শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯
শুক্রবার, ৬ই বৈশাখ ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
শিক্ষার সংজ্ঞা প্রসঙ্গে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকুলচন্দ্র
প্রকাশ: ১১:০৭ am ০১-০৩-২০১৯ হালনাগাদ: ১১:০৭ am ০১-০৩-২০১৯
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


যুগ পুরুষোত্তম শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকুলচন্দ্র অনন্ত মানব জীবনে এক বিস্ময়কর অভিব্যক্তি। অতন্দ্র প্রহরী, নরশ্রেষ্ঠ, তাঁর সমগ্র জীবন সাধনায় আপন অনুভুতির কথা প্রাঞ্জলভাবে বলে গেছেন, সমগ্র মানব সমাজের কল্যাণার্থে। তাঁর জীবনের আদর্শই ছিল ‘বাঁচা‘ আর ‘বাড়া‘র মূল-মন্ত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাঁর কাছে ছোট বড় কিছু ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন-সব মতই মত, কিন্তু সত্য এক,  ধর্ম এক। এবং সে ধর্ম হচ্ছে মানব ধর্ম এবং জীবন ধর্ম-যা ‘বাঁচা’ আর ‘বেড়ে ওঠা’-র মধ্যে সমাহিত। এই বাঁচা আর বেড়ে ওঠা’র মূল ভিত্তি হচ্ছে শ্রদ্ধা।

শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকুলচন্দ্র জীবনভর চেষ্টা করেছেন প্রতিটি মানুষের অন্তরে শ্রদ্ধার চাষ বাড়াতে। শ্রী শ্রী ঠাকুর বলেছেন, “শিক্ষার প্রথম উপকরণই হচ্ছে আদর্শ। আদর্শে আছে অনুভূতি আর শ্রদ্ধা। সেবা, ব্যবহার, উপাসনার দ্বারা আদর্শ হইতে তাঁহার অনুভূতির প্রকাশ পাইয়া, তাহা অনুভব করিয়া চরিত্রে তাহা প্রতিফলিত করাই হচ্ছে সম্যক শিক্ষা“। (চলার সাথী-৮৫)

পথ না জানলে যেমন ঠিক পথে চলা যায় না, তেমনই আদর্শকে বাদ দিয়ে প্রকৃত শিক্ষা লাভ করা সম্ভব নয়। কারণ জীবনে সার্থকতা লাভ করার উপায়গুলি হাতে-কলমে করার যে প্রচেষ্টা তার নামই শিক্ষা। তাই শিক্ষার মূল ভিত্তি হচ্ছে-আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা। আদর্শে শ্রদ্ধা ছাড়া কোনও জিনিস আয়ত্বে আনা সম্ভব নয়। শ্রদ্ধাই জ্ঞানকে আহরণ করে।

‘শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানম‘-গীতা। শ্রদ্ধাই ব্যক্তি জীবন, দাম্পত্য জীবন, কর্ম জীবন, শিক্ষা জীবন, সমাজ জীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনের একমাত্র হাতিয়ার।

কিন্তু শ্রদ্ধা আসবে কেমন করে? প্রতিটি ছেলে-মেয়ের শ্রদ্ধা আসে মা-বাবা ও আচার্য্য দেবের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা থেকে। যে ছেলেমেয়ে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় পিতা-মাতা ও আচার্য্য দেবকে ভক্তি সহকারে প্রণাম করে, তাঁদের বন্দনা ও সেবা করে, সে ছেলেমেয়ে নিশ্চয়ই শ্রদ্ধাশীল হবে। তাই পরম পুরুষ শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকুলচন্দ্রের প্রতিটি সৎসঙ্গের পরিবারকে বিশেষ ভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়। প্রতিদিন সকালে স্ত্রী তাঁর স্বামীকে, পুত্রকন্যারা পিতা মাতাকে ভক্তি ভরে প্রণাম করে আচার্য্যদেবকে ইষ্টভৃতি নিবেদন করবে। এইরূপ অভ্যাসের ফলে তাদের মনে শ্রদ্ধা ও ভক্তির উন্মেষ ঘটবেই। এই ছেলে মেয়েগুলিও বিদ্যালয়ে তাদের শিক্ষক শিক্ষিকার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেই। এই শ্রদ্ধা ও ভক্তির চাষেই তাদের মধ্যে জ্ঞানবৃক্ষের উন্মেষ ঘটবে- “শ্রদ্ধা সেখানেই উৎফুল্ল হয়ে ওঠে, ভালোবাসা যেখানে মুখর ও প্রস্ফুটিত“। ছাত্রের শ্রদ্ধাশীলতা শিক্ষকের মন জয় করবেই। তাই আর্য্য ভারতের শিক্ষার মূল ভিত্তি- মাতৃদেবো ভব, পিতৃদেবো ভব, আচার্য্যদেবো ভব। বন্দেপুরুষোত্তম।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71