শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
শুক্রবার, ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
শিশুসাহিত্যিক সুনির্মল বসুর ৬০তম মৃত্যূ বার্ষিকী আজ
প্রকাশ: ১০:৫৪ am ২৬-০২-২০১৭ হালনাগাদ: ১০:৫৪ am ২৬-০২-২০১৭
 
 
 


প্রতাপ চন্দ্র সাহা ||

শিশুসাহিত্যিক, কবি এবং ছড়াকার সুনির্মল বসু ( জন্মঃ- ২০ জুলাই, ১৯০২ - মৃত্যুঃ- ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭ )

সাঁওতাল পরগণার মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ কিশোর বয়সেই তাকে কবিতা লেখা ও ছবি আঁকার প্রতি অনুপ্রেরিত করেছিল। তিনি কিছুদিন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আর্ট কলেজে ছবি আঁকা শেখেন। প্রবাসী পত্রিকায় তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। তিনি কবিতা, ছড়া, গল্প, উপন্যাস, রূপকথা, ভ্রমণকাহিনী, কৌতুক নাটক ইত্যাদি মাধ্যমে শিশু-কিশোর উপযোগী সাহিত্য রচনা করেন। সুনির্মল বসু সমকালের একমাত্র শিশুতোষ পাক্ষিক পত্রিকা ‘কিশোর এশিয়া’র পরিচালক ছিলেন। তিনি দিল্লীতে অনুষ্ঠিত প্রবাসী বঙ্গসাহিত্য সম্মেলনের শিশু-সাহিত্য শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর কয়েকখানি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো: হাওয়ার দোলা, ছানাবড়া, বেড়ে মজা, হৈ চৈ, হুলুস্থূল, কথাশেখা, পাততাড়ি, ছন্দের টুংটাং, আনন্দ নাড়ু, শহুরে মামা, কিপটে ঠাকুরদা, টুনটুনির গান, গুজবের জন্ম, বীর শিকারী, লালন ফকিরের ভিটে, পাতাবাহার, ইন্তিবিন্তির আসর, পাহাড়ে জঙ্গলে ইত্যাদি।

ছোটদের চয়নিকা ও ছোটদের গল্প সঞ্চয়ন তাঁর সম্পাদিত দুটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ। তাঁর রচিত আত্মজীবনী জীবন খাতার কয়েক পাতার প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৫৬ সালে তিনি সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ভুবনেশ্বরী’ পদক লাভ করেন।

জন্ম, পরিবার ও শিক্ষা
বিহারের গিরিডিতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের মালখানগর। সাহিত্যিক ও সাংবাদিক গিরিশচন্দ্র বসু ছিলেন তাঁর পিতামহ এবং প্রখ্যাত বিপ্লবী ও সাহিত্যিক মনোরঞ্জন গুহঠাকুরতা ছিলেন তাঁর মাতামহ। সুনির্মল পিতার কর্মস্থল পাটনার গিরিডি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে কলকাতার সেন্ট পলস কলেজে ভর্তি হন, কিন্তু গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২১) যোগ দিয়ে কলেজ ত্যাগ করেন।

সব-পেয়েছির দেশে

গল্প না ভাই, কল্পনা নয়,
স্বপন-বুড়ো এসে
আমায় নিয়ে উধাও হোলো
সব-পেয়েছির দেশে।
স্বপন-বুড়োর লম্বা দাড়ি,
পোষাকটি তার রং-বাহারী,
আমায় নিয়ে দিচ্ছে পাড়ি
হাল্কা-হাওয়ায় ভেসে;
সব-পেয়েছির দেশে রে ভাই,
সব-পেয়েছির দেশে।
স্বপন-বুড়ো, রসিক-চূড়ো
নিদ্-মহলের রাজা,
থুর্থুরে তার শরীর বটে,
মনটি আজও তাজা;
সব-পেয়েছির দেশে চলো
সকল ছেলে মেয়ে,
উঠব মেতে সবাই সেথায়
সকল জিনিস পেয়ে,
সেথায় হাসির ঝর্ণা হাসে,
আমোদ খুশির বন্যা আসে,
মাতিয়ে তোলে শিশুর দলে
অসীম ভালোবেসে,
সব-পেয়েছির দেশে রে ভাই
সব-পেয়েছির দেশে।
বাংলাদেশের কিশোর-শিশু
তোমরা যারা আছো,
নাচার মতো নাচো তারা
বাঁচার মতো বাঁচো।
আধ-মরা আর ঘুণে ধরারা
বুড়োর কথা শুনবে যারা,-
সত্যিকারের মানুষ তারা
হবেই অবশেষেসব-
সব-পেয়েছির দেশে রে ভাই
সব-পেয়েছির দেশে।
.........
সবার আমি ছাত্র 
সুনির্মল বসু

আকাশ আমায় শিক্ষা দিল
উদার হতে ভাই রে,
কর্মী হবার মন্ত্র আমি
বায়ুর কাছে পাই রে।
পাহাড় শিখায় তাহার সমান-
হই যেন ভাই মৌন-মহান,
খোলা মাঠের উপদেশে-
দিল-খোলা হই তাই রে।
সূর্য আমায় মন্ত্রণা দেয়
আপন তেজে জ্বলতে,
চাঁদ শিখাল হাসতে মোরে,
মধুর কথা বলতে।
ইঙ্গিতে তার শিখায় সাগর-
অন্তর হোক রত্ন-আকর;
নদীর কাছে শিক্ষা পেলাম
আপন বেগে চলতে।
মাটির কাছে সহিষ্ণুতা
পেলাম আমি শিক্ষা,
আপন কাজে কঠোর হতে
পাষান দিল দীক্ষা।
ঝরনা তাহার সহজ গানে,
গান জাগাল আমার প্রাণে;
শ্যাম বনানী সরসতা
আমায় দিল ভিক্ষা।
বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর,
সবার আমি ছাত্র,
নানান ভাবে নতুন জিনিস
শিখছি দিবারাত্র।
এই পৃথিবীর বিরাট খাতায়,
পাঠ্য যেসব পাতায় পাতায়
শিখছি সে সব কৌতূহলে,
নেই দ্বিধা লেশমাত্র।
..................

আমরা কিশোর 
সুনির্মল বসু

কিশোর মোরা ঊষার আলো, আমরা হাওয়া দুরন্ত
মনটি চির বাঁধন হারা পাখির মত উরন্ত।
আমরা আসি এই জগতে ছড়িয়ে দিতে আনন্দ,
সজীবতায় ভরিয়ে দিতে এই ধরণীর আনন তো।
আমরা সরল কিশোর শিশু ফুলের মত পবিত্র,
অন্তরেতে গোপন মোদের শিল্প, গীতি, কবিত্ব।
জাগাই যদি, লাগাই তাদের এই দুনিয়ার হিতার্থ,
ভবিষ্যতের নবীন ধরা হবেই তবে কৃতার্থ।
যে বীজ আছে মনের মাঝে চায় যে তারা আহার্য,
ফসল লয়ে ফলবে সে বীজ একটু পেলে সাহায্য।
একান্ত যার ইচ্ছা আছে, দাম আছে তার কথার তো,
এই জগতে অবশ্য সে মানুষ হবে যথার্থ।
শোনরে কিশোর ভাইরা আমার, সত্য পথের শরণ নে,
হারিয়ে তোরা যাস নে যেন অমানুষের অরণ্যে।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71