মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৯
মঙ্গলবার, ৯ই মাঘ ১৪২৫
 
 
রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে আছে ভারত: হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা
প্রকাশ: ০৮:৫০ am ১১-০৯-২০১৭ হালনাগাদ: ০৮:৫০ am ১১-০৯-২০১৭
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের লাখ লাখ রোহিঙ্গার চাপ সামলাতে বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দেবে ভারত। বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বোঝা সামলাতে দেশটি বাংলাদেশের পাশে থাকবে। ভারত মনে করে, বাংলাদেশ যা করছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা  রবিবার বিকেলে  দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে হাইকমিশনার শ্রিংলা বলেন, ভারতের অবস্থান শনিবার নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতেই স্পষ্ট উল্লেখ আছে। ওই বিবৃতিতে ভারত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি এবং ওই অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে ‘শরণার্থী’র ঢলে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। এর পাশাপাশি ভারত মিয়ানমারকে তার ‘বেসামরিক জনগোষ্ঠী’র কল্যাণের দিকে দৃষ্টি দিয়ে সংযম ও পরিপক্বতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলাতে বলেছে। ভারত মনে করে, রাখাইনে সংঘাত অনতিবিলম্বে বন্ধ হওয়া এবং স্বাভাবিকতা ফিরে আসা উচিত।

ভারতীয় হাইকমিশনার আরো বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রায় তিন লাখ মানুষ বাংলাদেশে ঢুকেছে। এটি যেকোনো দেশের জন্যই একটি বিশাল সংখ্যা। বিপুল এই জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিতে গিয়ে বাংলাদেশ যা করছে আমরা তার ভূয়সী প্রশংসা করছি।


ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, নিঃসন্দেহে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়া, খাবার, পোশাকের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কাজ। এটিও বলতে হবে যে অনেক লোক আসছে। তারা নির্দিষ্ট একটি জায়গায় নেই। তাদের চিহ্নিত করা, হিসাব রাখা অনেক কঠিন কাজ।

শ্রিংলা বলেন, ‘বাংলাদেশ এ পর্যন্ত যা করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমরা এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে যথাসম্ভব সহযোগিতা করব। ’

বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সারা বিশ্বের সহযোগিতা চেয়েছে। জাতিসংঘে এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাব উঠলে ভারত তাতে সমর্থন দেবে কি না জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘এটি একটি কূটনৈতিক বিষয়। একই সঙ্গে প্রশ্নটি অনুমাননির্ভর। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ইস্যুগুলো কখন, কোথায়, কিভাবে হচ্ছে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। তাই আমি এখনই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে শুধু বলব, যেমনটি আমরা অতীতেও বলেছি, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে এমন যেকোনো উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করি। ’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির তাগিদ দিয়ে আসছে। রাখাইন রাজ্যবিষয়ক কফি আনান কমিশনও এ সুপারিশ করেছে। গত সপ্তাহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মিয়ানমার সফরের সময়ও কফি আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের ওপর যে বোঝা এসে পড়েছে সে বিষয়ে আমরা বলছি। আমরা চিন্তা করছি কিভাবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করা যায়। ’ পাকিস্তান ও এর সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসবাদে যুক্ত করে এ অঞ্চলে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে হাইকমিশনার শ্রিংলা বলেন, ‘আমরা সেখানে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছি। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্যদের উগ্রবাদে জড়িয়ে মিয়ানমার বা বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার যেকোনো অপচেষ্টার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। ’

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71