রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮
রবিবার, ৭ই শ্রাবণ ১৪২৫
 
 
শতবর্ষী অমৃতা হালদারের কষ্ট লাঘবের কেউ নেই
প্রকাশ: ০১:৪৪ pm ১৫-০১-২০১৮ হালনাগাদ: ০১:৪৪ pm ১৫-০১-২০১৮
 
বরিশাল প্রতিনিধি
 
 
 
 


'আর কত বয়স অইলে মুই বয়স্ক ভাতা পামু ?' বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার শতবর্ষী অমৃতা হালদারের এ প্রশ্ন হৃদয়কে আন্দোলিত করে। স্বামী মনিন্দ্র হালদারকে হারিয়েছেন প্রায় দেড় যুগ আগে। স্বামীকে হারিয়ে তার দরিদ্র সংসারে দরিদ্রতা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। একমাত্র ছেলে সুখেন্দ্র হালদার শারীরিকভাবে এতটা অসুস্থ যে তার পক্ষে কোন কাজ করা সম্ভব নয়। ফলে নিরুপায় হয়ে স্বামীর ভিটা ছেড়ে অমৃতাকে ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে রাস্তায় নামতে হয়।
 
অমৃতা হালদার লঞ্চে ভিক্ষা করতে করতে বানারীপাড়া থেকে ঢাকায় চলে যান আবার ভিক্ষা করতে করতে এলাকায় ফিরে আসেন। রোদ, ঝড়, বৃষ্টি ও শীত উপেক্ষা করে পথে প্রান্তরে প্রতিদিন এভাবেই তার ভিক্ষা বৃত্তি চলে। তার ভিক্ষার চাল ও টাকায় অসুস্থ ছেলে, প্রতিবন্ধী নাতনি ও ছেলের বউ সহ ৪ সদস্যের দরিদ্র সংসার চলে। একদিন ভিক্ষা না করলে তার ঘরে উনুন জ্বলে না। অমৃতা হালদার তার ভিক্ষা বৃত্তিতে মাঝে মাঝে ৯ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী নাতনীকেও সঙ্গী করেন। স্বামীর ভিটা পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হারতা এলাকায় হলেও ৮ বছর ধরে তিনি বানারীপাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে জনৈক শাহ আলম সরদারের জীর্ণকার বাসায় মাত্র ৫শ' টাকায় ভাড়া থেকে ভিক্ষা করে সংসার চালান।
 
শুক্রবার বিকেলে পৌর শহরের উত্তরপাড়া বাজার এলাকায় বৃদ্ধা অমৃতা হালদারকে ভিক্ষা করতে দেখে তিনি বয়স্ক ভাতা পান কিনা প্রশ্ন করলে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে জানান- বয়স্ক ভাতা তো দূরের কথা শীত নিবারণের জন্য তার একটি কম্বলও নেই। নূন্যতম সরকারি কোন সাহায্যই তার ভাগ্যে জোটেনি। স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ প্রতিটি নির্বাচনে তিনি ভোট কেন্দ্রে ছুটে যান তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। প্রতিবার নির্বাচনের প্রাক্কালে ভাতা দেওয়া সহ নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্বাচনের পরে জনপ্রতিনিধিরা আর তার খোঁজ রাখেন না। তার ঐকান্তিক বিশ্বাস তার এ যাপিত জীবনের কাহিনী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানতে পারলে অবশ্যই তার পাশে দাঁড়িয়ে দুঃখ-দুর্দশা থেকে তাকে মুক্ত করে দিবেন। এদিকে তার এ করুণ কাহিনী শোনার মুহূর্তে সেখান থেকে পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল হেঁটে যাচ্ছিলেন। তাকে তার বাসার পাশে ওই বৃদ্ধা ভাড়া বাসায় বসবাস করে ভিক্ষাবৃত্তি করা ও ভাতা সহ নূন্যতম সরকারি কোন সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি ওই বৃদ্ধাকে তাৎক্ষণিক একটি কম্বল কিনে দিয়ে ভাতার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখবেন বলে জানান।
 
মেয়রের তাৎক্ষণিক এ মহানুভবতায় বৃদ্ধার সাময়িক শীত নিবারণের ব্যবস্থা হলেও সহৃদয়বান কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্র তার পাশে দাঁড়ালে পথে-প্রান্তরে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষাবৃত্তি করে তাকে আর জীবনের অন্তিম মুহূর্তে জীবন নামের রেল গাড়িটা চালাতে হবে না। আমরা কি পারি না বৃদ্ধার জীবনের শেষ দিনগুলোতে তাকে একটু সুখের পরশ দিতে ?

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71