শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ৬ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
রোজার ফজিলত ও হিকমত
প্রকাশ: ১০:২১ pm ১৮-০৬-২০১৫ হালনাগাদ: ১০:২১ pm ১৮-০৬-২০১৫
 
 
 


আমীম ইহসান।। বর্ষপরিক্রমায় রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে শুরু হল মাহে রমজান বা সিয়াম সাধনার মাস।

সিয়ামের ফারসি প্রতিশব্দ হল রোজা। এ মাসে মুসলমানরা রোজা রাখার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রতি ব্রত হয়।

রোজার পরিচয়: ফারসি শব্দ রোজার আরবি অর্থ হচ্ছে সওম, বহুবচনে সিয়াম। সওম বা সিয়ামের বাংলা অর্থ বিরত থাকা। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যে কোন ধরণের পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম বা রোজা।

আল্লাহতালা মানবজাতির দুনিয়ার জীবনযাত্রার শুরু থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত যতগুলো শরীয়ত বা জীবনবিধান দিয়েছেন এই সিয়াম সাধনা তার প্রত্যেকটিরই অবিচ্ছেদ্ধ অংশ ছিল; এখনও আছে। সিয়াম সাধনা সকল যুগের মানুষের জন্য ফরজ ছিল। তবে সাধনার পদ্ধতি ভিন্ন ছিল।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ কোরআনে বলেন: হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমনি ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যেন তোমরা তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করতে পারো। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)

সূরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই মাসকে (রমজান) পায় সে যেন রোজা রাখে”।

রোজার প্রতি গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে রাসুল (সা:) বলেন: ইসলামের ভিত্তি হচ্ছে পাঁচটি। আর বিষয়গুলি হচ্ছে কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ ও যাকাত।

রোজার বিধানের উদ্দেশ্য: রোজা ফরজ করার উদ্দেশ্য বলতে গিয়ে আল্লাহ সুরা বাকারার ১৮৩ নং আয়াতের শেষে বলেন “লা’আল্লাকুম তাত্তাকুন” যার অর্থ যেন তোমরা আল্লাহভীতি বা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।

অর্থাৎ এ মাসে রোজা রেখে যেন মুসলমানরা সকল প্রকার পাপাচার, মিথ্যাচারিতা, নগ্নতা, সুদ, ঘুষ ও যৌন কর্মকাণ্ড ইত্যাদি থেকে বিরত থেকে আল্লাহ ভীতি অর্জন করতে পারে।

এই রমজানে যদি আমরা তাকওয়া অর্জন করতে না পারি, পাপাচার, মিথ্যাচারিতা, নগ্নতা, সুদ, ঘুষ ও যৌন কর্মকাণ্ড ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে না পারি তাহলে দিনভর না খেয়ে থেকে পিপাসায় কষ্ট পাওয়ার অর্থ কি?

রোজার ফজিলত:
কোরআন ও হাদিসে রোজার অনেক ফজিলত বর্ণীত হয়েছে।

এ সম্পর্কে হযরত আবু হুরায়রা (রা:) রাসুল (সা:) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল (সা:) বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে পরকালে প্রতিদান পাওয়ার আশায় রমজানের রোজা রাখবে তার অতীত জীবনের সকল পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (বুখারী শরীফ: ১ম খন্ড ২৫৫ পৃ, মুসলিম শরীফ)

এ ব্যাপারে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, আল্লাহ তা’আলা বলেন, রোজা আমার জন্য, আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব ।
( হাদীসে কুদসি, বুখারী শরীফ, ১ম খণ্ড, ২৫৪ পৃ)।

এছাড়াও, এ মাসের যে কোন ইবাদতের ফযীলত অন্য যে কোন মাস অপেক্ষা অনেক বেশি।

রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, এই মাসে যে ব্যক্তি নফল নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করবে, সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় হবে যে রমজান ছাড়া অন্য সময় একটি ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করবে সে যেন অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ আদায় করল। (মিশকাত শরীফ: ১৭৩পৃ)।

সুতরাং প্রত্যেক মু’মিন মুসলমানদের উচিত এই মাসে দান, সদকা, কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজসহ বেশি বেশি ইবাদত করা। বিশেষত এই চারটি কাজ বেশি করা।

১. বেশি বেশি কালিমা পড়া। ২. এস্তেগফার বেশি বেশি করে পাঠ করা। ৩. জাহান্নাম থেকে মুক্তির ও ৪. জান্নাতে প্রবেশের জন্য বেশি বেশি দুআ করা।

রোজা শরীয়তভুক্ত হওয়ার হিকমত:

১: আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন ও শরীয়তের বিধানবলি অনুসরণ করে তাকওয়া অর্জন করা।
২: সবর ও ধৈর্যের অভ্যাস গড়ে তোলা ও প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে নিজের ইচ্ছাশক্তিকে শাণিত করা।
৩: দরিদ্র ও নিঃস্বদের প্রতি দয়া ও মমতা প্রদর্শনের প্রতি মানুষকে অভ্যস্ত করে তোলা। কেননা মানুষ যখন রোজা রেখে ক্ষুধার্ত থাকার কষ্ট অনুভব করবে, অভাবগ্রস্তদের প্রতি তার অন্তর ও অনুভূতি কোমল হবে।

এছাড়াও, চিকিৎসকদের অভিমত অনুযায়ী বছরের একটি মাস রোজা বা উপবাস ব্রত পালন করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

এইবেলা ডটকম/এসবিএস/আর এইচ এস/ইএস
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71