বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
শাহজাদপুরে সাংবাদিক হত্যার সমাপ্তি না সূচনা?
প্রকাশ: ০৭:০৪ pm ১৮-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ০৭:০৪ pm ১৮-০৭-২০১৭
 
চন্দন, সিরাজগঞ্জ :
 
 
 
 


তেল চোরের একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আহত করল দৈনিক যুগান্তর, ভোরের দর্পন ও বিজয় টিভির সাংবাদিক জাহানকে। বিবেকবান লোকদের ধারণা সাংবাদিক জাহানকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই এ হামলা। 

বর্তমানে দেখা যায়, চোরকে চোর বলা যাবে না, তাদেরকে ভাল বলতে হবে। এ প্রবাদটি মেনে চলতে রাজি একমাত্র তেলের চোরদের ইন্দনদাতা কতিপয় গডফাদার। কিন্তু মিডিয়া মানতে নারাজ। কারণ মিডিয়া কখনও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলে না, ভবিষ্যতে বলবেও না। বিবেকবান ও অভিজ্ঞমহল  এবং মিডিয়ার লোকজন বলছে শাহজাদপুরের সাংবাদিক হত্যার সমাপ্তি না সূচনা? এ প্রশ্ন থেকে গেল সকল মিডিয়ার উপর। 

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সাংবাদিক হত্যার সমাপ্তি না সূচনা! সত্যের সন্ধ্যানে সকল মিডিয়া। মিডিয়ার  অধিক পরিশ্রম এবং সত্যকে প্রকাশ করা ও বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দুর্ণীতি প্রকাশ করলেই চলে সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন, নিপিরন না হয় হত্যা।  রক্তাক্ত ইতিহাস বন্ধ করতে না পারলে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান সহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃবন্দ সহ দেশের অসহায় নারী পুরুষের নেপথ্য কাহিনী কখনও সংবাদপত্রে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকবে হবে সাংবাদিকদের। বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জানা যায়, সরকারী দলের কোন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জেলা বা উপজেলার সরকারী কর্মকর্তাদের নামের সত্য কথাটি প্রকাশ করলেই চলে সাংবাদিকদের উপর অত্যাচার, অনাচার না হয় হত্যা। তাই সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের একের পর এক সাংবাদিক হত্যা এবং নির্যাতন বেড়েই চলেছে। হারিয়ে যেতে বসেছে শাহজাদপুর ঐতিহ্যতা। যেখানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় চলতি সেশনেই পরিচালনার জন্য সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ভিসি নিয়োগ সহ দ্রুত কাজ পরিচালনার জন্য অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছে শিক্ষামন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগকৃত অধ্যক্ষ ও অধ্যাপকৃবন্দ।  

গত ফেব্রুয়ারী মাসে সাংবাদিক শিমুল হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল ছিল শাহজাদপুর। সেই উত্তাল বন্ধ হতে না হতেই আবারও ঘটে গেল বেধরক মার পিটের সুচনা। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারী মাসের দৈনিক সমকাল পত্রিকার সাংবাদিক শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র মিরুর শর্টগানের গুলিতে প্রাণ হারাতে হয়েছে। হত্যার পর মামলা হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছে মেয়র মীরু এবং তার পদাধিককার থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। শিমুল হত্যার পর মিডিয়া এবং অভিজ্ঞ সাংবাদিকবৃন্দ এটাই মনে করেছিলেন হয়তো বা আর কোন দিনের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলা সাংবাদিকদের রক্তে রঞ্জিত হবে না, সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন এবং অত্যাচারের কালো ইতিহাসের জন্ম হবে না। সে ইতিহাসের আবারও পুণরাবৃত্তি ঘটলো যুগান্তর পত্রিকা শাহজাদপুর প্রতিনিধি এবং বিজয় টিভি ও ভোরের দর্পনের সাংবাদিক মুমীদুজ্জামান জাহানকে বেধরক মারপিট, আহত হলো সাংবাদিক জাহান। কারণ একটাই তেলচোরদের কেন ছবি তেরা হলো এবং সংবাদটি প্রকাশ করা হলো। শাহজাদপুর উপজেলা একটি সন্ত্রাস এবং নৈরাজ্য এলাকা হিসাবে বিবেচনা করেন অভিজ্ঞ মহল। কারণ বাঘাবাড়ি নৌবন্দর এলাকায় অবাধে ডিজেল পাচার এবং মাদকের অবিরাম ব্যবসা। দুধর্ষ সন্ত্রাসীর রাজত্ব ছিল বাঘাবাড়ি নৌবন্ধর এলাকা।  

যে কারণে মোঃ মুমীদুজ্জামান জাহানকে মারপিট করে-শাহজাদপুর উপজেলার নৌবন্দর এলাকা থেকে অবাধে ডিজেল পাচার করার ছবি তোলা এবং সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর দৈনিক যুগান্তর ও বিজয় টিভি ও ভোরের দর্পণ পত্রিকার শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ মুমীদুজ্জামান জাহানকে গতকাল রোববার দুপুরে বাঘাবাড়ি ওয়েল ডিপো অফিসে ঢুকে শ্রমিক নামধারী মীর্জা মানিক, ছমির ওফরিদের নের্তৃত্বে একদল তেলচোর সন্ত্রাসী বেধরক মারপিট করে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি পেশাগত দায়ীত্ব পালনে সেখানে যান। আগে থেকে সেখানে ওৎপেতে থাকা তেলচোরের দল তাকে দেখেই অতির্কিতে হামলা চালায়। তার প্রাণ রক্ষার্থে দৌড়ে যমুনা ওয়েল ডিপো অফিস কক্ষে ঢুকেও ওই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। সন্ত্রাসীরা তাকে ধাওয়া করে অফিস কক্ষে ঢুকেই বেধরক মারপিট করে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি তেলচোর সন্ত্রাসীদের বেধরক মারপিটে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।

জানা যায়, গত ১৫ জুলাই শনিবার ‘বাঘাবাড়ি নৌবন্দর, ছয় লাখ লিটার অবৈধ ডিজেল কালোবাজারে বিক্রি’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্ত পত্রিকার শেষ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত সংবাদের ফলোআপ করার জন্য গতকাল রোববার দুপুর ১২ টার দিকে যুগান্তর ও বিজয় টিভির সাংবাদিক মোঃ মুমীদুজ্জামান জাহান সহ ৩ সাংবাদিক বিপিসির বাঘাবাড়ি ওয়েল ডিপোতে যায়। অপর সাংবাদিকরা হলেন, কালেরকন্ঠ পত্রিকার আতাউর রহমান পিন্টুও সকালের খবরের আব্দুল কুদ্দুস। এ সময় সিকিউরিটিদের সামনেই ডিপো অভ্যান্তরের ভিতরেই ট্যাংকলরী থেকে শ্রমিকরা তেল চুরি করছিল। এই তেল চুরির দৃশ্য সাংবাদিক মোঃ মুমীদুজ্জামান জাহান এ সময় ক্যামেরায় ধারণ করেন। এতে তারা তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে চড়াও হয়। তিনি দ্রুত যমুনা ওয়েল ডিপো অফিসে ঢুকে আত্মরক্ষা করেন।

এ সময় যমুনা ওয়েল ডিপোর ম্যানেজার অফিসে না থাকায় মোবাইলে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার অফিসে সাংবাদিকদের  অপেক্ষা করতে বলেন। সাংবাদিকরা তখন সেখানে অপেক্ষা না করে বাঘাবাড়ি পোর্ট অফিসারের স্বাক্ষাৎ গ্রহণ চলে যান। দুপুর ২টার দিকে সেখান থেকে ফিরে আবারও তারা যমুনা ওয়েল ডিপোতে যান। সেখানে প্রথমে ডিপোর সিকিউরিটিরা ভিড়তে ঢুকতে বাঁধা দেয়। এ বাঁধা পেরিয়ে ভিতরে যাওয়ার  সময় ওই তেল চোরের দল সাংবাদিক মোঃ মুমীদুজ্জামান জাহানের উপর হামলা চালায়। তিনি প্রাণ রক্ষার্থে দৌড়ে যমুনা ওয়েল ডিপোর অফিস সহকারীর কক্ষে ঢুকে পড়েন। তেলচোর সন্ত্রাসীরা সেখানেই তার উপর হামলা চালায়। এ সময় তিনি তাদের কাছে কাকুতিমিনতি করেও শেষ রক্ষা পায়নি। তারা সেখানেই হামলা চালিয়ে তাকে মারপিট করতে করতে বাইরে টেনে হিচড়ে এনে বেধরক মারপিট করে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় ওই সন্ত্রাসী হামলাকারীরা সাংবাদিক জাহানের পড়নের প্যান্ট শার্ঠ ছিড়ে তাকে অর্ধ বিবস্ত্র করে ফেলে এবং মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।

তবে প্যান্টের পকেটে থাকা কিছু টাকা তারা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় অফিস ও আশপাশের  লোকজনসহ তার সাথে থাকা অপর দুই সাংবাদিক তাকে উদ্ধার করে যমুনা ওয়েল ডিপোর ম্যানেজার আব্দুল মজিদের কক্ষে নিয়ে গিয়ে তাকে রক্ষা করে  যায়। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার ওসি খাজা গোলাম কিবরিয়াকে ফোনে ঘটনাটি জানিয়ে সাংবাদিককে উদ্ধারে সাহায্য চাওয়া হলে বেশ কিছুক্ষণ পর এসআই কমল দেবনাথ একদল পুলিশ নিয়ে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌছে দেয়। পরে গুরুতর আহত সাংবাদিক জাহানকে শাহজাদপুরের পোতাজিয়ার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি তাৎক্ষনিক ভাবে বাঘাবাড়ির উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরীর সভাপাতি শাহজাহান সিরাজকে জানানো হলে তিনি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টি নিয়ে নিউজ ও মামলা না করার অনুরোধ জানান। এ ছাড়া দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ ঘটনায় শাহজাদপুরে কর্মরত সাংবাদিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেন। এ ছাড়া  তারা অবিলম্বে দোষিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টিান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী জানান। এ ঘটনায় শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। 

জানা যায়, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের একটি ঘাট দিয়ে অবৈধ ৬ লাখ লিটার ডিজেল তেল উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তোলপাড় শুরু হয়। প্রতি লিটার ডিজেল ৬২ টাকা ৮১ পয়সা হিসাবে এর বাজার মূল্য ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা বলে জানা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বরাত দিয়ে ১৫ জুলাই শনিবার দৈনিক যুগান্তরে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই সংবাদের ফলোআপ করতে এ দিন তিনি সেখানে গিয়ে এ হামলার শিকার হন।

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71