বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯
বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা মাঘ ১৪২৫
 
 
শিশু দেব দত্ত হত্যার প্রধান দুই আসামি ভারতে
প্রকাশ: ১০:১২ am ২৩-০৭-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:১২ am ২৩-০৭-২০১৮
 
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
 
 
 
 


অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যার শিকার স্কুলছাত্র দেব দত্তর (৯) প্রধান দুই আসামি পালিয়ে ভারতে অবস্থান করছে। এরা হলো- কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউপির চিথলিয়া গ্রামের মালিথা পাড়ার আনছার আলীর ছেলে এরশাদ আলী (৩৩) যার পাসপোর্ট নং-বিএম ০৬০৯৬২৮ এবং একই পাড়ার আমান আলী মুন্সীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৫) যার পাসপোর্ট নং- বিএম ০৬২৬৫৮৬। 

এ ঘটনায় দেবের বাবা ধুবইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পবিত্র দত্ত দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য গত ২ জুলাই ভারতীয় হাই কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। সূত্র জানিয়েছে, পলাতক কিলার হাবিবুর রহমানকে ভারত থেকে অন্যদেশে পাঠানোর উদ্দেশ্যে তার পিতা আমান মুন্সী মাঠের ২২ কাঠা জমি ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেছে প্রতিবেশি রইচ উদ্দিনের তিন ছেলের কাছে।

দেব দত্ত চিথলিয়া গ্রামের ধুবাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পবিত্র দত্তের একমাত্র ছেলে এবং চিথলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। ৯ জুন তাকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ২৫ জুন তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গোয়েন্দাসহ বিভিন্ন সূত্র জানায়, ১২ জুন কিলিং মিশনের অন্যতম আসামি এরশাদ আলী পালিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার ধুবলিয়া থানার সিংহাটা গ্রামের বেলাল হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই যোগাযোগ চলে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হাবিবুরের সঙ্গে। এরপর হত্যার বিষয়টি জানাজানি হওয়া এবং অন্য দুই আসামি জোয়ার ও দীর্ঘদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়ানো নাঈম ২৫ জুন গভীর রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পরই হাবিবুর ভারতে পালিয়ে দোসর এরশাদের সঙ্গে মিলিত হন। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের মধ্যে জানাজানি হলে দুই দিন পর তারা সেখান থেকে পালিয়ে ভারতের কেরালা রাজ্যের একটি গ্রামে আশ্রয় নেন।

কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, দুই আসামি দেশের বাইরে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিধি মেনে তাদের আটকের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া হত্যার ঘটনায় জড়িত পাঁচজনের মধ্যে অন্য আসামি চিথলিয়া গ্রামের সবুজ মল্লিক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে জেলহাজতে আছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, দেব দত্তকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা ছিল আসামিদের। ঘটনার এক মাস আগে থেকে প্রতিবেশী জোয়ার ও হাবিবুর রহমান দেবের সঙ্গে মোবাইল ফোনে ভিডিও গেম খেলা ও ফাস্ট ফুডের খাবার দিয়ে সখ্য গড়ে তোলে। ৯ জুন সকালে দেব প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পথে পূর্বপরিকল্পনা মতো হাবিবুর ও জোয়ার মোটরসাইকেলে হেলমেট পরে বসে ছিলেন। পরে তারা দেবকে মোটরসাইকেলের মাঝখানে তুলে কাছেই হাবিবুরের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর দেব একটি অস্বাভাবিক অবস্থা বুঝতে পেরে জোয়ারকে বলে, ‘কাকু, আমি তো পড়তে যাব। আমাকে ছেড়ে দাও।’ কিন্তু দেবকে হাবিবুরের শোবার ঘরে নিয়ে হাবিবুর, জোয়ার, এরশাদ, নাঈম ও সবুজ শলাপরামর্শ শেষে ঘটনার আধা ঘণ্টার মধ্যে শ্বাসরোধে হত্যা করে। তখন হাবিবুর ও এরশাদ রাস্তায় টহল দিচ্ছিল। লাশটি গুম করতে সকাল ১০টায় বস্তাবন্দি করে আমের কার্টনে ঢুকিয়ে পাশে নাঈমের বাড়িতে নিয়ে যান তারা। তার বাড়ির শৌচাগারে সাপ দেখা গেছে, এমন গল্প বানিয়ে নাঈম, সবুজ ও হাবিবুর এর পাশেই একটি কুয়া খোঁড়েন। এরপর কুয়ায় দেবের বস্তাবন্দি লাশ রেখে মাটি চাপা দেন।

এদিকে এরশাদ ও জোয়ার মিরপুর উপজেলার নিমতলা বাজারে এসে দেবের বাবা পবিত্র দত্তের কাছে মোবাইল ফোন করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চান। কিছুক্ষণ পরই জোয়ার গিয়ে দেবের পরিবারের সদস্যদের আস্থাভাজন হওয়ার চেষ্টা করেন।

এরই মধ্যে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন দেবকে উদ্ধারে ব্যাপক তৎপর হয় এবং মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে ১১ জুন সিমটির মালিক চিথলিয়ার জুয়েলকে আটক করে পুলিশ।

উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত মিরপুর-ভেড়ামারা সার্কেলের এএসপি নূর-ই-আলম সিদ্দিকীর জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল জানান, মোবাইল ফোনসেটসহ তার সিমটি চিথলিয়ার হাটে হারিয়ে যায়।

পুলিশের ব্যাপক অনুসন্ধান ও দেবের পরিবারের সন্দেহের পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ জুন সকালে আটক জোয়ার অপহরণ ও হত্যার সব ঘটনা খুলে বলে পুলিশের কাছে।

২৫ জুন দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে ব্যাপক পুলিশের উপস্থিতিতে নাঈমের বাড়ির শৌচাগারের কুয়া থেকে দেব দত্তের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

পলাতক আসামি এরশাদ ও হাবিবুর দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বৈধ-অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা জানান, এরশাদ ও হাবিবুর ভারতে একটা জঙ্গী সংগঠনের সাথে যুক্ত রয়েছে। এলাকায় আইন-শৃংখলার অবনতি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্য নিয়েই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। 

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71