রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
রবিবার, ৫ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
শোভন-রাব্বানীকে চ্যালেঞ্জ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ: ১০:০৯ am ০২-০৮-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:০৯ am ০২-০৮-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ তরুণ নেতৃত্ব গঠনের বড় চ্যালেঞ্জ তুলে দিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি মো. রেজানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর হাতে।

প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ আওয়ামী লীগের বেশ ক’জন নেতা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘নেত্রীর যে ভালোবাসা এ ছাত্রলীগের প্রতি, এবারের কমিটি গঠনে তার বিভিন্ন পদক্ষেপ ও মনোযোগে তা ফুটে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের মাঝেই আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব খুঁজছেন।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দফায় দফায় নিজস্ব সংস্থা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য প্রার্থীদের খোঁজ নিয়েছেন। যোগ্যতা, আস্থা, আনুগত্য ও তারুণ্যের আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান এমন বেশ ক’জন প্রার্থী থেকে তাদের দুজনকে চূড়ান্ত করেছেন। ছাত্রলীগের রাজনীতিকে এবারের কমিটির মাধ্যমে কোটারিমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যাশা নতুন কমিটির মাধ্যমে ছাত্রলীগ নিজস্ব ধারায় ফিরে যাবে।

কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাবি ছাত্রলীগে আঞ্চলিকতা ও সবাই আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এমন প্রশ্নে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী যোগ্যতা দেখেছেন। অতীত কর্মকাণ্ড দেখেছেন। এতে বিভাগ বা আঞ্চলিকতা মুখ্য নয়; যোগ্যতাই মুখ্য।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এসব নেতা বলেন, আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কোটা সংস্কার দাবির আন্দোলন ও সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে তরুণদের আন্দোলনে গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি-সম্পাদককে। ছাত্রলীগের রাজনীতি শুধু সভাপতি-সম্পাদক কেন্দ্রিক না রেখে সর্বত্র ছাত্র রাজনীতির চর্চার সুযোগ দিতে হবে। মূলধারার গণরাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শুধু সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককেই ছাত্রলীগ মনে করেন না। জাতীয় রাজনীতিতে যাদের তিনি টেনে নেন সে চিত্র দেখলেই তার প্রমাণ পাওয়া যায়। 

সূত্র জানায়, বিগত নয় বছরে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব গঠন ও কার্যক্রমে বিভিন্ন অসঙ্গতি চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময়ে এত বড় সংগঠনে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া কেউ রাজনীতি চর্চার সুযোগ পায়নি। এ কারণে বিগত সময়ের দুজন বঞ্চিত নেতাকেই বর্তমান কমিটির শীর্ষপদে আনা হয়েছে। সভাপতি রেজানুল হক চৌধুরী শোভন যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ছাত্রলীগে কোণঠাসা ছিলেন দীর্ঘদিন। মেধা ও দক্ষতা থাকার পরও কেবল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পরিচয় বয়ে বেড়াতে হয়েছে। 

রেজানুল হক শোভন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে থাকতেন। কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর ছেলে শোভনের পরিবারের অন্যরাও আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত। তার দাদা শামসুল হক চৌধুরী গণপরিষদ সদস্য ও এমপি ছিলেন। কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল হক বাকশালের গভর্নর ছিলেন। শোভনের বাবা নুরুন্নবী চৌধুরী ভুরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

নতুন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ছাত্ররাজনীতির শুরুতে বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। সেবারও প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন। পরে সদ্য বিদায়ী কমিটির আগের কমিটির কেন্দ্রীয় উপসম্পাদক হন। তারপর কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রার্থী হয়ে সেবারও ছিটকে পড়েন। তখন সভাপতি হন মাদারীপুরেরই সাইফুর রহমান সোহাগ। পরে সদ্য বিদায়ী কমিটির শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। এ সময় সামাজিক ও মানবিক কাজে জড়িয়ে পড়েন রাব্বানী। 

গত ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অন্যবার সম্মেলনে নামকাওয়াস্তে একটি ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হলেও এবার সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রার্থীরা নিজেরা সমঝোতায় আসতে না পেরে সবাই দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে। শত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রধান ৩২৩ জন প্রার্থীর সবার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থাও প্রার্থীদের বিষয়ে খোঁজ নেয়। শীর্ষ তালিকায় উঠে আসে ১০ জন প্রার্থীর নাম। সেখান থেকে এ দুজনকে দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। 

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71