বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
শক্তিশালী হচ্ছে ইউরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার
প্রকাশ: ১০:২৫ pm ২৫-০৩-২০১৫ হালনাগাদ: ১০:২৫ pm ২৫-০৩-২০১৫
 
 
 


দীর্ঘ সময় নিশ্চলতায় থাকার পর অবশেষে ইউরোজোনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পক্ষে বেশকিছু শক্তিশালী প্রমাণ হাজির হয়েছে। পারচেজিং ম্যানেজারদের ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপ থেকে দেখা যাচ্ছে, ২০১১ সালের পর এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রম এখন সর্বোচ্চ গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
চলতি মাসে মারকিটের তৈরি পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্সটির (পিএমআই) অবস্থান ছিল ৫৪ দশমিক ১ পয়েন্টে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৫৩ দশমিক ৩ পয়েন্ট। সূচকটির ৫০ পয়েন্টের ওপর অবস্থানকে সম্প্রসারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সূচকটি বেশকিছু ইতিবাচক প্রমাণ নিয়ে এসেছে, যার মাধ্যমে ইউরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে এখন আশাবাদী হওয়া যাবে। এ মুদ্রাব্লকটির আটটি দেশে প্রায় পাঁচ হাজার পারচেজিং ম্যানেজারের ওপর জরিপ চালিয়ে মারকিট সূচকটি তৈরি করেছে। গত মাসে ব্যবসায় কার্যক্রম কতটুকু বেড়েছে বা কমেছে, তা নিয়েই তাদের প্রশ্ন করা হয়। পাশাপাশি কর্মসংস্থান, পণ্যমূল্য ও নতুন ক্রয়াদেশ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।
আগামী মাসগুলোয় নতুন ক্রয়াদেশের পরিমাণ নিয়ে ব্যবস্থাপকরা বেশ ইতিবাচক উত্তর দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে এ নিয়ে পিএমআইয়ের অবস্থান ৫২ দশমিক ৫ পয়েন্টের পর মার্চে তা ৫৪ পয়েন্টে উঠেছে। গত চার বছরের মধ্যে এ খাতে সূচকটির এটাই সর্বোচ্চ অবস্থান।
অন্যদিকে দুর্বল ইউরোতেও লাভবান হচ্ছে এ অঞ্চলের অর্থনীতি। গত বছরের তুলনায় ডলারের বিপরীতে ইউরোর মান এখনো প্রায় ২০ শতাংশ কম আছে। ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) প্রেসিডেন্ট মারিও দ্রাঘি দাবি করেছেন দুর্বল ইউরো, তেলের নিম্নমুখী দাম ও ইসিবির নেয়া আর্থিক প্রণোদনা কার্যক্রমের কারণে এ অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি জোরদার হয়েছে। বলা যায়, পিএমআইয়ের সূচকের দ্রাঘির সে দাবির সত্যতা প্রতিফলিত হয়েছে।
কারখানা পর্যায়ে কার্যক্রম নিয়ে আলাদা একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি মাসে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি জার্মানির কারখানা কার্যক্রম এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। বিশ্লেষকরা, এ ঊর্ধ্বগতির জন্য দুর্বল ইউরোকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ডলারের বিপরীতে ইউরোর মান পতনে এরই মধ্যে ইউরো অঞ্চলে মূল্যসংকোচনের ঝুঁকি অনেকটা দূরীভূত হয়েছে। বিশেষ করে কাঁচামালের মূল্য এ সময়ে গত বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে। মাইনাস শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি থাকায় ইউরো অঞ্চলের জন্য এ মূল্যবৃদ্ধির খবর বেশ উত্সাহজনক। ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় দুই বছর ধরে পিছিয়ে আছে এ অঞ্চলের মূল্যস্ফীতি।
তেলের মূল্যপতনের পরিপ্রেক্ষিতেই এ অঞ্চলের মূল্যস্ফীতি নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। তবে দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, খাদ্য ও জ্বালানি মূল্য বাদে কোর মূল্যস্ফীতি এখন রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, ইউরো অঞ্চলে সার্বিকভাবে চাহিদা এখনো দুর্বল রয়ে আছে।
তবে সবচেয়ে দুশ্চিন্তা আছে কর্মসংস্থানের হারে। অঞ্চলটির বেকারত্বের হার এখনো উদ্বেগজনকভাবে বেশ উচ্চ মাত্রায় ১১ দশমিক ২ শতাংশে অব্যাহত রয়েছে। তবে কয়েক মাস ধরে বেকারত্ব কিছুটা নিম্নমুখী রয়েছে এবং পিএমআই তথ্য জানাচ্ছে, আগামী মাসগুলোয় এ গতি বেগবান হতে পারে।
আলাদা একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, কর্মসংস্থানের হার ফেব্রুয়ারিতে ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে মার্চে ৫১ দশমিক ৮তে উন্নীত হয়েছে। ২০১১ সালের আগস্টের পর এটাই সর্বোচ্চ। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, পুনরুদ্ধার নিয়ে ইউরোপের ব্যবসায়ীরা এখন আশাবাদী হতে শুরু করেছেন, যার কারণে তারা অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ দিচ্ছেন।
এটি নিঃসন্দেহে ভালো খবর হলেও অচিরেই বেকারত্বের হার দ্রুতগতিতে কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তুলনায় ইউরো অঞ্চলের অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এখনো বেশ দুর্বল, দুটো দেশেই বেকারত্বের হার ইউরোপের তুলনায় অর্ধেক। আরো কর্মী নিয়োগে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে হলে সার্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতিকে অবশ্যই আরো দ্রুত বেগে বাড়াতে হবে।
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71