বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
শিশুদের শাসন হিসেবে মারধোর কেন স্বাভাবিক ?
প্রকাশ: ১১:০৫ am ১২-১২-২০১৬ হালনাগাদ: ১১:০৫ am ১২-১২-২০১৬
 
 
 


ঢাকা : বাংলাদেশের বিভিন্ন পরিবারে শিশুদেরকে শাসনের অংশ হিসেবে মারধর করা সামাজিকভাবে স্বীকৃত। কথা না শুনলে বা পড়তে না বসলে দু এক ঘা বসিয়ে দেয়া বাংলাদেশে খুবই স্বাভাবিক।

শিশুকে বকুনি বা মারধোর কেন বাংলাদেশের সমাজে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া?

সমাজবিজ্ঞানী মাহবুবা নাসরিন বলছেন, "শিশুদের শাসন না করলে তারা মানুষ হবে না বাংলাদেশের সমাজে বহুদিন ধরে এমন একটা সংস্কৃতি প্রচলিত রয়েছে। স্কুলেও এটা চলে। বাংলাদেশে পরিবার মনে করা হয় এটা তার ভালোর জন্যেই করা হচ্ছে বা তাকে শাসন করা পরিবারের অধিকার। বাংলাদেশে শিশুর মনস্তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা একেবারেই নেই"

পারিবারিক শাসন হিসেবে মারধোর বা বকাঝকা শিশুর ওপর কি প্রভাব ফেলে?

শিশুদের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলছেন, এর প্রভাব তাৎক্ষনিক বোঝা না গেলেও দীর্ঘ মেয়াদি প্রভাব রয়েছে।

তিনি বলছেন, অনেক সময় শিশুর ক্ষমতা বা সংগতির তুলনায় তার কাছে পরিবারের চাওয়া অনেক বেশি থাকে। পরিবার তখন তাকে বকাঝকা করে, তাকে বলতে থাকে তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না বা তাকে দরকারে মারধোরও করে। পরিবার ভাবে তাতে হয়ত শিশুটি তার লক্ষ অর্জন করতে পারবে। কিন্তু শিশু কতদূর পারবে তার সক্ষমতা যাচাই করা হয়না

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন মারধোরে শিশু নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।

 

বরং এতে শিশু বাড়তি চাপ অনুভব করে এবং মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস কমে যেতে থাকে। শিশু নিজেই মনে করতে থাকে বাবা মা যেহেতু বলছে অতএব আমি কোন কিছুর জন্য ভালো না। শিশুরা এমনকি নেশা বা নানা অপরাধে জড়িয়ে পরে।

তিনি বলছেন অনেক সমস্যা নিয়ে শিশুরা তাদের কাছে আসে যার উৎস পরিবারেই।

তার মতে, শিশুর সক্ষমতা যাচাই এবং সে অনুযায়ী তার ভালো ফল বা ভালভাবে বেড়ে ওঠার জন্য যে ধৈর্য দরকার হয় বাংলাদেশে অনেক বাবা মায়েরই সেটা নেই

সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা, ইউনিসেফের শহরাঞ্চলে শিশুদের অবস্থা নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যাচ্ছে শহরাঞ্চলে ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ৮২ শতাংশের বেশি পরিবারে নানা ধরনের শাসনের শিকার।

শহরের দশটি শিশুর আটজনই পরিবারে নানা ধরনের শাসনের শিকার। এর মধ্যে বকা থেকে শুরু করে রয়েছে মারধোর পর্যন্ত। ৫৫ শতাংশ শিশুকে শারীরিক মারধোর দিয়ে শাসন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৮ শতাংশ শিশুই মারাত্মক শারীরিক নির্যাতনের শিকার।

প্রকাশিত এই জরীপে আরো দেখা যাচ্ছে বস্তিবাসী শিশুরা তুলনামূলক বেশি শারীরিক শাস্তির মুখোমুখি হলেও বস্তির বাইরের শিশুদের মধ্যেও এই সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি। বিবিসি

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71