সোমবার, ২০ মে ২০১৯
সোমবার, ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
 
 
পাবনা নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল বন্ধ
শত শত বেকার শ্রমিক কর্মচারীদের মানবেতর জীবন যাপন
প্রকাশ: ০৩:৩৮ pm ৩০-০১-২০১৬ হালনাগাদ: ০৬:২৫ pm ০৮-০২-২০১৬
 
 
 


পল্লব হোড় পলাশ (পাবনা প্রতিনিধি): দেশের অন্যতম উত্তর বঙ্গের একমাত্র পেপার মিল র্দীঘ সাড়ে পাঁচ বছর যাবত বন্ধ থাকায় কয়েক হাজার শ্রমিক ও কর্মকর্তা বেকার ভাবে মানবেতর জীবন যাপন করেছে। বন্ধ হয়েছে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া।

দেশে ক্রমবর্ধমান কাগজের চাহিদা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে উত্তর বঙ্গের প্রথম জেলা পাবান এবং যোগাযোগের সুবিধা বিবেচনা কওে ১৯৬৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রায় ৪শত বিঘা জমির উপর নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন করে। এবং ১৯৬৭ সালে শুরু হয় এর নির্মাণ কাজ। দীর্ঘ ৯ বছর একটানা কাজ করে ১৯৭৫  সালে নির্মান কাজ শুরু হয় এবং  মার্চ মাস থেকে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। পেপার মিলের দৈনিক ৬০ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতা  এবং সাদা লেখার, ছাপার, বাদামী, মেনিফোল্ড, ব্লুম্যাচ কাগজ উৎপাদন করা হতো। এই পেপার মিলের কাগজের গুণগত মান এতই ভাল যে অল্প দিনের মধ্যে এই মিলের কাগজের সুখ্যাতিও ছড়িয়ে পরে সারা দেশে। এই মিলে ৯২৬ জন কর্মকতা, প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক এবং ডিলার ও সরবরাহকারীসহ ৩ হাজারের অধিক মানুষের কর্মসংস্থান ছিল ।

এছাড়া এদের সঙ্গে জড়িত তাদের পরিবারের অন্ততঃ ১৫ হাজার সদস্যের জীবিকা নির্বাহ হত । কিন্তু  ২০০২ সালের ৩০ নবেম্বর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বন্ধ নীতির আওতায় এনে পাকশী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল লোকসানী প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। মিল বন্ধের পর বেশ কিছু কর্মকর্তা সরকারের সংশিষ্ট বিভাগে আত্তীকরণ হলেও বেকার হয়ে পড়েন অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী এবং মিলের সকল শ্রমিক। এরা এখন পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ অবস্থায় এলাকার মুক্তিযোদ্ধা, পেশাজীবি, কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষ নর্থ বেঙ্গল পেপার মিল পুনরায় চালু করার জন্য সরকারের কাছে দাবী জানাতে থাকে।

মিলের সাথে সংশ্লিষ্ঠ জনাব কাদে বলেন, যেখানে সারাদিন মানুষের কলেরব লেগে থাকতো এজ সেই জায়গা শ্বশানে পরিনত হয়েছে। কর্মচারীরা এখন এলাকার সবচেয়ে দরিদ্র মানুয়ে পরিনত হয়েছে ।তারা এখন অনেকেই রিক্সা - ভ্যান চালিয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে।

মিল কর্মচারী আব্দুস সুবাহান বলেন, বিএনপি সরকার আমাদের পথের ফকির বানিয়ে দিয়েছে । মিলটি বন্ধ হওয়ার পর আমি এখন হাটে হাটে দোকানদারী করে সংসার চালাই। আর ছেলেটাকে লেখাপড়া বন্ধ করে ইপিজেডের ফ্যাক্টারিতে দিনমজুরের কাজ করে।

আর একজন মিল কর্মচারী মোকছেদ আলী জানান যা বেতন পেতাম তা দিয়ে সংসার ভালই চলতো। কখন ভাবীনি কোন দোকানদারের সাথে মেয়ে বিয়ে দিতে হবে। তাও দিয়েছি আনেক আশা করে এই সরকারকে ভোট দিয়েছিলাম ।কিন্তু সরকার এখন কিছুই করে নাই।

এলাকাবাসীর দাবি শিল্পায়নের যুগে এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পেপার মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু শ্রমিক কর্মচারিরাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। সরকার বর্তমানে দেশের কাগজের চাহিদা মেটাতে না পেরে বিদেশ থেকে কাগজ আমদানি করে। যাতে দেশের অনেক টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। পোপর মিলটি চালু হলে দেশের কাগজ চাহিদা কমতে  এং পরনির্ভরশীলতা কমবে।

মিলটির প্রশাসনিক কর্মকতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্ঠা করে পাওয়া যায়নি ।

এইবেলা ডটকম/প্রতিনিধি /এসবিএস
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71