মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
মঙ্গলবার, ৭ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
লোহাগড়ায় মৎস্য আইন উপেক্ষা করে মাছ শিকার
প্রকাশ: ০৫:৫০ pm ২১-১২-২০১৭ হালনাগাদ: ০৫:৫০ pm ২১-১২-২০১৭
 
নড়াইল প্রতিনিধি:
 
 
 
 


নড়াইলের লোহাগড়ায় মধুমতি নদীতে কোন ভাবেই থামছে না আড়াআড়ি বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার।

গতবছর ১৯ নভেম্বর উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রামকান্তপুর এলাকায় মধুমতি নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ বেড়া উচ্ছেদ করেন তৎকালীন ইউএনও ও নির্বাহী হাকিম মোঃ সেলিম রেজা। এবছর ঠিক একই স্থানে পূর্বের ন্যায় নদীতে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করছেন অসাধু জেলেরা। সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

অবৈধভাবে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের ভুমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মৎস্য সংরক্ষণ আইনে বলা হয়েছে, নদীতে বাঁশের বেড়া স্থাপন করে পানি প্রবাহে বাঁধা দিয়ে মাছ শিকার সম্পুর্ণ বেআইনি। কিন্তু এ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নড়াইলের লোহাগড়ায় মধুমতি নদীতে বাঁশের বাঁধ দিয়ে অবাধে চলছে মৎস্য শিকার। স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের এবছর দৃশ্যমান কোন তৎপরতা দেখেনি এলাকার মানুষজন। ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে বিভিন্ন জাতের দেশী প্রজাতির মাছ। বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে মাছের বংশ বিস্তার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি জানলেও অদৃশ্য ইশারায় নিরব রয়েছেন। ফলে এলাকার অসাধু মৎস্য শিকারীরা সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মাছ নিধনে মেতে উঠেছেন।

বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রামকান্তপুর এলাকায় মধুমতি নদীর পাড় থেকে শুরু করে অন্তত ৮০০ ফুট লম্বা আড়াআড়ি ভাবে নদীর মাঝ বরাবর বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। বেড়ার প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ টি বাঁশ পোঁতা হয়েছে। বেড়ার সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে জাল পাতাসহ ৪টি নৌকা বাঁধা রয়েছে। একটি নৌকা নিয়ে দুজন জেলে জাটকা ইলিশ মাছ ছাড়ানোর কাজে ব্যাস্ত। এ সময় স্থানীরা অভিযোগ করে বলেন, ঐ বেড়ার কারনে নদীতে পন্যবাহী নৌযান চলাচলে ব্যাহত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামকান্তপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “টিভিতে দেখি যে জাটকা ইলিশ ধরলে জেল ও জরিমানা হয়, কিন্তু প্রায় এক মাসের অধিক সময় ধরে এই এলাকায় নদীতে কারেন্ট জাল, খেতা জাল এমনকি আড়াআড়ি ভাবে বেড়া দিয়ে প্রতিনিয়ত জেলেরা মাছ ধরলেও মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় নি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রনজিত কুমার বলেন, মৎস্য সংরক্ষণ আইনের ১৯৫০ সালের ৩ ধারা মোতাবেক এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগীতা নিয়ে আমরা অতি দ্রুত বেড়া উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব”। ইতোমধ্যে জেলেদের বাঁধ ওঠানোর জন্য নোটিশ জারি করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই বাঁধ উচ্ছেদ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) এম.এম. আরাফাত হোসেন বলেন, নদীতে এভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার সম্পুর্ণ অবৈধ। এ বিষয়ে আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আর/এসএম

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71