শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
শাপগ্রস্ত গন্ধর্বকুমার কবন্ধের গা ছমছমে ঘটনা
প্রকাশ: ০৮:৩৬ pm ০২-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৮:৩৬ pm ০২-০৪-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


আমাদের শৈশবে গা ছমছমে গল্পের মধ্যে থাকতো কবন্ধ কাহিনী| এখনকার শিশুরা হয়তো এই নাম শোনেনি| আমরা কিন্তু শুনলেই মনে মনে একটা অবয়ব কল্পনা করতাম‚ তারপর নিজের ভাবনায় নিজেই ত্রস্ত হতাম| 

ইতিহাসের পাতায় কণিষ্কর মূর্তি দেখে আরও জাল বুনতাম মনে মনে| এই কবন্ধও কিন্তু পৌরাণিক চরিত্র| পরে তা মুখে মুখে চলে আসে লোককথায়| কবন্ধ আসলে এক গন্ধর্ব কুমার| অভিশাপে তাঁর রূপ চলে গিয়েছিল| রামায়ণ‚ মহাভারত দুটি মহাকাব্যেই তাঁর উল্লেখ আছে| উল্লেখ আছে অন্যান্য প্রাচীন উৎসেও|

গন্ধর্ব অবস্থায় তাঁর নাম ছিল বিশ্ববসু বা দানু| মহাভারতে আছে‚ তিনি পাহাড়ের মতো বিশাল‚ মেঘের মতো কালো‚ তীক্ষ্ণ লোমে ভর্তি দেহ‚ বজ্রের মতো নির্ঘোষ‚ তাঁর উদরে একটি চোখ ছিল| বিশাল দন্তরাজির ফাঁকে ঝুলে থাকত লকলকে জিহ্বা| রামায়ণেও প্রায় একই| সেখানে তাঁর চোখ আছে বক্ষস্থলে| উদরে মুখগহ্বর| নরভোজী কবন্ধের মাথাও নেই| পা নেই| 

কবন্ধকে কে অভিশাপ দিয়েছিলেন তা নিয়ে নানা মুনির‚ নানা মত| কোথাও বলা হয়েছে তাঁকে অভিশাপ দিয়েছিলেন অষ্টাবক্র মুনি| কারণ তাঁর কদর্য চেহারা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছিলেন বিশ্ববসু| কোথাও অভিশাপ দিয়েছিলেন ব্রহ্মা‚ কোথাও আবার দেবরাজ ইন্দ্র‚ কোথাও বা দুর্বাসা মুনি| কিন্তু শাপমুক্তির একমাত্র উপায় বিষ্ণুর অবতার রামচন্দ্রের আশীর্বাদে|

রামায়ণে আছে‚ রামচন্দ্র ও লক্ষ্মণ পাগলের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছেন সীতাকে| রাবণের বিরুদ্ধে সমরে সামরিক বাহিনী গঠন করতে চাইছেন| একদিন দণ্ডকারণ্যের গভীরে কবন্ধ দুই বিশাল হাত প্রসারিত করে তাঁদের ধরলেন| এক হাতে রাম‚ অন্য হাতে লক্ষ্মণকে নিয়ে মুখগহ্বরের কাছে নিয়ে এলেন| বললেন ওঁদের দিয়েই উদরপূর্তি করবেন| তাঁর সমস্ত শক্তি সঞ্চিত ছিল দুই হাতে| কোষ থেকে তরবারি বের করে বীভৎসদর্শন কবন্ধের দুই বাহু ছেদ করলেন রাম ও লক্ষ্মণ| ভূপতিত হলেন কবন্ধ| মৃত্যু আসন্ন জেনে তিনি অনুরোধ করলেন যেন রামচন্দ্র ও রামানুজ তাঁর সৎকার করেন| স্বয়ং বিষ্ণু এসে তাঁকে শাপমুক্ত করলেন জেনে শান্তিতে চক্ষু নিমীলিত করলেন কবন্ধরূপী গন্ধর্ব|

তাঁর দেহের অন্ত্যেষ্টি করতেই জ্বলন্ত চিতা থেকে আবির্ভূত হলেন গন্ধর্ব বিশ্ববসু| রাম-লক্ষ্মণকে প্রণাম করে বললেন‚ বিপদগ্রস্ত সুগ্রীবকে সাহায্য করতে| বালির বিরুদ্ধে সুগ্রীব জয়ী হলে সুবিশাল বানরসেনা দিয়ে তিনি সাহায্য করবেন শ্রীরামচন্দ্রকে| যাতে তিনি স্বর্ণলঙ্কা থেকে উদ্ধার করতে পারেন সীতাকে| সুগ্রীব তখন রাজ্যচ্যুত হয়ে আত্মগোপন করেছিলেন পম্পা সরোবরের পাশে এক গুহায়| সেই গুহার পথনির্দেশও শ্রীরামচন্দ্রকে বলে দেন গন্ধর্ব বিশ্ববসু| এরপর তিনি পুষ্পরথে আরূঢ় হয়ে স্বর্গারোহণ করলেন| অনুজ লক্ষ্মণকে নিয়ে সুগ্রীবের সন্ধানে অগ্রসর হলেন শ্রীরামচন্দ্র| 


আরপি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71