বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৩০শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
শিশুমৃত্যু রোধ: বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্য
প্রকাশ: ১২:৩১ pm ১০-০৯-২০১৫ হালনাগাদ: ১২:৩১ pm ১০-০৯-২০১৫
 
 
 


ডেস্ক রিপোর্ট:  গত ২৫ বছরে শিশুমৃত্যু রোধে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এই সময়ে বিশ্বব্যাপী যেখানে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার ৫৩ শতাংশ কমেছে, সেখানে বাংলাদেশে কমেছে ৭৩ শতাংশ। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার ছিল প্রতি হাজারে ১৪৪ জন। ২০১৫ সালে তা নেমে এসেছে ৩৮ জনে। বিশ্বে নিম্ন ও নিম্নমধ্যম আয়ের যে ২৪টি দেশ শিশুমৃত্যুর হার এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে, বাংলাদেশ তার অন্যতম।

গতকাল জাতিসংঘের শিশু ও শিক্ষা বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ‘কমিটিং টু চাইল্ড সার্ভাইবাল: এ প্রমিজ রিনিউড, প্রগ্রেস রিপোর্ট-২০১৫ ও ‘লেভেল অ্যান্ড ট্রেন্ডস ইন চাইল্ড মর্টালিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আনডেসার (ইউএনডিইএসএ) সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে ইউনিসেফ এ প্রতিবেদন তৈরি করে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অর্জন ভালো হলেও বিশ্বের অনেক দেশ এক্ষেত্রে সফলতা না পাওয়ার কারণে অধরা রয়ে গেছে জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি)। ১৯৯০ সালে ঘোষিত এমডিজিতে চলতি ২০১৫ সাল নাগাদ এমন মৃত্যুহার দুই-তৃতীয়াংশ হ্রাসের লক্ষ্য ঠিক করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ৫৩ শতাংশ কমানো গেছে। ১৯৫টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে ইউনিসেফ এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এর মধ্যে ৬২টি দেশ এ লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছে। ৭৪টি দেশ শিশুমৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এমডিজিতে লক্ষ্য ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যু প্রতি হাজারে ৪৮ বা তার নিচে নামিয়ে আনা। গত বছরই তা ৪৬-এ নামিয়ে এনে বাংলাদেশ লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হয়। এজন্য ইউনিসেফের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পুরস্কৃতও করা হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) বাসুদেব গাঙ্গুলী বণিক বার্তাকে বলেন, দেশে ১৩ হাজারের অধিক কমিউনিটি ক্লিনিক গ্রামের আনাচে-কানাচে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। এসব ক্লিনিকে গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যের অবস্থা যেমন— রক্তচাপ, ডায়াবেটিস সম্পর্কে জানা যাচ্ছে, প্রতি মাসে গর্ভস্থ শিশুর অবস্থাও জানা যাচ্ছে। এখান থেকে শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর কী কী সেবা নিতে হবে, তা অবগত হচ্ছেন মায়েরা। এছাড়া শিশুকে কখন কোন টিকা দিতে হবে, তা কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে জানতে পারছেন মায়েরা। অন্যদিকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গর্ভবতী মায়েদের অনাগত সন্তানের যত্নের ব্যাপারে সচেতন করে তুলছেন। মানুষ সচেতন হওয়ায় দেশে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার অনেক কমে এসেছে। তবে এ সফলতা ধরে রাখতে যেসব ঝুঁকি রয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০ সাল নাগাদ প্রতি বছর বিশ্বে ১ কোটি ২৭ লাখ শিশু পাঁচ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা যেত। বর্তমানে ওই বয়সের শিশুমৃত্যু বার্ষিক ৫৯ লাখে নেমে এসেছে।

শিশুমৃত্যুর সংখ্যার হিসাবে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে ভারত। এর পরই নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো, ইথিওপিয়া, চীন, অ্যাঙ্গোলা ও ইন্দোনেশিয়া। বাংলাদেশ রয়েছে নবম স্থানে। প্রতি বছর ১ লাখ ১৯ হাজার শিশু মারা যাচ্ছে দেশে। আর বাংলাদেশের পরে রয়েছে তানজানিয়া। বিশ্বে শিশুমৃত্যুর ৬০ শতাংশই ঘটছে এ ১০টি দেশে।

ইউনিসেফের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এখনো প্রতিদিন বিশ্বে ১৬ হাজার শিশুর মৃত্যু হচ্ছে পাঁচ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই। এদের বেশির ভাগের প্রাণ যাচ্ছে অপুষ্টি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া অথবা ম্যালেরিয়ার কারণে। তবে শিশুমৃত্যুর প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে অপুষ্টিকে দায়ী করেছে ইউনিসেফ। প্রতিবেদন প্রকাশকালে সংস্থার উপনির্বাহী পরিচালক গীতা রাও গুপ্তা জানান, এখনো অনেক শিশু এমন সব রোগে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা যাচ্ছে, যেগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ কারণে আমাদের এখনো অনেক কাজ করতে হবে।

সাহারা মরুভূমির আশপাশের দেশগুলোর শিশুরাই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে। শিশুমৃত্যুর হারে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে অ্যাঙ্গোলা। এর পরই শাদ, সোমালিয়া, মধ্য আফ্রিকা ও সিয়েরা লিয়ন। এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৬১তম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ওপরে রয়েছে বাংলাদেশ। নবজাতকের মৃত্যুরোধের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। প্রতি এক হাজার প্রসবের ঘটনায় বাংলাদেশে ২৪ জন নবজাতক মারা যায়। ভারতে এ হার ২৯, নেপালে ২৩ ও পাকিস্তানে ৪২। একইভাবে শিশুর জন্মকালীন আয়ু প্রত্যাশাও (লাইফ এক্সপেক্ট্যান্সি অ্যাট বার্থ) বাংলাদেশে প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে বেশি। বাংলাদেশে শিশুর জন্মকালীন আয়ু প্রত্যাশা ৭১ বছর, প্রতিবেশী অন্যান্য দেশে যা এর চেয়ে কম।
এইবেলা ডটকম/এইচ আর
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71