বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৫ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে বাদাম বিক্রেতা সাকিব
প্রকাশ: ০৭:০১ pm ২৩-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৭:০১ pm ২৩-০৪-২০১৮
 
নড়াইল প্রতিনিধি:
 
 
 
 


ভিক্ষে করে নয়, বাদাম বিক্রির টাকায় পড়াশুনা করে সপ্তম শ্রেণির অদম্য শিক্ষার্থী সাকিবের! দিনমজুর বাবা দুই বছর আগে তাকে সাফ জানিয়ে দেন, তার পক্ষে পড়ার খরচ চালানো সম্ভব না। তখন সবে মাত্র পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র পরিবারের বড় ছেলে সাকিব। সেই রাতে ঘুমাতে পারেনি, লেখাপড়া করা হবে না ভেবে অনেক কেঁদেছে। স্কুল তার ভালো লাগে, লেখাপড়া করতেই হবে। সিদ্ধান্ত নেয় কিছু একটা করার। 

তখনই মাথায় আসে বাদাম বিক্রির কথা। তার বয়সী অনেককেই তো বাদাম বিক্রি করতে দেখেছে। সে না হয় পড়ার খরচের জন্য বাদাম বিক্রি করবে। এই ভাবনা থেকেই নাম লেখায় বাদাম বিক্রেতার খাতায়। সপ্তাহে তিনদিন স্কুলে যায়, আর বাকি দিনগুলোতে ফেরি করে বাদাম বিক্রি করে সাকিব। নিজের লেখাপড়ার পাশাপাশি ছোট দুই ভাই-বোনের পড়ার খরচও যোগান দিয়ে যাচ্ছে পল্লী মঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এই অদম্য শিক্ষার্থী। সে নড়াইলের আটলিয়া গ্রামের ইকবাল সিকদারের ছেলে। অন্য শিশুরা যখন পরিপাটি পোশাক পরে ক্লাসে মগ্ন থাকে। ঠিক তখন বাদামের ডালা গলায় ঝুলিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ায় সাকিব। চোখে মুখে তার রাজ্যের চিন্তা, কিন্তু কণ্ঠে দৃঢ় প্রত্যয়। যে কোনো মূল্যে তাকে লেখাপড়া শিখতেই হবে। লেখাপড়া শেখাতে চায় ছোট বোন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া ও প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছোট ভাইকেও। 

গেল সপ্তাহে নড়াইল শহরেই দেখা হয় সাকিবের সঙ্গে। তখন এক দোকানির কাছে বাদাম বিক্রি করছিল সে। অন্য ফেরিওয়ালাদের চেয়ে বেশ পরিপাটি বেশভূষা দেখে খানিকটা খটকা লাগে। কৌতূহল থেকেই জিজ্ঞাসা। আর এক প্রশ্নেই বেরিয়ে আসে তার সংগ্রামের কাহিনী। 

প্রতিবেদককে সে জানায়, বসতভিটা ছাড়া কোনো জমি নেই তাদের। অসুস্থ বাবা দিনমজুরি দিয়ে সংসার চালান। শরীরও চলে না, আবার সব সময় কাজও থাকে না। যেদিন কাজ থাকে না সেদিন তাদের উপোস থাকতে হয়। যেদিন তার পড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেদিন তার কাছে জমানো ছিলো ১০০ টাকা। পরদিন সেই টাকা দিয়ে বাদাম কিনে বাড়ি ফিরে পরিকল্পনার কথা জানায় মাকে। মাকে দিয়ে বাদাম ভাজিয়ে তা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়। এখন সপ্তাহে তিনদিন স্কুলে যায় সে। অন্য দিনগুলোতে ১৪ কিলোমিটার পারি দিয়ে নড়াইল শহরে হাজির হয় বাদাম বিক্রি করতে। দৈনিক ১২০ থেকে ২০০ টাকা আয় হয়। দুপুরে খেলে তেমন মুনাফা জমে না। এ কারণে এসব দিনে দুপুরে তাকে উপোস থাকতে হয়। সকালে বাড়ি থেকে খেয়ে বের হয়, আবার রাতে বাড়ি ফিরে খেয়ে ক্লান্ত শরীরে ভাইবোনদের সঙ্গে বই নিয়ে বসে। 

তার বাবা ইকবাল সিকদার জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রতিদিন কাজ করতে পারেন না। দিনমজুরের কাজ করে পরিবারের পাঁচ সদস্যের খাবার জোগাড় করে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করানো তার পক্ষে সম্ভব না। যে কারণে ছেলের লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এখন ছেলের আগ্রহ দেখে খুশি। তাই সমাজের বিত্তবানরা যদি সাকিবের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসে তাহলে হয়তোবা সে জাতিকে ভালো কিছু উপহার দিতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন তিনি।


বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71