বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
লেখিকা বিনোদিনী দাসীর ১৫৪তম জন্ম বার্ষিকী আজ
প্রকাশ: ০৯:০২ pm ১২-০২-২০১৭ হালনাগাদ: ১২:৩৪ am ১৩-০২-২০১৭
 
 
 


প্রতাপ চন্দ্র সাহা ||

মঞ্চাভিনেত্রী এবং লেখিকা বিনোদিনী দাসী (জন্মঃ- ১৮৬৩ - মৃত্যুঃ- ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪২)

১৮৭২এর ৭ই ডিসেম্বর ভুবন মোহন নিয়োগী, অর্ধেন্দু শেখর মুস্তাফি, গিরিশ চন্দ্র ঘোষ, প্রমুখের উদ্যোগে পথচলা শুরু করেছিল সাধারণ রঙ্গমঞ্চ, দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পন’ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। ৬ নম্বর বিডন স্ট্রীটে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাঙালির প্রথম থিয়েটার ‘ গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটার’। আর ঠিক দু বছর পরে ১৮৭৪এর ১২ই ডিসেম্বর গিরিশ চন্দ্রের হাত ধরে এগারো বছরের বালিকা বিনোদিনী প্রথম মঞ্চাবতরণ করলেন ‘শত্রুসংহার’ নাটকে একটি ছোট পার্শ্বচরিত্রে। তাঁর নামটিও হয়তো বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যেতো যদিনা তিনি তাঁর আত্মকথা লিখে যেতেন। ১৯১০ এ নাট্যমন্দির পত্রিকার বিনোদিনী তাঁর আত্মকথা লেখা শুরু করেন। দুবছর পরে ‘আমার কথা’ নামে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। বিনোদিনীর ‘আত্মকথা’র ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন গিরিশচন্দ্র, সেখানে তিনি স্বীকার করেছেন “তাহার সর্বতোমুখী প্রতিভার নিকট আমি সম্পূর্ণ ঋণী একথা স্বীকার করিতে আমি বাধ্য ...। অভিনয় করিতে করিতে সে তন্ময় হইয়া যাইত, আপন অস্তিত্ব ভুলিয়া এমন একটি অনির্বচনীয় পবিত্র ভাবে উদ্দীপ্ত হইয়া যাইত, সে সময় অভিনয় অভিনয় বলিয়া মনে হইত না, যেন সত্য ঘটনা বলিয়াই অনুভূত হইত”। বিনোদিনী ‘আমার কথা’য় লিখেছেন- “ইহা কেবল অভাগিনীর হৃদয়- জ্বালার ছায়া, পৃথিবীতে আমার কিছুই নেই শুধুই অনন্ত নিরাশা, শুধুই দুঃসময় প্রানের কাতরতা! কিন্তু তাহা শুনিবার লোক নাই। মনের ব্যাথা জানাইবার লোক জগতে নাই। কেন না আমি জগত মাঝে কলঙ্কিনী পতিতা। আমার আত্নীয় নাই, সমাজ নাই, বন্ধু নাই, বান্ধব নাই আমি ঘৃনিত বারনারী।”

তাঁর প্রথম অভিনয় ১২ বৎসর বয়সে ১৮৭৪ সালের ১২ ডিসেম্বর, আর ১২ বৎসর বাদে ১৮৮৭ সালের ১লা জানুয়ারী তার শেষ অভিনয়ের দিন স্টার রঙ্গমঞ্চে অভিনীত নাটকের সংখ্যা ৮১টি।

সেকালের কয়েকটি প্রসিদ্ধ নাটকের বিনোদিনী অভিনীত চরিত্র এই রকম –
সরোজিনী নাম ভূমিকা
দুর্গেশ নন্দিনী আয়েষা
মেঘনাদ বধ প্রমীলা
মৃণালিনী মনোরমা
কপাল কুন্ডলা কপাল কুন্ডলা
বিষবৃক্ষ কুন্দনন্দিনী
বুড়ো শালিকের ফতি
ঘাড়ে রোঁ 
 শরৎ-সরোজিনী সরোজিনী
রাবণবধ সীতা
দক্ষযজ্ঞ সতী
নল-দময়ন্তী দময়ন্তী
শ্রীবৎস চিন্তা চিন্তা
প্রহ্লাদ চরিত্র প্রহ্লাদ
চৈতন্যলীলা নিমাই
বিল্বমঙ্গল চিন্তামণি

বিনোদিনী তাঁর ১২বছরের নাট্যজীবনে চারটি মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন – গ্রেট ন্যাশানাল’ ‘বেঙ্গল থিয়েটার’, ‘ন্যাশনাল থিয়েটার’ ও ‘স্টার থিয়েটার’। ১৮৭৬এ কুখ্যাত নাট্যনিয়ন্ত্রণ আইন জারি হওয়ার পর ‘গ্রেট ন্যাশানাল’ বন্ধ হয়ে যায়, বিনোদিনী যোগ দেন বেঙ্গল থিয়েটারে। এখানে তাঁর অভিনয় শিক্ষক ছিলেন শরৎচন্দ্র ঘোষ। এখানে প্রায় দুবছরের অভিনয় জীবনে বিনোদিনী অনেক পরিণত হলেন , জটিল নারী চরিত্র রূপায়নে হয়ে উঠলেন অপরিহার্য। এখানে বিনোদিনী অভিনীত চরিত্রগুলি সেযুগের নাট্যাভিনয়ের মাইলফলক হয়ে গিয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্রের মৃণালিনীতে ‘মনোরমা’, ‘কপাল কুন্ডলা’, দূর্গেশ নন্দিনীর ‘আয়েষা’ ও ‘তিলোত্তমা’ মেঘনাদ বধ’এ ‘প্রমীলা’র মত জটিল চরিত্রের অভিনয়ে অসামান্য দক্ষতা দেখিয়েছিলেন। মৃণালিনীতে ‘মনোরমা’র জটিল চরিত্রটিকে বিনোদিনী কেমন বিশ্লেষণ করেছিলেন সেকথা আত্মকথায় লিখে গেছেন “একসঙ্গে বালিকা, প্রেমময়ী যুবতী, পরামর্শদাতা মন্ত্রী, অবশেষে পরম পবিত্র চিত্তে স্বামী সহ-মরণ অভিলাষিনী দৃঢ়চেতা এক রমণী”। বিনোদিনী তখন ১৪বছরের বালিকা। এমন বিশ্লেষণই বলে দেয় তাঁর অভিনয় প্রতিভার গভীরতা। স্বয়ং বঙ্কিমচন্দ্র মৃণালিনীর অভিনয় দেখে মন্তব্য করেছিলেন “আমি মনোরমার চিত্র পুস্তকেই লিখিয়াছিলাম, কখনো যে প্রত্যক্ষ করিব এমন আশা করি নাই। আজ বিনোদের অভিনয় দেখিয়া সে ভ্রম ঘুচিল”।

বেঙ্গল থিয়েটারে উনিশ মাস থাকার পর গিরিশচন্দ্র তাঁকে নিয়ে গেলেন ন্যাশানাল থিয়েটারে। সেখানে গিরিশ ছিলেন ম্যানেজার ও নাট্যশিক্ষক। এখানেই শুরু হ’ল বিনোদিনীর নাট্যশিক্ষার উচ্চ পাঠ। বস্তুত, গিরিশচন্দ্রের সংস্পর্শেই বিনোদিনীর অভিনয় সম্রাজ্ঞীতে উত্তরণ। গিরিশচন্দ্র স্বয়ং লিখেছেন “আমি মুক্তকন্ঠে বলিতেছি যে রঙ্গালয়ে বিনোদিনীর উৎকর্ষ আমার শিক্ষা অপেক্ষা তাহার নিজগুনে অধিক , সূর্যরশ্মিকে প্রতিফলিত করতে মণি খন্ডের প্রয়োজন”। বিনোদিনীর মত সহ-অভিনেত্রী না পেলে গিরিশ চন্দ্রের প্রবাদ প্রতীম নাট্যপ্রতিভার পূর্ণ ব্যাপ্তী ঘটতো না, একথা স্বয়ং গিরিশচন্দ্রও স্বীকার করে গেছেন। বিনোদিনীর ‘আত্মকথা’র ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন গিরিশচন্দ্র, সেখানে তিনি স্বীকার করেছেন “তাহার সর্বতোমুখী প্রতিভার নিকট আমি সম্পূর্ণ ঋণী একথা স্বীকার করিতে আমি বাধ্য ...। অভিনয় করিতে করিতে সে তন্ময় হইয়া যাইত, আপন অস্তিত্ব ভুলিয়া এমন একটি অনির্বচনীয় পবিত্র ভাবে উদ্দীপ্ত হইয়া যাইত, সে সময় অভিনয় ,অভিনয় বলিয়া মনে হইত না, যেন সত্য ঘটনা বলিয়াই অনুভূত হইত”।

বিনোদিনী তাঁর বারো বছরের অভিনয় জীবনের নয়বছরই কাটিয়েছেন গিরিশচন্দ্রের সংস্পর্শে, আর এই সময়কালেই তিনি অভিনয় দক্ষতার শিখর স্পর্শ করেছিলেন। সেকালীন বঙ্গ রঙ্গমঞ্চের শ্রেষ্ঠা অভিনেত্রী ছিলেন শুধু তাই নয়, বিনোদিনীর অভিনয় বাংলা থিয়েটারকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। সেকালের সমাজ নাট্যাভিনয়কে সম্মানের কাজ বলে মনে করতো না। সম্ভ্রান্ত মানুষজন থিয়েটার থেকে দূরেই থাকতেন। মঞ্চ থেকে সরে যাওয়ার দুবছর আগে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘চৈতন্যলীলা’ নাটকে নিমাই চরিত্রের অসামান্য অভিনয় থিয়েটারের সঙ্গে সেকালীন সমাজের ব্যবধানের বেড়া ভেঙ্গে দিয়েছিল। বিনোদিনীর অভিনয় দেখতে আসেন শ্রীরামকৃষ্ণ দেব। বিনোদিনীর নিমাই চরিত্র চিত্রন দেখে ভাববিহ্বল রামকৃষ্ণদেব বিনোদিনীর অভিনয়ের মধ্যে দেখতে পান ‘আসল আর নকল যেন এক’। থিয়েটারে পদার্পন করে ‘থিয়েটারে লোক শিক্ষে হয়’ বলে বার্তা দিলেন রামকৃষ্ণ দেব। ‘চৈতন্য লীলা’র নিমাই চরিত্রের অভিনয়ে তিনি কি তন্ময় সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন সেকথা বিনোদিনী নিজেই লিখে গিয়েছেন। গিরিশ রচনাবলীর ৩য় খন্ডের পরিশিষ্টে গিরিশচন্দ্র বিনোদিনীর কথা উদ্ধৃত করেছেন লিখছেন “চৈতন্য লীলা রিহার্শালের সময় অমৃতবাজার পত্রিকার এডিটর বৈষ্ণব চূড়ামণি শ্রীযুক্ত শিশির বাবু মহাশয় মাঝে মাঝে যাইতেন এবং আমার ন্যায় হীনা দ্বারা সেই দেব চরিত্র যতদূর সম্বব সুরুচি সংযুক্ত হইয়া অভিনয় হইতে পারে তাহার উপদেশ দিতেন, এবং বারবার বলিতেন আমি যেন সতত গৌর পাদপদ্ম হৃদয়ে চিন্তা করি। আমিও তাঁর কথামত মহাপ্রভুর পাদপদ্ম চিন্তা করিতাম ...। যেদিন ‘চৈতন্য লীলা’ প্রথম অভিনয় করি, তাহার আগের রাত্রে প্রায় সারা রাত্রি নিদ্রা যাই নাই; প্রাণের মধ্যে একটা আকুল উদবেগ যে কেমন করিয়া এই অকুল পাথারে কুল পাইব। প্রাতে উঠিয়া গঙ্গা স্নানে যাইলাম; পরে ১০৮ দুর্গানাম লিখিয়া তাঁহার চরণে ভিক্ষা করিলাম ... আমি যেন তাঁর কৃপা লাভ করি। ... আমি মনে মনে বুঝিতে পারিলাম যে ভগবান আমায় কৃপা করিতেছেন। কেননা সেই বাল্যলীলার সময় ‘রাধা বই আর নাইকো আমার, রাধা বলে বাজাই বাশি- বলিয়া গীত ধরিয়া যতই অগ্রসর হইতে লাগিলাম ততই যেন একটা শক্তিময় আলোক আমার হৃদয়কে পূর্ণ করিয়া তুলিতে লাগিল ...। শেষে সন্যাসী হইয়া সংকীর্তন কালে ‘হরি মন মজায়ে লুকালে কোথায় / আমি ভবে একা দাও হে দেখা প্রাণ সখা রাখো পায়’ এই গানটি গাহিবার সময়ের মনের ভাব আমি লিখিয়া জানাইতে পারিব না। আমার তখন মনে হইত যে আমি তো ভবে একা, কেহ তো আমার আপনার নাই! উন্মত্ত ভাবে সংকীর্তনে নাচিতাম, এক এক দিন হইত যে অভিনয়ের গুরুভার সইতে না পারিয়া মুর্ছিতা হইয়া পড়িতাম”।

এমন অন্যন্য অভিনয় প্রতিভায় শ্রীচৈতন্য দেব চরিত্রাভিনয়ের মধ্য দিয়ে বিনোদিনী গ্লানিহীন হতে চেয়েছিলেন। রামকৃষ্ণদেবের আশির্বাদে বিনোদিনীর কলুষমুক্তি ঘটলো আর বঙ্গ রঙ্গালয় থেকেও অশুচিতার বেড়া ভেঙ্গে দিলেন বিনোদিনী। বিনোদিনীর মঞ্চ ত্যাগের পর গিরিশচন্দ্রের মত মহা শক্তিধর নাট্য পরিচালকও ‘চৈতন্যলীলা’ আর মঞ্চস্থ করতে পারেন নি।

বারোবছরে আশিটি নাটকে নব্বইটিরও বেশি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বিনোদিনী। মেঘনাদ বোধ নাটকে ছটি চরিত্র অভিনয় করেছিলেন। এমনকি একই রাত্রে ‘চৈতন্য লীলায় নিমাই চরিত্রে অভিনয় করার পরই অন্য নাটকে সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মী চরিত্রে অভিনয় করতেন। বিনোদিনী তাঁর অভিনয় জীবনের প্রায় সবটাই কাটিয়েছিলেন গিরিশচন্দ্রের মত প্রতিভার সংস্পর্শে। তার আগে বিনোদিনীর প্রথম নাট্যশিক্ষক ছিলেন প্রতিভাবান নট অর্ধেন্দু শেখর মুস্তাফি। এইসব ঘটনা এবং গিরিশচন্দ্রের উচ্ছ্বাসই সাক্ষ্য দেয় বিনোদিনীর অন্যন্য নাট্যপ্রতিভা সম্পর্কে।

মাত্র ১২ বছরের অভিনয় জীবন ছিল বিনোদিনীর। ১৮৮৬’র ১লা জানুয়ারি মাত্র ২৪ বছর বয়সে ‘বেল্লিক বাজার’ নাটকে অভিনয়ের পর মঞ্চের সঙ্গে তাঁর সংস্রব চিরকালের জন্য ত্যাগ করেন। তখন তিনি অভিনয় খ্যাতির চরম শিখরে। অথচ মঞ্চাভিনয় ত্যাগ করার পরও দীর্ঘ পঞ্চান্ন বছর জীবিত ছিলেন বিনোদিনী। গিরিশ চন্দ্র সহ সেকালে নাট্যরথীদের কেউই তাঁকে মঞ্চে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেননি। ১২ বছর অভিনয় জীবনে বিনোদিনী অভিনয় করেছিলেন ৮০টি নাটকে প্রায় ৯০টি চরিত্র। তাঁর সময়কালের সমস্ত মঞ্চসফল নাটকের প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিনোদিনী। বস্তুত, বিনোদিনী ভিন্ন আর কাউকেই সেইসব চরিত্রে ভাবা যেতোনা। স্বয়ং গিরিশচন্দ্র স্বীকার করেছেন যে, বিনোদিনী ভিন্ন তাঁর নাট্যপ্রতিভার পূর্ণ বিকাশ সম্ভব ছিলনা। মধুসূদন, দীনবন্ধু মিত্র, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, গিরিশচন্দ্র, অমৃতলাল বসু প্রমুখ সেকালের প্রধান নাট্যকারদের বিভিন্ন নাটকের প্রধান নারী চরিত্রে অসামান্য কৃতিত্বের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন বিনোদিনী।

১৮৮৬ তেই রামকৃষ্ণদেব এর তিরোধান ঘটে যা বিনোদিনীকেও গভীর ভাবে বিহ্বল করেছিল। ষ্টার থিয়েটারে ‘চৈতন্যলীলা’ নাটকের অভিনয় দেখে ভাব বিহবল রামকৃষ্ণদেব বিনোদিনীর মাথায় হাত রেখে আশির্বাদ করেছিলেন। হয়তো বা রামকৃষ্ণদেবের তিরোধান তাঁর থিয়েটার ত্যাগের আর একটি কার্যকারণ ছিল।

গিরিশচন্দ্র ঘোষ এক প্রসঙ্গে বলেছিলেন ‘দেহপট সনে নট সকলি হারায়’। কিন্তু বিনোদিনী মঞ্চত্যাগ করেছিলেন মাত্র ২৩ বছর বয়সে খ্যাতির শিখরে থেকে। বিস্ময়কর এই যে তাঁকে মঞ্চে ফিরিয়ে আনার প্রবল অনীহা ছিল সেকালের নাট্যরথীদের। গুর্মুখ রায় ষ্টার’এর মালিকানা হস্তান্তরিত করার পর সেকালের নাট্যরথীদের কাছে বিনোদিনীর প্রয়োজন বোধহয় ফুরিয়ে আসতে শুরু করেছিল। কেননা অতদিনে তাঁরা বিনোদিনীকে অবলম্বন করে থিয়েটারের পাকা বাড়ি করিয়ে নিয়েছেন, তার মালিকানাও পেয়ে গিয়েছেন! সুতরাং বিনোদিনীর মত শক্তিময়ী অভিনেত্রীর প্রবল উপস্থিতির অস্বস্তিটুকু মুছে দিতে তৎপর হলেন সেকালের নাট্যরথীরা। বিনোদিনী লিখে গেছেন “নানারূপ মন ভঙ্গ দ্বারা থিয়েটারের কার্য করা দুরূহ হইয়া উঠিল। যাঁহারা একসঙ্গে কার্য করিবার কালীন সমসাময়িক স্নেহময় ভ্রাতা, বন্ধু, আত্মীয়, সখা সঙ্গী ছিলেন, তাঁহারা ধনবান উন্নতিশীল অধ্যক্ষ হইলেন। বোধয় সেই কারণে অথবা আমারই অপরাধে দোষ হইতে লাগিল। কাজেই আমায় থিয়েটার হইতে অবসর লইতে হইল। প্রতিভা ও খ্যাতির শিখরে থেকেও একজন অভিনেত্রী আর অভিনয় করতে পারলেন না, সমাজ ও সেকালের নাট্যরথীদের অনীহার কারণে – এই যন্ত্রণা নিয়েই আরো পঞ্চান্ন বছর বেঁচে ছিলেন নাট্যসম্পর্কহীন বিনোদিনী। এমনকি বিনোদিনীর নামটিও হয়তো বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যেতো যদিনা বারাঙ্গনা থেকে মহিয়সী নারীতে রূপান্তরিত বিনোদিনী তাঁর আত্মকথা লিখে যেতেন। ১৯১০ এ নাট্যমন্দির পত্রিকার বিনোদিনী তাঁর আত্মকথা লেখা শুরু করেন। দুবছর পরে ‘আমার কথা’ নামে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

বিনোদিনী চেয়েছিলেন কন্যা শকুন্তলা লেখাপড়া শিখে অন্যরকম মানুষ হয়ে উঠুক। কিন্তু সেকালের সমাজপতিদের বাধায় শকুন্তলাকে কোন স্কুলে ভর্তি করাতে পারেননি বিনোদিনী। মাত্র ১৩ বছর বয়সে শকুন্তলার মৃত্যু হয়। শেষ উনিশটি বছর অতিবাহিত করলেন নিভৃতে, অনাদরে।

বিনোদিনীর ‘বাসনা’ কাব্যগ্রন্থের ‘স্মৃতি’ কবিতার একটি পংক্তি – স্মৃতি হ’তে বিস্মৃতিতে অধিক সন্তোষ’।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71