বুধবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৯
বুধবার, ১০ই মাঘ ১৪২৫
 
 
শুভ জন্মদিন স্যার ফজলে হাসান আবেদ
প্রকাশ: ০৬:৩৫ pm ২৭-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ০৬:৩৫ pm ২৭-০৪-২০১৭
 
 
 


জীবনী ডেস্ক::  কীর্তিমান মানুষ তিনি। স্বাপি্নক দূরদৃষ্টি, অদম্য একাগ্রতা ও গতিশীলতা নিয়ে রয়েছেন এই দেশ, মাটি, মানুষের সঙ্গে। তিনি_ স্যার ফজলে হাসান আবেদ আজ পা রাখছেন ৮২ বছরে। ১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার

নেতৃত্বে ও একাগ্র প্রচেষ্টায় দারিদ্র্য দূর করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি (ব্র্যাক) গত চার দশকের মধ্যে পরিণত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১১টি দেশে ব্র্যাকের এক লাখ ২০ হাজার কর্মী পরিবর্তন ঘটিয়ে চলেছেন ১৪ কোটি মানুষের জীবনে।

দারিদ্র্য বিমোচনে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ ২০১০ সালে ব্রিটেনের অন্যতম সম্মানজনক উপাধি

'নাইট' পান। ২০১১ সালে অর্জন করেন কাতার ফাউন্ডেশন প্রবর্তিত শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশ্বের সর্বোচ্চ পুরস্কার 'ওয়াইজ প্রাইজ'। এগুলো ছাড়াও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অসংখ্য পুরস্কার এবং সম্মাননা পেয়েছেন তিনি সামাজিক ক্ষেত্রে অনন্যসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে।

ফজলে হাসান আবেদ পাবনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ব্রিটেনের গল্গাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেভাল আর্কিটেকচার বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পরে তিনি লন্ডনের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টসে ভর্তি হন। ১৯৬২ সালে তিনি তার প্রফেশনাল কোর্স শেষ করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে দেশে ফিরে ফজলে হাসান আবেদ শেল অয়েল কোম্পানিতে যোগ দেন এবং দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে ফাইন্যান্স বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৭০ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এ সময় তিনি শেল অয়েল কোম্পানিতে কর্মরত থাকলেও বন্ধুদের নিয়ে 'হেলপ' নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলে ঘূর্ণি-উপদ্রুত মনপুরা দ্বীপের অধিবাসীদের পাশে দাঁড়ান।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় ফজলে হাসান আবেদ ইংল্যান্ডে গিয়ে 'অ্যাকশন বাংলাদেশ' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। তিনি এ সংগঠনের মাধ্যমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায়, তহবিল সংগ্রহ ও জনমত গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি তিনি সদ্যস্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে কাজ করার উদ্যোগ নেন। এ সময় তিনি তার লন্ডনের ফ্ল্যাট বিক্রি করে দেন এবং সেই অর্থ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শাল্লা এলাকা থেকে 'বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন অ্যাসিসট্যান্স কমিটি' বা ব্র্যাকের যাত্রা শুরু হয়। পরের বছর ত্রাণ তৎপরতার গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে তার নেতৃত্বে এটি বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্স কমিটি বা ব্র্যাক নামে অভিযাত্রা শুরু করে।

বিশ্ব জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান এবং দরিদ্র মানুষের সুরক্ষায় কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য স্যার ফজলে হাসান আবেদ ২০১৬ সালে 'টমাস ফ্রান্সিস জুনিয়র মেডেল অব গ্গ্নোবাল পাবলিক হেলথ' পদক পান। খাদ্য ও কৃষিক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৫ সালে বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার, ২০১৪ সালে লিও তলস্তয় আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক ও ২০১৩ সালে হাঙ্গেরির 'সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি' (সিইইউ) প্রদত্ত 'ওপেন সোসাইটি প্রাইজ' পান। ২০১৪ সালে তিনি স্পেনের সর্বোচ্চ বেসামরিক নাগরিক সম্মাননা 'অর্ডার অব সিভিল মেরিট' পান। এ ছাড়াও তিনি ২০০৭ সালে প্রথম ক্লিনটন গ্গ্নোবাল সিটিজেন অ্যাওয়ার্ড, ২০০৪ সালে মানব উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় ইউএনডিপি মাহবুবুল হক মানব উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড, ২০০১ সালে ওলফ পাম অ্যাওয়ার্ড, ১৯৯২ সালে ইউনিসেফ মরিস পেট অ্যাওয়ার্ড, ১৯৮০ সালে র‌্যামন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড ফর কমিউনিটি লিডারশিপ লাভ করেন। তিনি অশোকার সম্মানজনক গ্গ্নোবাল একাডেমি ফর সোশ্যাল এনট্রাপ্রেনিওরশিপের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এ ছাড়াও তিনি সম্মানসূচক একাধিক ডিগ্রি পেয়েছেন। এগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ডক্টরেট অব লেটার্স (২০০৯), যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টর অব ল (২০০৮), ইয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট অব হিউম্যান লেটারস (২০০৭), প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি (২০১৪), যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি (২০১২), বাথ ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টর অব লজ (২০১০), অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টর অব লেটার্স (২০০৯), কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টর অব লজ (১৯৯৪) উল্লেখযোগ্য

 

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71