রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
রবিবার, ৮ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
শিশু সাহিত্যিক সুকুমার বড়ুয়ার ৭৮তম জন্ম বার্ষিকী আজ
প্রকাশ: ০৪:১২ pm ০৫-০১-২০১৭ হালনাগাদ: ০৪:১২ pm ০৫-০১-২০১৭
 
 
 


প্রতাপ চন্দ্র সাহা ||

শিশু সাহিত্যিক এবং ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া (জন্মঃ- ৫ জানুয়ারি, ১৯৩৮)

তারপরে একদিন
পাকা চুল দেহক্ষীণ
কাল যায় ফুরিয়ে
কাজের যুবক যারা
এ-ভবনে ঢুকে তারা
বের হয় বুড়িয়ে।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছড়া রচনায় ব্যাপৃত রয়েছেন। বিষয়-বৈচিত্র্য, সরস উপস্থাপনা, ছন্দ ও অন্তমিলের অপূর্ব সমন্বয় তাঁর ছড়াকে করেছে স্বতন্ত্র। প্রাঞ্জল ভাষায় আটপৌরে বিষয়কেও তিনি ছড়ায় ভিন্নমাত্রা দেন। তাঁর ছড়া একাধারে বুদ্ধিদীপ্ত, তীক্ষ্ণ , শাণিত আবার কোমলও বটে।

পুরস্কার
বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৭)
ঢালী মনোয়ার স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯২)
বৌদ্ধ একাডেমী পুরস্কার (১৯৯৪)
বাংলাদেশ শিশু একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৭)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ ছাত্র সংসদ সম্মাননা (১৯৯৭)
অগ্রণী ব্যাংক শিশু সাহিত্য সম্মাননা (১৯৯৭)
জনকণ্ঠ প্রতিভা সম্মাননা (১৯৯৮)
আলাওল শিশু সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৯)
চোখ সাহিত্য পুরস্কার, ভারত (১৯৯৯)
নন্দিনী শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব (শিশু সাহিত্য) (২০০০)
আইরিন আফসানা ছড়া পদক (২০০২)
স্বরকল্পন কবি সম্মাননা পদক (২০০৪)
শিরি এ্যাওয়ার্ড (২০০৫)
শব্দপাঠ পদক (২০০৬)
বৌদ্ধ সমিতি যুব সম্মাননা (২০০৬)
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সম্মাননা (২০০৬)
অবসর সাহিত্য পুরস্কার (২০০৬)
মোহাম্মদ মোদাব্বের হোসেন আরা স্মৃতি পুরস্কার (২০০৭)
লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক (২০০৭)
রকিবুল ইসলাম ছড়া পদক (২০০৮)
লিমেরিক সোসাইটি পুরস্কার (২০০৯) 
রাউজান ক্লাব সম্মাননা (২০০৯)
কবীর চৌধুরী শিশু সাহিত্য পুরস্কার (২০১০)

জন্ম এবং পরিবার
সুকুমার বড়ুয়ার জন্ম চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে। তাঁর বাবার নাম সর্বানন্দ বড়ুয়া এবং মা কিরণ বালা বড়ুয়া। চট্টগ্রামের গহিরা গ্রামের শিক্ষক প্রতাপ চন্দ্র বড়ুয়ার মেয়ে ননী বালার সাথে ১৯৬৪ সালে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন। ব্যক্তিগত জীবনে সুকুমার বড়ুয়া তিন মেয়ে এবং এক ছেলের জনক।

পড়াশুনা
বর্ণজ্ঞান থেকে প্রথম শ্রেণী পর্যন্ত তিনি মামা বাড়ির স্কুলে পড়াশোনা করেছেন৷ এরপর বড় দিদির বাড়িতে এসে তিনি ডাবুয়া খালের পাশে 'ডাবুয়া স্কুল' এ ভর্তি হন৷ কিন্তু সেই স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর তাঁর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়।

কর্মজীবন
অল্প বয়স থেকেই তিনি বিভিন্ন সময় মেসে কাজ করেছেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য একটা সময় তিনি ফলমূল, আইসক্রিম, বুট বাদাম ইত্যাদি ফেরী করে বিক্রি করেছেন৷ ১৯৬২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে চৌষট্টি টাকা বেতনের চাকুরী হয় তাঁর৷ ১৯৭৪ সালে পদোন্নতি হয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৯৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

সাহিত্য কর্ম
পাগলা ঘোড়া (১৯৭০, বাংলা একাডেমী)
ভিজে বেড়াল (১৯৭৬, মুক্তধারা)
চন্দনা রঞ্জনার ছড়া (১৯৭৯, মুক্তধারা)
এলোপাতাড়ি (১৯৮০, বাংলা একাডেমী)
নানা রঙের দিন (১৯৮১, শিশু একাডেমী)
সুকুমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া (১৯৯১, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র)
চিচিং ফাঁক (১৯৯২, ওলট পালট প্রকাশনী)
কিছু না কিছু (১৯৯৫, বিশাখা প্রকাশনী)
প্রিয় ছড়া শতক (১৯৯৭, মিডিয়া)
বুদ্ধ চর্চা বিষয়ক ছড়া (১৯৯৭, সৌগতঃ ভিক্ষু সুনন্দ প্রিয় )
ঠুস্ঠাস্ (১৯৯৮, প্রজাপতি প্রকাশন)
নদীর খেলা (১৯৯৯, শিশু একাডেমী)
আরো আছে (২০০৩, আরো প্রকাশন)
ছড়া সমগ্র (২০০৩, সাহিত্যিকা)
ঠিক আছে ঠিক আছে (২০০৬, প্রবাস প্রকাশনী, লন্ডন)
কোয়াল খাইয়ে (২০০৬, বলাকা, চট্টগ্রাম)
ছোটদের হাট - (২০০৯, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী)
লেজ আবিষ্কার - (২০১০, প্রথমা প্রকাশন) 
ছড়াসাহিত্যিক সুকুমার বড়ুয়া সম্মাননা গ্রন্থ (২০১১)

মুক্তিসেনা
সুকুমার বড়ুয়া
ধন্য সবাই ধন্য
অস্ত্র ধরে যুদ্ধ করে
মাতৃভূমির জন্য।
ধরল যারা জীবন বাজি
হলেন যারা শহীদ গাজি
লোভের টানে হয়নি যারা
ভিনদেশিদের পন্য।
দেশের তরে ঝাঁপিয়ে পড়ে
শক্ত হাতে ঘায়েল করে
সব হানাদার সৈন্য
ধন্য ওরাই ধন্য।
এক হয়ে সব শ্রমিক কিশাণ
ওড়ায় যাদের বিজয় নিশান
ইতিহাসের সোনার পাতায়
ওরাই আগে গণ্য।

নেই

দিনদুপুরে ঘর-ডাকাতি
পানি তোলার লোটাও নেই
সর্ষে-তেলের বোতল গায়েব
তেল তাতে এক ফোঁটাও নেই,
সরু চালের ভাণ্ড উজাড়
চাল তাতে আর মোটাও নেই
তিনটে গেল মিষ্টি কুমোড়
তার কোনো এক বোঁটাও নেই,
ছাগল বাঁধার দড়ি গেছে
দড়ির মাথায় খোঁটাও নেই,
আরেক মাথায় ছাগল ছিল
এখন দেখি ওটাও নেই।

শাখা

ক-শাখা, খ-শাখা
গ-শাখা, ঘ-শাখা
দুপুরের ছুটিতে
নুন দিয়ে শশা খা
পরীক্ষায় ফেল হলে
হাঁ করে মশা খা।

ছত্রচ্ছায়া

ঢাকার পথে চলতে হলে
সারা বছর ধরুন ছাতা,
ওপরতলার ময়লা পানি
কিংবা কাকের কাণ্ড যা-তা।
নিচের দিকে তাকিয়ে দেখুন
ম্যানহোলে বাঁশ আছে গাঁথা,
আরও আছে ইট পাথর কি
মাংস-বর্জ্য পাখির মাথা।

শরীর হলে অপবিত্র
পাবেন না তো কলের পানি,
হুঁশ করে তাই বাইরে যেতে
সঙ্গে নেবেন ছত্রখানি।

ডাটা সংবাদ

পুঁইয়ের ডাঁটা লাউয়ের ডাঁটা
বায়োডাটার ঝোল,
ডাটা প্রসেস করতে হলে
কম্পিউটার খোল।
ডাঁটার পাগল বুড়োবুড়ি
ক্যালসিয়ামে ভরা,
শজনেডাঁটায় গুণ বেশি তাই
বাজার ভীষণ চড়া।
উচ্চতর ডিগ্রি নিতে
ডাটাই পরম ধন,
সারা বছর খেটে করেন
ডাটা কালেকশন।
ডালের সাথে মাছের সাথে
যেমন ডাঁটা চলে,
গবেষকের ডাটা আবার
অন্য কথা বলে।

আনিকা ও শারিকা

ওই আমাদের আনিকায়
মিষ্টি বাখরখানি খায়
সর্দি হলে বরফ দিয়ে
গরম গরম পানি খায়।
তার যে সাথি শারিকায়
ভাত দিয়ে তরকারি খায়
তাড়াতাড়ি চলতে গিয়ে
মাথায় মাথায় বাড়ি খায়।

ঠিক আছে

অসময়ে মেহমান
ঘরে ঢুকে বসে যান
বোঝালাম ঝামেলার
যতগুলো দিক আছে
তিনি হেসে বললেন
ঠিক আছে ঠিক আছে।

রেশনের পচা চাল
টলটলে বাসি ডাল
থালাটাও ভাঙাচোরা
বাটিটাও লিক আছে
খেতে বসে জানালেন
ঠিক আছে ঠিক আছে।

মেঘ দেখে মেহমান
চাইলেন ছাতা খান
দেখালাম ছাতাটার
শুধু কটা শিক আছে
তবু তিনি বললেন
ঠিক আছে ঠিক আছে।

দারুণ খবর জানাই

চাটগাঁ থেকে ঢাকার বুকে
অতিথি, নাম-সানাই
ঘরে আছে বাবা শুধু
সকাল থেকে মা নাইÑ
চালের গুঁড়ো গুড়বা কোথায়
কিসের পিঠা বানাই?
ঠিক করি তাই দোকান থেকে
খাবার কিনে আনাই,
গিয়ে শুনি সেই দোকানে
নাস্তা পানি চা নাই!

মাপের হিসাব
আচ্ছা আচ্ছা আচ্ছা
ছটাক-তোলা-কাচ্চা
সরিয়ে দিলো সব কিছুকে
দশমিকের বাচ্চা,
তাইতো অবাক ছাগল ছানা
আর মুরগির পাঁচ ছা-
আচ্ছা আচ্ছা আচ্ছা।

রসনার বাসনা
তোর আব্বাতো মোরাব্বা খান
খান না ওটা তোর মা
সকাল বিকাল খান যে শুধু
কোপ্তা পোলাও কোর্মা
রসের মালাই খাজা-গজা
পাইনি ওসব খাবার মজা
পান্তা খেতে বলছি ‘দুটো
শুকনা মরিচ পোড় মা’।

পন্ডিত
নাম কি দাদার?
নন্দ ঘোষ
কী নিয়ে যান?
শব্দ কোষ।
যাবেন কোথায়?
কাঠপট্টি
বয়স কতো!
আটষট্টি।

ছড়ার জোরে
ঘুমের মানুষ জাগিয়ে তোলে
ঠাণ্ডা মানুষ রাগিয়ে তোলে
বন্ধ থাকা কলের চাকা
বনবনিয়ে জোরসে ঘোরে
ছড়ার জোরে! ছড়ার জোরে!
কঠিন ব্যাধি সারিয়ে তোলে
সুখ সুবিধা বাড়িয়ে তোলে
সৎ মানুষের ভাগ্য ফেরায়
মন্দ লোকের কপাল পোড়ে
ছড়ার জোরে! ছড়ার জোরে!
থামিয়ে ফেলে ঝগড়া ঝাঁটি
বন্ধ করে কান্নাকাটি
বিমান কামান সবই থামান
হিংসা বিরোধ শূন্যে ওড়ে
ছড়ার জোরে! ছড়ার জোরে!
.
জাদু ভবন
এমএ বিএ পাশ করে
টাকা-কড়ি নাশ করে
ঘুরে ঘুরে হন্য
ভবনের এককোনে
ঠাঁই পেয়ে মনে মনে
হয়ে যায় ধন্য।
সেজেগুজে টিপটপ
আসে যায় দপাদপ
যেন রাজপুত্তুর
পকেটের গহ্বরে
মাসে মাসে টাকা ভরে
তেরশ' বাহাত্তুর।
তারপরে একদিন
পাকা চুল দেহক্ষীণ
কাল যায় ফুরিয়ে
কাজের যুবক যারা
এ-ভবনে ঢুকে তারা
বের হয় বুড়িয়ে।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71