মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
শিক্ষিকা অঞ্জলি রানীকে হত্যা করে ২ মেয়েকে চট্রগ্রাম ছাড়তে বাধ্য করল হত্যাকারীরা
প্রকাশ: ১০:৪৬ am ০২-০৩-২০১৮ হালনাগাদ: ১২:১৮ pm ০২-০৩-২০১৮
 
চট্রগ্রাম প্রতিনিধি
 
 
 
 


চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষিকা অঞ্জলি রানী দেবীকে তিন বছর আগে প্রকাশ্যে খুন করে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। খুনিরা এখানেই থেমে থাকেনি; দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় অঞ্জলি দেবীর দুই মেয়ে ও স্বামীকেও। খুনিদের ভয়ে চট্টগ্রাম শহর ছেড়েছেন মেয়ে অর্পিতা চৌধুরী ও সঙ্গীতা চৌধুরী। হুমকি পাওয়ার পর শহর ছেড়ে গ্রামের বাসিন্দা হয়েছিলেন তার স্বামী রাজেন্দ্র লাল চৌধুরী। পুলিশকে জানিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় এখন তিনি ঢাকার বাসিন্দা। তবে মৃত্যুর আগে স্ত্রীর হত্যাকারীদের বিচার দেখে যাওয়ার আকুতি তার। 

৩ বছরে এ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে তিন দফা। কোনো কর্মকর্তাই কারা, কেন অঞ্জলি রানীকে হত্যা করেছে তার সূত্র খুঁজে পাননি। এমনকি খুনিদের কাউকে শনাক্তও করতে পারেননি তারা। তিন বছর ধরে তদন্ত কর্মকর্তাদের একটিই বক্তব্য- 'তদন্ত এগোচ্ছে।' 

২০১৫ সালের ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার তেলিপট্টি এলাকার নিজ বাসার গলির মুখে অঞ্জলি রানী দেবীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় যুবকদের আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন তার স্বামী চিকিৎসক রাজেন্দ্র লাল চৌধুরী। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করেন পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মোতালেব। পরে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত শুরু করে নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তদন্ত দলের প্রধান ছিলেন তৎকালীন ডিবির সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম। পরে তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন ডিবির পরিদর্শক কেশব চক্রবর্তী। একই বছরের ১৩ জুন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া মাদ্রাসার সাবেক ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাকে গ্রেফতার করা হয়। পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয় তাকে। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে কোনো তথ্য মেলেনি বলে জানিয়েছিলেন তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা কেশব চক্রবর্তী। এর আগে নার্সিং কলেজে ছাত্রীদের হিজাব পরা নিয়ে আন্দোলনের সময় অঞ্জলি দেবীকে আইনি নোটিশ দিয়েছিলেন এই রেজা। জিজ্ঞাসাবাদে কিছু না পাওয়ায় পরে জামিনে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর আরেক দফা তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন আসে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। সমকালকে তিনি বলেন, 'এখনও বলার মতো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। তবে আমরা আশাবাদী। সম্ভাব্য সব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত এগোচ্ছে। হত্যারহস্য উন্মোচনে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।'

অঞ্জলি রানীর স্বামী চিকিৎসক রাজেন্দ্র লাল চৌধুরী বলেন, 'স্ত্রী খুনের পর আমাকে ২০ বার ডিবি অফিসে ডেকে নেওয়া হয়েছে। তারা বারবার একই কথা জানতে চান। আমি কাউকে সন্দেহ করি কি-না। আমি আমার বক্তব্য জানাই। এরপর আর কোনো অগ্রগতি নেই। ঘটনার পর মোবাইল ফোনে আমাকে ও আমার মেয়েকে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলাম। কিন্তু কারা আমাকে হুমকি দিয়েছে, তাও বের করতে পারেনি পুলিশ।' তিনি আরও বলেন, আমার বয়স হয়েছে। আমি অসুস্থ। তবে মৃত্যুর আগে একটাই চাওয়া, স্ত্রীর হত্যাকারীদের যেন বিচার হয়।

তিনি দুটি বিষয়ে পুলিশকে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, 'এ হত্যাকাণ্ডে কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী জড়িত কি-না। কারণ আমার স্ত্রীকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে একই কায়দায় মুক্তমনা ব্লগারদেরও হত্যা করেছিল জঙ্গিরা। এ ছাড়া নার্সিং কলেজে অভ্যন্তরীণ কোনো দ্বন্দ্ব ছিল কি-না তাও খতিয়ে দেখা উচিত। হিজাব পরা নিয়ে যখন আন্দোলন চলছিল তখন শিক্ষকদের একটি পক্ষ অঞ্জলির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উস্কে দিয়েছিল। এসবই আমার ব্যক্তিগত মতামত। বিষয়গুলো চাইলে পুলিশ খতিয়ে দেখতে পারে।'

নার্সিং কলেজে শিক্ষকদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না দাবি করে চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ মাকসুদা বেগম বলেন, 'তখন আমরা জুনিয়র শিক্ষক ছিলাম। সিনিয়রদের সবাই সম্মান করত। তাদের বিষয়ে কখনও জুনিয়ররা নাক গলাত না।'

তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'কিছুদিন পর পর তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়। তারা আসেন। কথা বলেন। তদন্ত এগোচ্ছে বলে জানান। কিন্তু বাস্তবে কিছু দেখি না। দিনের আলোয় প্রকাশ্যে একজন সেবিকাকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ বিচার হবে না- এটা কেমন কথা। এভাবে খুনিরা পার পেয়ে গেলে তারা অপরাধ কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হবে।' 


প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71