সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
লক্ষ্মীর অভিশাপই ছিল রাবণের মৃত্যুর মূল কারণ
প্রকাশ: ০৯:০৪ pm ১৫-০৭-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:০৪ pm ১৫-০৭-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


সীতাহরণের পাপ তো ছিলই, শ্রীরামচন্দ্রের বীরত্বও কিন্তু তা বাদে আরও একটি মারাত্মক অভিশাপ ছিল, যা আসলে রাবণবধের মূল কারণ।

রামায়ণের সোজাসাপ্টা গল্প অনুযায়ী শ্রীরামচন্দ্র সীতাহরণের অপরাধে বধ করেছিলেন লঙ্কাপতি রাবণকে। দেবতাদের বিশেষ আশীর্বাদধন্য রাবণকে বধ করতে দেবী মহামায়ার শরণাপন্নও হতে হয় তাঁকে। কিন্তু এই গোটা বিষয়টি কিন্তু রাবণের অদৃষ্টে লেখা হয়ে গিয়েছিল রাবণের যৌবনেই এবং বস্তুত দেবী লক্ষ্মীর অভিশাপই ছিল তাঁর মৃত্যুর মূল কারণ। 

অনেকেরই ধারণা যে মর্ত্যে দেবী লক্ষ্মীর প্রথম অবতার জনকদুহিতা সীতা। কিন্তু তা একেবারেই নয়। মর্ত্যে মা লক্ষ্মীর প্রথম অবতার ছিলেন রাজা কুশধ্বজের কন্যা বেদবতী। কুশধ্বজ ছিলেন রাজা রথধ্বজের ছেলে। এক সময় দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা বন্ধ করে দেওয়ায়, রাজ্য হারিয়ে, ধনসম্পত্তি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছিলেন রাজা রথধ্বজ। তার পরেই কুশধ্বজ ও তাঁর ভাই ধর্মধ্বজ কঠিন তপস্যায় বসেন।  

তপস্যায় সাড়া দিয়ে মা লক্ষ্মী আবির্ভাব হলে রাজপুত্রেরা দু’টি বর চান দেবীর কাছে— রাজ্য পুনরুদ্ধার এবং রাজবংশের কন্যা হিসেবে দেবীর অবতার রূপে জন্মগ্রহণ। দেবী রাজি হন। কুশধ্বজের স্ত্রী মালবতীর গর্ভে প্রবেশ করেন। জন্ম হয় বেদবতীর, ধরাধামে মা লক্ষ্মীর প্রথম অবতারের। বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করতে করতেই জন্ম হয় শিশুর। তাই নাকি রাজকন্যার নাম রাখা হয় বেদবতী। 

বেদবতী যৌবনে পা দিলে দেবতা থেকে অসুর, সবাই তাঁর পাণিপ্রার্থী হয় কিন্তু তিনি তো দেবী লক্ষ্মীর অবতার, তাই নারায়ণ ছাড়া আর কাউকে স্বামীরূপে বরণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। নারায়ণকে স্বামী রূপে পাওয়ার কঠিন তপস্যা শুরু করেন বেদবতী। কিন্তু কিছু সময় পরেই আকাশ থেকে ভেসে আসে দৈববাণী— ‘‘ভগবান বিষ্ণুকে স্বামী রূপে পেতে গেলে তোমাকে আরও একবার জন্ম নিতে হবে। তোমার পরবর্তী জন্মেই স্বামী রূপে তুমি পাবে নারায়ণকে।’’ 

দৈববাণী শুনেও তপস্যা চালিয়ে যান বেদবতী। একদিন পুষ্পকে চড়ে ভ্রমণে বেরিয়ে তপস্যারত বেদবতীকে দেখতে পান লঙ্কাপতি রাবণ। তখন তিনিও সদ্যযুবক। বেদবতীকে নানা রকম প্রলোভন দেখান রাবণ কিন্তু তা সত্ত্বেও তপস্যায় অবিচল থাকেন রাজকন্যা। রাবণ ধৈর্য হারিয়ে তাঁর চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ক্রুদ্ধ বেদবতী তখন অভিশাপ দেন রাবণকে— দুরাত্মা, তোর এত বড় সাহস যে তুই আমার শরীরকে অপবিত্র করিস। এবার আমি আমার নশ্বর দেহ পরিত্যাগ করব। আমি আবারও এক ধার্মিক মর্ত্যবাসীর কন্যা হিসেবে জন্মগ্রহণ করব এবং আমিই হব তোর মৃত্যুর কারণ।

এই কথা বলেই তিনি আগুনের কাছে নিজেকে সমর্পণ করেন এবং পরে জনকরাজার কন্যা সীতা হিসেবে ধরাধামে ফিরে আসেন। অর্থাৎ সীতা হলেন মর্ত্যে মা লক্ষ্মীর প্রথম অবতার বেদবতীর পুনর্জন্ম। যেহেতু মা লক্ষ্মীরই অবতার ছিলেন বেদবতী তাই বলা যায় যে দেবীর অভিশাপেই রাবণরাজের অদৃষ্ট রচিত হয়েছিল। নাহলে জনকরাজের কন্যা হিসেবে পুনর্জন্মও হতো না এবং রাম-রাবণের যুদ্ধও বাধত না!   

বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71