শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
শাহজাদপুরে ডায়েরিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত পাঁচ শতাধিক শিশু
প্রকাশ: ০২:৩৬ pm ২৬-১১-২০১৭ হালনাগাদ: ০২:৩৬ pm ২৬-১১-২০১৭
 
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
 
 
 
 


সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় শীতের প্রকপ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উপজেলার সর্বত্র শিশুদের মাঝে ব্যাপক হারে ডায়েরিয়া ও নিউমোনিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। 

গত ২ দিনে প্রায় ৫ শত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৩ শত রোগী বাড়ি ফিরে গেছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় অর্ধশত রোগীকে সিরাজগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাঁকি দেড় শত রোগী শাহজাদপুর শিশু হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছে। সিট সংকুলান না হওয়ায় এ সব রোগীদের বেশির ভাগ রোগীকেই মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। 

হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, এ বছর শীতের শুরুতেই রোগীর সংখ্যা বিগত ৫ বছরের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। প্রতিদিন হাসপাতাল গুলোতে শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে ভিড় জমানোর ফলে চিকিৎসক ও নার্সদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সিট না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় ফিরে যাওয়া রোগীদের অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদেরকে আউট ডোড়ে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। 

এ দিকে শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের উচ্চমাত্রার এনটিবায়টিক ইনজেকশনেও কাজ না হওয়ায় এ সব শিশু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অভিভাবকদের ঢাকা,রাজশাহী ও বগুড়ার হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। এমন অবস্থা এখন নিত্য দিনের। 

শাহজাদপুর শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ মোঃ খালিদ হোসেন জানান , ঋতু পরিবর্তনের ফলে শীতের তীব্রতা ও প্রকপ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে শাহজাদপুর উপজেলার সর্বত্র শিশুরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে শাহজাদপুরের হাসপাতাল গুলোতে হঠাৎ করেই শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে। এতে হাসপাতাল গুলোতে বেড সংকুলান হচ্ছেনা। তাই বেডের অভাবে ডায়েরিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীদের হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। 

খবর নিয়ে জানা গেছে , শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও এই একই অবস্থা বিরাজ করছে। শাহজাদপুর উপজেলা কমপ্লেক্সটি উপজেলা সদর থেকে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দূরে  হওয়ায়  ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের সেখানে চিকিৎসা নিতে যাওয়া কষ্ট সাধ্য হওয়ায় দ্রুত চিকিৎসা পেতে রোগীর স্বজনরা শাহজাদপুর সদরে অবস্থিত শিশু হাসপাতালে নিজ খরচে রোগীকে নিয়ে যাওয়ায় এখানে রোগীর চাপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চেয়ে অনেক বেশি বলে জানা গেছে।

এ দিকে উপজেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের শাহজাদপুর সদর থেকে সাড়ে চার কিলোমিটার দূরে পোতাজিয়ায় অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ বেডের মধ্যে ১০ বেড উপজেলা সদরের শিশু ও মাতৃসদন হাসপাতালের তৃতীয় তলায় স্থাপন করা হয়েছে। এখানে সরকারি ভাবে বিনা খরচে চিকিৎসা সেবা দেয়ার কথা তাকলেও অজ্ঞাত কারণে চালুর কিছুদিন পর এ ১০ শয্যার  হাসপাতালটি জনবল সংকট দেখিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। আর শাহজাদপুর সদরে অবস্থিত স্বাস্থ্য বিভাগের চালু কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে সেখানে ওই কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম হিসাবে  শুধু মাত্র আউট ডোরের রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জুবাইদা মেহের নাজ জানান,  জনবল সংকটের কারণে শাহজাদপুর সদরে শিশু হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ১০ শয্যার হাসপতালটি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সেখানে আউট ডোরে  চিকিৎসার পাশাপাশি বিনা মূল্যে ওষুধ দেয়া হচ্ছে। 

তিনি আরো জানান, শাহজাদপুর পৌর এলাকায় ২০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতালের কাজ সম্পন্ন হলে শাহজাদপুরে সরকারি পর্যায়ে আরো উন্নত সেবা প্রদান করা যাবে। 

এ ব্যাপরে শিশু হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হাফিজ রেজা জানান, শাহজাদপুর পৌর সদরে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র (কমিউনিটি ক্লিনিক) থাকলেও সেটি বন্ধ করে তাদের হাসপাতালের পুরো তৃতীয় তলার সব কটি রুম অযৌতিক ভাবে দখল করে ওই কমিউনিটি ক্লিনিক এখানে চালু রাখায় এ শিশু হাসপাতালে রোগীদের সঠিক ভাবে চিকিৎসা দেয়া কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। কিন্তু আমরা নিরুপায় হয়ে তাদের এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারছিনা।

তিনি আরো জানান, এ কারণে বেডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে তারা বাধ্য হচ্ছেন। তিনি আরো জানান, ২০ বেডের এ হাসপাতালটি রোগীদের ঠাসাঠাসি করে রাখতে হচ্ছে । কোন কোন সময় বেডের অভাবে রোগীদের বারান্দায় অথবা মেঝেতে রাখতে হচ্ছে। 

এ দিকে রবিবার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশু হাসপাতালে এ দিন বহিঃ বিভাগেই প্রায় তিন শত শিশুকে ঠান্ডা জনিত নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন প্রায় ২০/২৫ জন করে শিশু ডায়েরিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এখানে ভর্তি হচ্ছে। রোগীর চাপ বেশি থাকায় তারা শুক্রবার ছুটির দিনও এ হাসপাতালে ডায়েরিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছে। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জুবাইদা মেহের নাজ আরো জানান, শাহজাদপুর সদর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে হওয়ায় এখানে সব ধরনের ব্যবস্থা তাকলেও শিশু ও বৃদ্ধ রোগী নিয়ে কেউ আসতে চায়না। ফলে এ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। তিনি বলেন, ২/১ দিনের মধ্যে এ সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

সি/আরডি/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71