সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
শতফুল ফুটতে দাও
প্রকাশ: ০৮:৪০ pm ১৫-১০-২০১৫ হালনাগাদ: ০৮:৪০ pm ১৫-১০-২০১৫
 
 
 


ঢাকা: কিছুদিন আগে ঢাকায় ইতালীয় নাগরিক খুন হলেন। তারপর রংপুরে জাপানি নাগরিক। মধ্যখানে ঢাকাতে একজন মৌলবি খুন এবং পাবনায় খ্রিস্টান পাদ্রির ওপর হামলা, ভাগ্য ভালো তিনি বেঁচে গেছেন। আর প্রতিদিন হিন্দুর ওপর আক্রমণ, সম্পত্তি দখল, মূর্তি ভাঙা বা নাবালিকা অপহরণ তো আছেই। এই সবগুলো ঘটনা কি একটির সঙ্গে আর একটি সম্পর্কযুক্ত? সংখ্যায় যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন, একটি মহল তাদের ভাষায় ‘ইহুদি-নাসারা’ মুক্ত দেশ চায়, নিহত বিদেশিরা সেই সংজ্ঞায় পড়েন। নিহত মৌলবি আহমদিয়া হলে ইক্যুয়েশন মিলে ভালো, কারণ কারা আহমদিয়াদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিদার তা সবার জানা। বিএনপি-জামায়াত আমলে এই দাবিটি যথেষ্ট সোচ্চার ছিল। দেশীয় পাদ্রি বা হিন্দুদের ওপর আক্রমণ দেশ থেকে অমুসলিমদের বিতাড়ন প্রক্রিয়ার অংশ যা সবার জানা কথা। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, এ সব ঘটনার পেছনে কি তারাই যারা বাংলাদেশকে একটি ‘পিওর ইসলামিক’ অথচ ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে চায় বা এই প্রক্রিয়ায় সরকারের পতন ঘটাতে চায়? ব্লুগার হত্যার কথা না-ই বা তুললাম।

মিডিয়ায় এসেছে বিচার না হওয়া দেশের মধ্যে বাংলাদেশ বারো নম্বরে। অনেকেই এর অর্থ করবেন, দেশে বিচার নেই, বা আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি ততটা সুবিধজনক নয়। আমাদের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার পর সবাই আশান্বিত হয়েছিলেন, এ জন্য নয় যে তার বদৌলতে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রাতারাতি পাল্টে যাবে, বরং সবার খুশির কারণ ছিল, তিনি কথা কম বলেন! সেই তিনিও হঠাৎ করেই বলে বসলেন, দেশে আইএস নেই। প্রায় একই সময়ে ঢাকায় বসেই মার্কিন রাষ্ট্রদূত বললেন, আইএসের বিরুদ্ধে সংগ্রামে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থাকবে। আইএস না থাকলে ফাইটটি হবে কোত্থেকে বা যুক্তরাষ্ট্রই বা পাশে থাকবে কী করে? মধ্যখান থেকে আর এক উপদেষ্টা বলে বসলেন, ‘উনি আলু ব্যবসায়ী, জাপানি নন’! সদ্য মন্ত্রী মুহাম্মদ নাসিম বললেন, সংখ্যালঘুর ওপর আক্রমণ বিচ্ছিন্ন ঘটনা। মন্ত্রী মুহাম্মদ নাসিম চৌদ্দ দলের সংখ্যালঘু সেলের প্রধান এবং গত রোববার ওই সেলের সঙ্গে ঐক্য পরিষদের বৈঠক ছিল। বৈঠকের কোনো নিউজ চোখে পড়েনি তবে চুয়াল্লিশ বছর ধরে সংখ্যালঘুর ওপর যে অত্যাচার চলছে তা যদি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়, তবে বৈঠকের রেজাল্ট বোঝার খুব একটা প্রয়োজনও নেই। যাই হোক, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা একটু কম কথা বললে ভালো হয়।

এদিকে খোদ সিরিয়ায় আইএসের অবস্থা এখন বেগতিক। পুতিন যেভাবে আইএসের পরোক্ষ যুদ্ধকে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে পরিণত করে ফেলছেন, তাতে মনে হয়, আইএস জুজুর দিন শেষ। আসাদ টিকে যাচ্ছেন। ওবামা ক্রিমিয়ার পর পুতিনের কাছে আর একবার ধরাশায়ী হচ্ছেন। ইয়েমেনে সৌদি বোমা হামলার অবসান হচ্ছে অথবা তুরস্কের সাম্রাজ্য বৃদ্ধির স্বপ্নভঙ্গ হতে যাচ্ছে। কিন্তু এই রাশিয়া সোভিয়েত ইউনিয়ন নয়, এই যুদ্ধ তেলের দখল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর এতে খুশি বা বেজার হওয়ার কোনো কারণ নেই! ঠিক এ সময়েই খবর এলো চীনও সিরিয়ায় যুদ্ধ বিমান পাঠাচ্ছে রাশিয়ার পক্ষে! কী জানি আমাদের বামরা না আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন যে, চীন-রাশিয়া ভাই-ভাই! মস্কোয় বা বেজিংয়ে বৃষ্টি হলে যারা একদা ঢাকায় ছাতি ধরতেন, তারা এখনো এতটাই রোমান্টিক যে, এক সময়ের ডাকসুর ভিপি কমিউনিস্ট নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সদ্য নিউইয়র্ক সফরে আওয়ামী লীগের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করতে একটুও ভুল করেননি। ভাবটা এমন যে, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে পারলে পুতিনের বংশধর কেউ ঢাকায় ক্ষমতাসীন হবেন?

আমি বলছি না যে, আওয়ামী লীগের সমালোচনা করা যাবে না, আমার এ লেখাটিও মন্ত্রীদের সমলোচনামুখর কিন্তু তারপরও কথা থাকে, আওয়ামী লীগের বিকল্প বিএনপি নয়! যাহোক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে আইএস নেই বলে যে মন্তব্য করেছেন, এক অর্থে বা আরো কিছুদিন পর তা সত্য হলেও হতে পারে। কারণ ভুঁইফোড় আইএস হয়তো কোথাও থাকবে না। কিন্তু আইএস, বোকা হারেম বা আলকায়দার বর্বরতা মানুষ কিছুকাল মনে রাখবে। বাংলাদেশে এমন ধর্মভিত্তিক বর্বর গোষ্ঠীর উত্থানের কোনো কারণ ছিল না কিন্তু পঁচাত্তরের পটপরিবর্তন সেটাকে সম্ভব করেছে। তদুপরি প্রগতিশীল নেতাদের কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড বা ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থ এটি এগিয়ে দিয়েছে। ক্ষমতার স্বার্থে আমরা বারবার এদের সঙ্গে আপস করেছি। সদলবলে মৌলবাদকে তোষণ করেছি। মোহাম্মদ নাসিম বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপরোক্ত বক্তব্যও পরোক্ষভাবে মৌলবাদেরকেই উৎসাহিত করে। আমাদের বুঝতে হবে, হেফাজতের মতো ‘ফ্ল্যাশ আউট’-ই শেষ কথা, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ নয়। কে জানে সিরিয়ায় গিয়ে রাশিয়া জড়িয়ে পড়বে কিনা!

পৃথিবীর সব সভ্য দেশই গণতান্ত্রিক এবং ধর্মীয় উন্মাদনামুক্ত। বাংলাদেশকে টিকে থাকতে হলেও একই পথ অনুসরণ করতে হবে। ধর্মধর্ম করে দেশ এগুবে না। অন্যদের ঝেটিয়ে বিদায় করেও ভালো থাকা যাবে না। রাষ্ট্রকে এর দায়িত্ব পালন করতে হবে। রাষ্ট্রের দায় জনসেবা, একটি সম্প্রদায়ের সেবা নয়। ভোটের কারণে একটু এদিক-ওদিক হতে পারে কিন্তু দেশের ভিত্তি বদল হতে পারে না। বর্তমান সরকারকে সন্ত্রাস দমনে যত প্রশংসা করা হোক না কেন তাদের আন্তরিকতা প্রশ্নাতীত নয়, কারণ আমরা ‘রিমেডি’ নিয়ে ব্যস্ত, ‘কিউর’ নয়। রোগ ভালো না হলে দেশে হত্যা, ষড়যন্ত্র, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস চলতেই থাকবে, কম আর বেশি। তাই দেশের রোগমুক্তি চাই এবং এর একমাত্র ওষুধ বাহাত্তরের সংবিধান। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বা ৫৭ ধারা দেশকে কখনই সভ্য করবে না। একটি সভ্য দেশের একমাত্র নীতি হওয়া উচিত, ‘শতফুল ফুটতে দাও’।

লেখক: শিতাংশু গুহ

এইবেলা ডটকম/এসবিএস
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71