বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
শরীরজুড়ে ক্ষত নিয়ে লোপা এখন হাসপাতালে
প্রকাশ: ১০:১৯ am ০৬-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ১০:১৯ am ০৬-০৬-২০১৭
 
 
 


শেরপুর :: শেরপুর সদরের দমদমা মহল্লার ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামের মেয়ে কলেজছাত্রী আশরাফুন্নাহার লোপার সঙ্গে প্রায় দেড় বছর আগে বিয়ে হয়েছিল পুলিশের এসআই শাহিনুল ইসলাম সুজনের। সবাই ভেবেছিল সুখের সংসারই বুঝি হবে তাদের; কিন্তু সেই ভুল ভেঙে দিতে বেশি সময় নেননি সুজন। যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে প্রায়ই শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন তিনি। কিন্তু মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বারবারই সুজনকে ক্ষমা করে দিতেন লোপার বাবা-মা। কিন্তু এবার আর তা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি যৌতুকের দাবিতে সুজনের অমানুষিক নির্যাতনে শরীরজুড়ে ক্ষত নিয়ে লোপা এখন শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মোবারক হোসেন জানিয়েছেন, নির্যাতনে লোপা ডান চোখ, কোমর, গলা, পিঠে ও পায়ে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন।

এ ঘটনায় গতকাল সোমবার লোপার মা সেলিনা আক্তার লাকী বাদী হয়ে সুজনসহ ৬ জনের নামে শ্রীবরদী থানায় মামলা একটি নির্যাতনের মামলা করেছেন। মামলার পর গতকাল দুপুরে লোপাকে হাসপাতালে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) আমিনুল ইসলাম। এ সময় সদর থানার ওসি নজরুল ইসলাম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আকতারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। একই সময় জেলা মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দও লোপাকে দেখতে হাসপাতালে যান।
শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্রী লোপা জানান, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই সুজন যৌতুকের দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। কয়েক মাস আগে শাহীন র‌্যাব থেকে বদলি হয়ে ঢাকায় মিন্টো রোডের গোয়েন্দা শাখায় যোগ দেন। ২০ মে তিনি চার দিনের ছুটিতে এসে তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান এবং ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। কিন্তু লোপা যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় ২২ মে রাতে সুজন তার ওপর নির্যাতন চালান। এতে লোপা গুরুতর আহত হন। ঘটনা শুনে লোপার মা-বাবা তার শ্বশুরবাড়িতে গেলে সুজন তাকে শেরপুর হাসপাতালে ভর্তির কথা বলে ঢাকার বাসায় নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে ফের যৌতুকের দাবিতে লোপার ওপর নির্যাতন চালান।

 

লোপা আরও জানান, সুজন বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তাকে বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে যেতেন। গত ৩ জুন সকালে সুজন ভুল করে তার মোবাইল ফোন বাসায় রেখে যান। এ সুযোগে লোপা তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনা জানান। পরে পরিবারের লোকজন ঢাকায় গিয়ে খিলগাঁও থানা পুলিশের সহায়তায় মধ্যরাতে লোপাকে উদ্ধার করেন। গত রোববার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 


লোপার মা অভিযোগ করেন, এর আগেও দু'বার সুজন তার মেয়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন করেছেন। দু'বারই কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়ায় এবং মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তারা সুজনকে ছাড় দিয়েছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে এসআই সুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

 

মামলা প্রসঙ্গে শ্রীবরদী থানার ওসি এস আলম বলেন, ওই গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71