্দকৃত ক্লাবটিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে আ জ ম নাছির উদ্দিন যখন মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হঠিয়ে মেয়র পদে দাঁড়ালেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী এটা ভালো চোখে নিলেন না। আর তখন থেকে তাদের মধ্যে শুরু হল দা-কুমড়োর সম্পর্ক। মহিউদ্দিন গ্রুপ আর নাছির গ্রুপ নামে ২ টি গ্রুপ চট্টগাম রাজনীতির মাঠে উদয় হল। দুই নেতার মধ্যে বাকবিতণ্ডা গুলো বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের মিডিয়াতে ফলাও করে সম্প্রসারণ হয়েছিল। মহিউদ্দিন চৌধুরী নাছিরকে উদ্দেশ্য করে বলে হজ্ব পালন শেষ করে আসি তারপর লাঠি দিয়ে পিটাব। আর আজম নাসির মহিউদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে বলল, উনার বয়স হয়েছে; তাই উনি এই রকম প্রলাপ বকছে। তাদের মধ্যে এমন বাকবিতণ্ডা দেখে বুজা যায় চট্টগ্রাম রাজনীতিতে তাদের একজনের প্রতি আর একজনের সম্পর্ক কেমন ছিল। রাজনীতির বাকবিতণ্ডা চলার মাঝেই মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রয়াত হন। আর প্রয়াত বাবার রাজনীতির ময়দান ধরে রাখার জন্য যে কোমর বেঁধে মাঠে নামবে তার পুত্র এটাই স্বাভাবিক। পুত্র যখন রাজনীতির ময়দানে নামবে এমন সময় ঘটল রীমা ট্রাজিডি। যার পরিণতি ২১ জন হিন্দুর মৃত্যু।

হতাহতের কারণ উদঘটনের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাশহুদুল কবীরকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটির গঠন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।

এখন কথা হল তদন্ত কমিটি কি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে জনসম্মুখে গর্ত থেকে প্রকৃত সত্য বের করে আনবে? নাকি অতীতের ইতিহাসের মত প্রকৃত সত্যকে গর্তের মধ্যে মাটি চাপা দিয়ে অসত্য তথ্য তুলে ধরবে? তদন্ত কমিটি যদি এই রকম কাজ করে তাহলে হতাহতের স্বজনদের মনে আওয়ামী লীগের রাজনীতির উপর ক্ষোভ বাড়বে। যার দরুণ যুগ যুগ ধরে তারা জাতীয় নির্বাচনে ভোট মেশনে "না ভোট" নামক বোতামে টিপ মারবে বলে আমি মনে করি। যা আওয়ামী লীগের জন্য কখনো সুখকর হবে না। যদিও বা ২০০৫ সালে মহিউদ্দিন চৌধুরী তৃতীয়বারের মত নগর পিতা হিসেবে ক্ষমতায় আসার পর তার হিন্দু বিরোধী কাজ কর্মের জন্য হিন্দুরা ২০১০ সালে নগর পিতা নির্বাচনে মহিউদ্দিনের বিপক্ষে চলে যায়। যার কারণে আওয়ামী লীগকে চট্টগ্রামের নগর পিতার আসনটি হারাতে হয়েছিল। এই পরাজয়ের ইতিহাসটা আওয়ামী লীগ মাথায় রাখবে বলে আমি আশা করি।

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71