মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
লি কুয়ানের নীতি অনুসরণ করবে সিঙ্গাপুর
প্রকাশ: ০১:২২ am ২৭-০৩-২০১৫ হালনাগাদ: ০১:২২ am ২৭-০৩-২০১৫
 
 
 


সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা লি কুয়ান ইউর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি সফল যুগের সমাপ্তি এমন সময়ে হলো, যখন কিনা তার হাতে তৈরি করা দেশকে শ্লথ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও প্রথম সারির অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ সমাধা করতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে চলমান সংকট সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, তারা প্রয়াত নেতার নীতি ও আদর্শই অনুসরণ করবেন। লি কুয়ান ইউর পুত্র ও সিঙ্গাপুরের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুংয়ের প্রশাসনও এরই মধ্যে প্রমাণ করে দিয়েছে, তারা সাবেক রাষ্ট্রনায়কের দেখানো পথের যোগ্য উত্তরসূরি।
জেনারেল ইলেকট্রিকের (জিই) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিভাগের প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ট ডিন বলেন, সিঙ্গাপুর সবসময়ই নিজেকে পরিবর্তনে সক্ষম। বিশ্বে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের মধ্যেও নিজেকে প্রতিযোগিতায় ধরে রাখতে পেরেছে দেশটি। উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সাল থেকে জিই সিঙ্গাপুরে কাজ করছে। দেশটির শিল্প দ্বীপ হিসেবে উত্তরণের প্রসঙ্গ টেনে ডিন নিজ প্রতিষ্ঠানকে অগ্রদূত বলে উল্লেখ করেন। সিঙ্গাপুরের শিল্প দ্বীপ জোরং আইল্যান্ড এখন বিশ্বের বেশকিছু বৃহত্তম কেমিক্যাল ও তেল কোম্পানির প্রাণকেন্দ্র।
সিটিগ্রুপ ইনকরপোরেশনের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কান্ট্রি অফিসার মাইকেল জিংক বলেন, ‘তিনি (লি কুয়ান) সরকারের দায়িত্বে থাকাকালে যে মজবুত ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেছেন, তাতে করে আরো অনেক বছর সিঙ্গাপুর উন্নতির মধ্যে থাকবে।’ ১৯০২ সালে সিঙ্গাপুরে সিটিব্যাংকের যাত্রা। বর্তমানে এ নগররাষ্ট্রে ব্যাংকটিতে মোট ১০ হাজার লোক কর্মরত রয়েছে।
সুদীর্ঘ ৩১ বছর সিঙ্গাপুরকে নেতৃত্ব দিয়েছেন লি। এ সময়ে সিঙ্গাপুরকে তিনি বিশ্বের অন্যতম আধুনিক দেশে পরিণত করেন। বেশ কয়েক দিন নিউমোনিয়ায় ভোগে গত সোমবার ৯১ বছর বয়সে এই মহানয়কের প্রস্থান ঘটে। লির মূলনীতির মধ্যে অন্যতম ছিল স্বচ্ছ ও দক্ষ সরকার, ব্যবসাবান্ধব অর্থনৈতিক নীতিমালা এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক সামাজিক অবস্থা সৃষ্টি। এসব মূলমন্ত্রের বশেই ১৯৫৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর বিশ্বের অনেক প্রথম সারির কোম্পানিই সিঙ্গাপুরে কাজ শুরু করে। শুধু তাই নয়, মাত্র এক প্রজন্মের ব্যবধানে বিশ্বের তৃতীয় সারির অবস্থান থেকে নিজ দেশের নাগরিকদের জীবনমান প্রথম কাতারে নিয়ে আসেন এই রাষ্ট্রনায়ক।
মার্কিন ম্যানুফ্যাকচারিং জায়ান্ট হিউলেট প্যাকার্ড, বিনিয়োগ ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান চেজ অ্যান্ড কোম্পানি, মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো বিশ্বসেরা কোম্পানির যে জোর উপস্থিতি সিঙ্গাপুরে, সেটিও কিন্তু লির কল্যাণেই। লি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে সিঙ্গাপুরের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩০ গুণ। ১৯৬০ সালে তার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশটির মাথাপিছু আয় ছিল ৪২৮ ডলার, আর ১৯৯০ সালে দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার আগে তিনি তা ১২ হাজার ৭৬৬ ডলারে উন্নীত করেন। লির যোগ্য উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে গত বছর দেশটির মাথাপিছু জিডিপি আরো বেড়ে ৫৬ হাজার ২৮৪ ডলারে পৌঁছেছে। এ হার শুধু যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায়ই বেশি নয়, বিশ্বের


মধ্যেও শীর্ষস্থানীয়।


কিন্তু এর পরও কিছু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দেশটি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে রফতানিনির্ভর দেশটি বর্তমানে শ্লথ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে। পাশাপাশি সস্তা বিদেশী শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রচেষ্টার কারণেও কিছু সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে দেশটিকে। ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি) এখন উত্পাদনশীলতার প্রবৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি আবাসন বাজারে আকাশছোঁয়া দামও কমাতে চাইছে।


বিশ্বের প্রথম সারির অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি অর্জনের অন্যতম চাবিকাঠি একই পরিমাণ সম্পদ ব্যবহার করে উত্পাদনশীলতার প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ। কিন্তু সিঙ্গাপুর এখন পর্যন্ত এ ধরনের কৌশল নিতে পারেনি, বরং এর পরিবর্তে তারা বিদেশী দক্ষ কর্মী ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল ছিল। আর এ বিষয়টিই স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি করছে।


ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের অধ্যাপক ও সিঙ্গাপুরের নাগরিক লিন্ডা লিম এ প্রসঙ্গে বলেন, অবশ্যম্ভাবীভাবে পূর্বের উন্নয়ন মডেলটি পরবর্তীতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সম্পদের ক্ষেত্রে নানা রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এর পরও দেশটি সেবা খাতে বৈশ্বিক একটি কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখতে পারবে।


প্রধানমন্ত্রী লুংও বুঝতে পারছেন সিঙ্গাপুরের সাধারণ মানুষ এখন বিদেশী কর্মীদের আধিক্যে বিরক্ত। এ অবস্থায় সিঙ্গাপুরের পথচলাকে আরো এগিয়ে নিতে লুং সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের বেশকিছু নীতি থেকে সরে এসেছেন।


স্থানীয় আইনি প্রতিষ্ঠান টিএসএমপির ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্টিফেন ইউয়েন থিও বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে লি সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন না। এর পরও তার প্রতি সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে গভীর শ্রদ্ধা ছিল। তিনি এখন আমাদের সঙ্গে নেই, এক্ষেত্রে অনেক কিছু পরিবর্তনেরই দাবি উঠতে পারে। কিন্তু পরিবর্তন যতই হোক, তার ব্যবসাবান্ধব নীতিমালার কোনো বিকল্প নেই।        —ইকোনমিক টাইমস অবলম্বনে
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71