বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯
বুধবার, ১১ই বৈশাখ ১৪২৬
সর্বশেষ
 
 
শিক্ষায় নয় বরং ভ্যাট আরোপ করা হোক লাভজনক ক্ষেত্রগুলোতে
প্রকাশ: ০৮:৪১ pm ৩০-০৮-২০১৫ হালনাগাদ: ০৮:৪১ pm ৩০-০৮-২০১৫
 
 
 


রিয়াদ আরিফ:চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের ফি’ এর উপর ৭.৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর আরোপ করা হয়েছে।এমনিতেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশুনা করা  একটি ব্যয় সাপেক্ষ ব্যপার  তাই এ বাড়তি অর্থ শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের কাছে বোঝা স্বরুপ হবে -এমনটি সহজেই অনুমান করা যায়।  

মূলত দেশের সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন স্বল্পতা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নামসর্বস্ব’ শিক্ষার কারনেই দেশে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রসার এবং বিস্তার।ইউজিসির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশে বর্তমানে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা আশিটির এর অধিক।এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখেরও বেশি।সে হিসেবে ,দেশের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ৬৩ শতাংশই বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যায়নরত।


বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্যেক্তা থেকে শুরু করে খাতের সাথে  সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল উচ্চবিত্তের সন্তানরাই পড়ছে না,  প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক কৃষি নির্ভর পরিবারের সন্তানরাও এখানে অধ্যায়নরত রয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন-ফি পরিশোধের জন্য অভিভাবকদের নিজের ভিটে মাটি বিক্রয় পর্যন্ত করতে হয়েছে। এ অবস্থায় এই বাড়তি ৭.৫ শতাংশ কর আরোপ করা হলে তাদের শিক্ষা ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং বলা বাহুল্য তা শিক্ষার্থীদেরই পরিশোধ করতে হবে।তাই সরকারের কর আরোপের সিদ্ধান্ত দেশের প্রবাহমান উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রকে আরও সঙ্কুচিত করবে।

সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে ,বর্তমানে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ।বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থী সংখ্যা গত ৬ বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আর গত দেড় দশকে উচ্চশিক্ষাকে এই অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার পিছনে বড় ভূমিকা রেখেছে উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থার সুষ্ঠু পরিচালনা ও উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার জন্য রাষ্ট্রের প্রচুর অর্থের প্রয়োজন।এই অর্থের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হল বিভিন্ন সেবা বা পণ্যের উপর ভ্যাট আরোপ ।তাই বলে শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারের উপর কর আরোপ কিছুতেই কাম্য হতে পারে না।

এ ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে সরকার শিক্ষা ব্যতিত আরও অনেক লাভজনক ক্ষেত্রের উপরই কর আরোপ করতে পারত।আমাদের দেশের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী এখনও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত, এখানে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে আসা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার তুলনায় সামান্য।এমন একটি অবস্থায় সরকারের উচ্চ শিক্ষার উপর ভ্যাট আরোপ কিছুতেই যৌক্তিক হতে পারে না। তাছাড়া শিক্ষা কোন বিলাসজাত কিংবা অভিজাত পন্যের মধ্যেও পড়ে না।

লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছে।দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অবদান রাখছে।তাই সরকারের উচিৎ ‘বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আরোপকৃত কর প্রত্যাহার করে সরকারী- বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্য দূর করে উচ্চ শিক্ষার পথ সুগম করা।


রিয়াদ আরিফ,একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী। 
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71