মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
রুলিবালা তৈরী করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে গৃহবধু সুচরিতার
প্রকাশ: ০৬:১১ pm ১৮-১১-২০১৮ হালনাগাদ: ০৬:১১ pm ১৮-১১-২০১৮
 
নওগাঁ প্রতিনিধি:
 
 
 
 


পিতল দিয়ে তৈরী রুলিবালা। আর এ রুলিবালা তৈরি করে গৃহবধু সুচরিতা সংসারে নিয়ে এসেছেন স্বচ্ছলতা। গত তিন বছর আগে যেখানে সাংসারিক কাজের পাশাপাশি প্রতিবেশেীদের সাথে গল্প করে সময় পার করতেন। আর এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাতুড়ি ও ছোট ছোট সেনি দিয়ে পিতল থেকে তৈরী রুলিবালায় নানা ধরণের কারুকার্য ফুটাতে ব্যস্ত থাকেন। প্রতিদিন পাঁচ জোড়া রুলিবালা তৈরী করে ২শ’ টাকা মজুরি পান। আর এর মাঝে সংসারের কাজ ও সন্তানের দেখা-শুনাও করেন। 

এ কাজ করে যে আয় করেন তা দিয়ে গত দুই বছর থেকে মাসে ২ হাজার টাকার মুদারাবা মাসিক কিস্তি (ডিপিএস) খুলেছেন। মেয়ে সুমাইয়া গ্রামের স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। স্বামী এনামুল সরদার ‘স’ মিলে কাজ করেন। অভাব অনটনের সংসারে স্বামীর উপার্জনের নিজের উপার্জনের টাকায় সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে রনসিঙ্গার গ্রামের বধু সুচরিতা।

নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার সদরের একটি গ্রাম রনসিঙ্গার। এ গ্রামের পাকা রাস্তার ধারে সাবেক সেনা সদস্য এমদাদুল হক গড়ে তুলেছেন রুলিবালার কারখানা। কারখানাটির নাম রেখেছেন ‘এমদাদ বালা ঘর’। এ গ্রামটি এখন কারিগর গ্রাম নামে পরিচিত পেয়েছে। এ গ্রামের সুচরিতার মতো প্রায় ১৫০ জন নারী রুলিবালার কাজ করেন। সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত কাজ করে সংসারে আর্থিক সহযোগীতা করছেন দরিদ্র পরিবারের এসব গৃহবধুরা। এছাড়া উপজেলার খট্টেশ্বর, পশ্চিম বালুভরা, রাণীনগর বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে আরো প্রায় শতাধিক নারীরা কাজ করে থাকেন।

জানা গেছে, পিতল দিয়ে তৈরী হয় রুলিবালা। পিতলের রং এবং সোনার রং প্রায় সমান। স্বর্ণের দাম বেশি হওয়ায় সবার অলংকারের স্বাদ গ্রহণ করাও সম্ভব হয়না। রুলিবালাতে কারুকার্য তৈরী করে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়। ফলে পছন্দের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ক্রেতাদের। আর এ কাজে এলাকার বেকার নারীদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় এসব রুলিবালা এখন সরবরাহ করা হচ্ছে।

গৃহবধু সুচরিতা, হাসনা হেনা, পারভিন খাতুন জানান, রুলিবালার উপর নকশা করতে গ্রামেই ২০ দিনের একটা প্রশিক্ষণ দেয়। তিনি চার বছর ধরে এ কাজ করছেন। এখানকার প্রতিটি বাড়িতে রুলিবালা তৈরী করার কাজ হয়। আগে গল্প করে এ গ্রামের নারীরা সময় পার করলেও এখন সবাই রুলিবালা তৈরীতে ব্যস্ত। কারোই যেন অবসর নেই। প্রতিদিন প্রায় ১৫০-২০০ টাকা পারিশ্রমিক পান এ কাজ করে। এখন বাচ্চাদের নিয়ে একটু ভাল ভাবে খেয়ে পরে দিন কাটাতে পারছেন। স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখেই কাটছে তাদের দিন।

কারখানার মালিক এমদাদুল হক জানান, ২৩ বছর সেনাবাহিনীতে চাকুরির পর ২০১৩ সালে তিনি অবসর গ্রহন করেন। এরপর নাটোর, সৈয়দপুর ও পাবর্তীপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলায় প্রায় ছয় মাস রুলিবালা তৈরির উপর প্রশিক্ষ গ্রহণ করেন। ২০১৪ সালে স্ত্রী রুমাকে রুলিবালার কাজ শেখান। এরপর বাড়িতে ১০ জন নারী শ্রমিক দিয়ে কারখানার কাজ শুরু করেন। দাম কম হওয়ায় সবার কাছেই পছন্দ রুলিবালা। 

বর্তমানে প্রায় ৩৫০ জন নারী কারিগর রুলিবালার কাজের সাথে সম্পৃক্ত। তার কারখানায় কাজ করেন ১৮৫ জন নারী শ্রমিক। কাজের মান ভেদে নারী শ্রমিকদের ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা করে বেতন দেন। এছাড়া প্রতি জোড়া ভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকা করেও মজুরি দেয়া হয়। প্রতি জোড়া রুলিবালা বাজারে বিক্রি হয় রং ছাড়া ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং রংসহ বিক্রি হয় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। এসব রুলিবালা ঢাকার তাঁতিবাজার, সিলেট, বগুড়া, নাটোর ও নওগাঁসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

নি এম/মুরাদ 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71