বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি চান শান্তি বাওয়ালী
প্রকাশ: ০৯:০৪ pm ৩০-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৯:০৪ pm ৩০-০৪-২০১৮
 
সোহেল রানা 
 
 
 
 


রাজবাড়ী জেলার ৫টি উপজেলা বালিয়াকান্দি, পাংশা, কালুখালী, রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ এবং রাজবাড়ী, পাংশা ও গোয়ালন্দ পৌরসভা দলিত জনগোষ্ঠি মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

দেশ মাতৃকার জন্য তারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে অবস্থান নেন। বালিয়াকান্দি উপজেলার বালিয়াকান্দি ইউনিয়নের পুর্ব মৌকুড়ি, নবাবপুর ইউনিয়নের ত্রিলোকচাঁদপুর গ্রামে, ইসলামপুর ইউনিয়নের রামদিয়ায়, নারুয়া ইউনিয়নের নারুয়া গ্রামে, পাংশা উপজেলার মৌশালায়, মাগুরাডাঙ্গী গ্রামে, রুপিয়াট গ্রামে, মৌরাট গ্রামে, কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী গ্রামে, বোয়ালিয়া গ্রামে, পুর্ব কাউন্নাইর গ্রামে, কালুখালী গ্রামে, মৃগী গ্রামে, সাওরাইল গ্রামে। গোয়ালন্দ উপজেলার ভুপেন রবিদাসপাড়া গ্রামে, কাজীপাড়া পৌরসভা-৭। রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাধবলক্ষীকোল গ্রামে, পাচুরিয়া গ্রামসহ সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে দলিত সম্প্রদায়। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে সকল আন্দোলন সংগ্রামে এদের অবদান রয়েছে।

রাজবাড়ী জেলার ৫টি উপজেলার হরিজন জনগোষ্ঠির লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রেখেছেন। সরকার তাদের মুল্যায়ন করেছে। আগামীতেও এ মুল্যায়ন অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর দুই লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজবাড়ী জেলা সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের গাবলা গ্রামের মৃত বিদেশী বাওয়ালীর ছেলে মদন বাওয়ালীকে চোখের সামনে হত্যা করতে দেখে তার স্ত্রী শান্তি বাওয়ালী।

শান্তি বাওয়ালী জানান, ১৯৭১ সাল তখন ছিল জ্যৈষ্ঠ মাসের কোন এক মঙ্গলবার সকাল নয়টার সময় তার স্বামী মদন বাওয়ালী সকালের খাবার খেতে বসেছিল রান্না ঘরে। ঠিক ওই সময়ে এক দল পাকিস্তানি তাদের বাড়ির চার পাশ ঘিরে ফেলে, ঘর থেকে টেনে হিচড়ে বাইরে নিয়ে আসে, উঠানে থাকা বাসের খুঁটির সাথে বেধে চালায় অমানুষিক নির্যাতন। এরপর নিয়ে যায় পার্শ্ববর্তী দাস বাড়িতে। সেখানে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। শান্তি বাওয়ালী আরো জানান, দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার ৪৬ বছর পার হলেও আমার স্বামীর ব্যাপারে কোন সরকারী সংস্থা বা কেউ কোন খোঁজ খবর নেয়নি। অথচ আমার ছেলে মেয়েরা তার বাবার মুক্তিযুদ্ধ কালীন আত্মবলিদানকে অহংকার বলে মনে করে।

শান্তি বাওয়ালীর ছেলে রতন বাওয়ালী জানান, আমার বাবাকে ওরা নির্মম ভাবে হত্যা করেছে তখন আমার বয়স আট নয় বছর, মনে পরে বাবার চিৎকারের কথা। এতদিন হয়ে গেলেও কেউ আমাদের কোন খোঁজ খবর নেয়নি, এখন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবী আমার শহীদ বাবার নামটি ৭১ এর শহীদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত একজন মুক্তিযোদ্ধার সম-মর্যাদায় রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করবেন।


বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71