শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
শত্রু তথা অর্পিত সম্পত্তির মারপ্যাচে সংখ্যালঘু থেকে সংখ্যাশুন্যের পথে হিন্দুরা
প্রকাশ: ০৯:৩৭ pm ১৪-১০-২০১৬ হালনাগাদ: ১২:৩২ am ১৫-১০-২০১৬
 
 
 


চন্দন সরকার ||

আগে এই অঞ্চলে বিভিন্ন ধর্মের মানুষদের সহ-অবস্থান ছিল খুব শান্তিপূর্ণ। ঔপনিবেশিক নীতি ‘বিভক্ত করো শাসন করো’ নীতিতে এই সহ-অবস্থানের সংস্কৃতি বিনষ্ট হয়ে যায়।

১৯৩০ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বকে প্রধান রাজনীতিক হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করা হয়। পূর্ব পাকিস্তান থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক বড় অংশ বিভিন্ন অত্যাচারের শিকার হয়ে দেশান্তরিত হয়েছে দুবার প্রথমে ১৯৪৭ সনের পরপর এবং ১৯৬৫ সালের কাছাকাছি সময়ে।

মজার ব্যাপার হল যুদ্ধ হয়েছিল কাশ্মীর নিয়ে ইন্ডিয়া–পাকিস্তানের মধ্যে আর নির্জাতিত হয়ে ভিটেমাটি হারা হন পুর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশের) হিন্দু। পাকিস্তান, হিন্দুদের এই সব সম্পত্তি ফেলে যাওয়ার জন্য অতিশয় যন্তবান ছিল।হিন্দুরা যাতে এ দেশ থেকে কোন সম্পত্তি না নিয়ে অসহায় ভাবে দেশ ত্যাগ করে তার ব্যাবস্থা করা।

পাকিস্তানের উদ্দেশ্য ছিল যাতে করে বাঙালীদের ঐক্য,জাতীয়তা বাদী চেতনা বিনষ্ট হয় এই অসৎ্ উদ্দেশ্যর জন্য অর্পিত আইন তৈ্রী করা হয়েছিল। লোক দেখানোভাবে বলা হয়েছিল-রাস্ট্র এই সম্পত্তি দেখাশুনার নাম করে নিজে আর্তসাৎ করেন সুকৌশলে।ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে উদ্দেশ্যমুলক ভাবে-যেমন দুই ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই যদি কোন কারনে অথবা ইচ্ছায় ইন্ড্রিয়ায় যায় তাহলে তার পুরো সম্পত্তি শত্রুসম্পত্তি, আর এ ব্যবস্থার সহায়ক রাস্ট্র সয়ং।সেই সময়ের হাইকোট এবং সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, এই আইন ব্যাপক অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ করে দিয়েছিল উদ্দেশ্যমুলক ভাবে।আর এই আইন ব্যবহত হতো সংখ্যালঘুদের উপর।

১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্টের পর সাপ্রদায়িক দাঙার ভয়ে অনেক মানুষ ভারতে জীবন বাঁচাতে চলে গিয়েছিল – এক-দুদিনের ব্যবধানে ফিরে এসেই দেখলেন তার সম্পত্তি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। সরকার একটি কমিটির মাধ্যমে পারিত্যক্ত সম্পত্তির দায় দায়িতব কোনো ব্যাক্তির আবেদনের ভিত্তিতে নিতে পারতেন। আর এই ধরনের সম্পত্তি প্রয়োজন মতো ইজারা বা ভাড়া দেওয়ার ক্ষমতা কমিটিকে দেউয়া থা্কতো। বিপুল সম্পত্তি, জমি এবং দালান কোঠার মালিক হিন্দু অভিজাত শ্রেণী ও জমিদাররা সহ মুলত এই আইনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নিঃসব হয়ে যায়।

১৯৫১ সালে পাকিস্তান সরকার এক আইন পাশ করেন যে সমস্ত হিন্দুরা বাড়ী ঘর ফেলে আদেশ থেকে ইন্ড্রিয়াতে চলে গেছে তাদের সম্পত্তি রক্ষনাবেক্ষন করার জন্য আকটি আইন , ১৯৬৪ সালের কাস্মীর ইস্যু নিয়ে এক সাম্প্রদায়িক দাজ্ঞা হয় আর এই দাঙার অজুহাতে পাকিস্তান সম্প্রদায়িক বিষবাস্পকে আরো ঘনীভুত করে এবং আরো নিঃসব করার জন্য “পুর্ব বাংলা ক্ষতিগ্রস্ত পুনবার্সন উধ্যআদেশ ১৯৬৪” জারী করেন এবং আর অভিঘাত ছিল পষ্ট- পুর্ব পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবাই তাদের সম্পত্তির উপর মালিকানার অধিকার, বিক্রি, দান উইলসহ হস্তান্তরের অধিকার থেকে অমানবিকভাবে বঞ্চিত হয়। এ উদ্দেশ্যে অশুভ বীজ আগেই বপনের কাজ অনেক আগে থেকেই পাকিস্তান বপন করে রেখেছিল।

১৯৬৫ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর ইন্ড্রিয়া- পাকিস্তান ্জুদ্ধ শুরু হয়, আর ১৯৬৫ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর শত্রু সম্পত্তি আইন নিবন্ধিত করে পাকিস্তান, আর ১৯৬৫ সালের ২২ই সেপ্টেম্বর তাশখন্দ ঘোষনার মধ্য দিয়ে ইন্দো –পাক যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। আর সাথে সাথে হিন্দুদের জন্য ঘটে যায় এক কালো আইন- শত্রু সম্পত্তি আইন- যার মারপ্যাচের মাধ্যমে হিন্দু আজ সংখ্যালঘু থেকে নিসব হবার পথে।

১৯৬৫ সালের শত্রু সম্পত্তির মুল আইন গুলো মধ্যে ছিলঃ

১। ভারতকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষনা করা হয় (যেহেতু একে অপরের সহিত যুদ্ধ)

২। ভারতের যে সমস্ত নাগরিক ভারতের করাৃতব/নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বসবাস করে অথচ তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সম্পত্তি, কোম্পানী, দালান কোঠা পাকিস্তানে অবস্থিত- সেগুলো নিয়ন্ত্রন নিতে হবে এবং শত্রু সম্পত্তি আইনের আওতায় নিতে হবে।(তার মানে কেউ যদি ইন্ড্রিয়ায় যেতো বা গেছে, তার সম্পত্তিই শত্রু সম্পত্তি আইনের আওতায় দখল করার মহোৎসব করা হয়)

৩। পাকিস্তান রাষ্ট্রের নিরাপত্তা যেন ব্যাহত না হয় অথবা কোনভাবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য ব্যবসা বানিজ্য, ভু সম্পত্তি নির্মিত দালান থেকে অর্জিত মুনাফা যাতে শত্রুদের (ইন্ড্রিয়ার) হাতে না যায়। এই যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান কতটা লাভ হয়েছিল আমার জানা নেই, তবে বাংলাদেশের হিন্দুরা যে নিঃসব হয়েছে সে বিষয় নিশ্চিত। 

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71