বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
শিক্ষাবিদ কুমুদরঞ্জন মল্লিকের ১৩৪তম জন্ম বার্ষিকী আজ
প্রকাশ: ০৭:০৬ pm ০১-০৩-২০১৭ হালনাগাদ: ১১:৩৮ pm ০১-০৩-২০১৭
 
 
 


প্রতাপ চন্দ্র সাহা ||

পল্লীপ্রেমী কবি এবং শিক্ষাবিদ কুমুদরঞ্জন মল্লিক (জন্মঃ- ১ মার্চ, ১৮৮৩ - মৃত্যুঃ- ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭০)

কুমুদরঞ্জনের লেখা কবিতায় গানের সুর দিয়ে "কুমুদ কাব্য গীতি" নাম একটি গানের সংগ্রহ প্রকাশ করেছিল - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, তরুণ বন্দোপাধ্যায়, হৈমন্তী শুক্লা এবং আরও অনেকে তাতে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু এ সবের অনেক আগে, ১৯২০-তে, ইন্দুবালা দেবী কবির লেখা "ওরে মাঝি, তরী হেথা" গেয়েছিলেন, অনেক পরে সেই গান আবার গেয়ে শোনান তরুণ বন্দোপাধ্যায়। 
গান শিল্পী সুরকার সন
ওরে মাঝি তরী হেথা ইন্দুবালা দেবী, নিতাই ঘটক ১৯২০
সময় হলো ডাক পড়েছে তরুণ বন্দোপাধ্যায়, অশোক রায় ১৯৮৩
ঝাপসা হয়ে আসছে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ১৯৮৩
দিনু পল্লীর মেঠো গান হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ১৯৮৩
রূপের লাগি যদি হৈমন্তী শুল্কা ,অনল চট্টোপাধ্যায় ১৯৮৩
হয়ত আমার এ পথে হৈমন্তী শুল্কা, অনল চট্টোপাধ্যায় ১৯৮৩
ভাবছি যখন অরুন্ধতী হোম চৌধুরী, দীপেন্দ্র চৌধুরী ১৯৮৩
আকাশের কালো মেঘের আল্পনা সেনগুপ্ত, আল্পনা সেনগুপ্ত ১৯৮৩
নিদাঘের চাঁপা তুমি অনুপ ঘোষাল ,অনুপ ঘোষাল ১৯৮৩
অজয়ের বুকে সারাদিন অনুপ ঘোষাল, অনুপ ঘোষাল ১৯৮৩

কুমুদরঞ্জন বাংলার কবি-সাহিত্যিকদের প্রতিষ্ঠান সাহিত্যতীর্থের ‘তীর্থপতি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ‘বঙ্কিমচন্দ্র স্বর্ণপদক’ (১৯০৫) ও ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ এবং ভারত সরকার কর্তৃক ‘পদ্মশ্রী’ উপাধিতে ভূষিত হন।
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কোগ্রামে মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস একই জেলার শ্রীখন্ড গ্রামে। পিতা পূর্ণচন্দ্র মল্লিক ছিলেন কাশ্মীর রাজসরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

কুমুদরঞ্জন ১৯০১ সালে এন্ট্রান্স, ১৯০৩ সালে রিপন কলেজ থেকে এফএ এবং ১৯০৫ সালে বঙ্গবাসী কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। পরে বর্ধমানের মাথরুন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন এবং সেখান থেকেই ১৯৩৮ সালে প্রধান শিক্ষকরূপে অবসর গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য যে, কাজী নজরুল ইসলাম ওই স্কুলে তাঁর ছাত্র ছিলেন। 
কুমুদরঞ্জনের কবিত্বশক্তির বিকাশ ঘটে বাল্যকালেই। পল্লীর মানুষ ও প্রকৃতি তাঁর কাব্যের প্রধান বিষয়। তাঁর কবিতায় নির্জন গ্রামজীবনের সহজ-সরল রূপ চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। পল্লী-প্রবণতার সঙ্গে বৈষ্ণবভাবুকতা যুক্ত হয়ে তাঁর কবিতার ভাব ও ভাষাকে স্নিগ্ধতা ও মাধুর্য দান করেছে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘কুমুদরঞ্জনের কবিতা পড়লে বাঙলার গ্রামের তুলসীমঞ্চ, সন্ধ্যাপ্রদীপ, মঙ্গলশঙ্খের কথা মনে পড়ে।’ তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা: উজানী (১৯১১), বনতুলসী (১৯১১), শতদল (১৯১১), একতারা (১৯১৪), বনমল্লিকা (১৯১৮), নূপুর (১৯২০), রজনীগন্ধা (১৯২১), অজয় (১৯২৭), তূণীর (১৯২৮), স্বর্ণসন্ধ্যা (১৯৪৮) ইত্যাদি।

আমাদের সঙ্গী

গুটি ছয় পায়রা ও গুটিকত হাঁস রে,
আমাদের ঘরে করে একসাথে বাস রে।
আসে কাক এক ঝাঁক
করে খুব হাঁক ডাক।
কোকিলের কনসার্ট শুনবি তো যাস রে।

দল বেঁধে টুনটুনি আসে হেথা চরতে
বাবুইরা তালগাছে লাগে বাসা গড়তে।
বেনেবুড়ি মারে ডুব
পুণ্যটা করে খুব,
ফিঙে আসে বেছে বেছে শুয়োপোকা ধরতে।

ঝাঁক বেঁধে বনটিয়া, কভু আসে মুনিয়া
বলাকার সারি শেষ হয় নাকো গুনিয়া
উড়ে বাজপক্ষী
কত যেন লক্ষী!
চঞ্চুর জোরে ভাবে জিতবে সে দুনিয়া।

মাধবীর শাখে বাঁধে মৌমাছি চাক রে
করে মধু গুঞ্জন গুন হুন ডাক রে
কখু আসে চন্দনা
গেয়ে যায় বন্দনা
টাক সোনা ডাক শুনে লেগে যায় তাক রে।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71