বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
বিশেষ প্রদিবেদন-
শিবগঞ্জে ভার্মিকম্পোষ্ট সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদন করে সাফল্যের মুখে সুমন
প্রকাশ: ১২:৫৭ pm ২১-০১-২০১৭ হালনাগাদ: ১২:৫৭ pm ২১-০১-২০১৭
 
 
 


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের উপর চাঁদপুর রুহুল আমিনের ছেলে সানাউল্লাহ সুমন।

কৃষি সম্প্রসারণ কাজে ব্যবহৃত ভার্মিকম্পোষ্ট সার উৎপাদন করে কৃষিখাতকে আরো সম্প্রসারিত ও নিজ পরিবার কে ধরে রাখতে দূর্লভভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

একদিকে কৃষিখাত অন্যদিকে নিজ পবিবার। পাশাপাশি এলাকার বেকারত্ব দূরকরণ। ভার্মিকম্পোষ্ট সার উৎপাদন হচ্ছে গরুর গোবর আর কেঁচো থেকে।

এছাড়া ভার্মিকম্পোষ্ট সার উৎপাদন ছাড়া উৎপাদিত হচ্ছে বায়োগ্যাস। সুমন তিন বছর আগে সাদেক বিশ্বাসের সহযোগিতা নিয়ে ভার্মিকম্পোষ্ট সার উৎপাদন শুরু হরে নিজ বাড়ির পিছনে একটি টিন চালা দিয়ে। বর্তমানে তার উৎপাদিক খামার বৃদ্ধি মরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর সুমনের এই ভার্মিকম্পোষ্ট সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদন করা দেখে এলাকার প্রায় ৪০টি উৎপাদন খামার তৈরি করেছে এলাকার বেকার যুব সমাজ।

এব্যাপারে সুমন জানান, আমি বেকার থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালের শুরুর দিকে সাদেক বিশ্বাসের সহযোগিতা নিয়ে ভার্মিকম্পোষ্ট সার উৎপাদন শুরু করি। প্রথমে আমার খামার তৈরি করতে প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়। খামারে আমি প্রথমেই প্রায় ৫০ হাজার কেঁচো ক্রয় করি এবং এর কার্যাক্রম শুরু করি। তা থেকে আমার খামারে বংশ বিস্তার করে বর্তমানে ১৫ লাখ কেঁচো রয়েছে। ভার্মিকম্পোষ্ট সার কিভাবে উৎপাদন করা হয় এমন প্রশ্নোত্তরে সুমন বলেন, আমি এক ট্রলি গোবর ক্রয় খচর হয় ১২০০ টাকা।

যারা গরু পালন করে তাদের কাছ থেকে এই সব গোবর কেনে নিয়ে কেঁচো সাথে মিশিয়ে দিই। এরপর বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত করে ছাঁকনা দিয়ে ছেঁকে সারেরমূল অংশ বের করি এবং তা বাজারজাত করি। খামারে ভার্মিকম্পোষ্ট সার কি আপনি একা করেন এমন প্রশ্নোত্তরে সুমন বরেন, খামার একা কাজ করা সম্ভব নয়, আমার সাথে এলাকার কয়েকজন শ্রমিক রয়েছে। তারা একদম বেকার ছিলো। তাদেরকে আমার খামার কাজে লাগিয়েছি।

সুমন আরো জানান, আমার খামার থেকে প্রতি মাসে ৭০ বস্তা ভার্মিকম্পোষ্ট সার উৎপাদন হয়। পাশাপাশি বায়োগ্যাস ব্যবহার করি যা খড়ি খরচ থেকে রক্ষা পাই। বায়োগ্যাস উৎপাদনের বিষয়ে জানতে চাইলে সুমন বলেন, আমি শুধু আমার পরিবারই বায়োগ্যাম ব্যবহার করছি। আমার পরিবারের সদস্য ১০জন। ১০ জনের সদস্যের পরিবারে খাবার তৈরি করতে তিনবার ব্যহবার করা যাবে। আমি যখন থেকে ভার্মিকম্পোষ্ট সার উৎপাদন করতে শুরু করি সেই দিনে থেকে খড়ি ব্যবহার করি না। সার বাজারজাত কিভাবে করেন এমন প্রশ্নোত্তরে সুমন বলেন, আমি প্রতি বস্তা সার বিক্রয় করছি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। আমার কাছ থেকে বিভিন্ন এলাকার কৃষক সার ক্রয় করে নিয়ে যায়।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস.এম আমিনুজ্জামান জানান, দেশের মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ খুবই। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জৈব পদার্থের আরো কম। যেখানে মাটিতে ৫ শতাংশ থাকা উচিৎ সেখানে ১ শতাংশের নিচে রয়েছে। সে ক্ষেত্রে মাটির উর্বলতা বৃদ্ধি ও মাটির গুণাগুণ বজায় রাখতে হলে জৈব পদার্থের কোন বিকল্প নাই। যেহেতু জৈব পদার্থ কম বা জৈব সার পাওয়া যায়না সেহেতু জৈব পদার্থের বিকল্পে আমরা ভার্মিকম্পোষ্ট ব্যবহার করতে পারি এবং ভার্মিকম্পোষ্ট ব্যবহার করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে।

ভার্মিম্পোষ্ট বা কেঁচো সার ব্যবহার করলে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং উর্বলতা শক্তি বৃদ্ধি পাই। এতে ফসল ভালো থাকে, রোগ কম হয়, পোঁকামাকড়ে আক্রান্ত কম হয়,ফলস ফলাতে বৃদ্ধি করে। এর ফলে আমাদের ভার্মিম্পোষ্ট বা কেঁচো সার ব্যবহার করতে পারি। 

এইবেলাডটকম/ইমরান/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71