বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
বৃহঃস্পতিবার, ৯ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
শ্যামনগরে বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় প্রজাতির রয়না, খলিশা, মহাশোল মাছ
প্রকাশ: ০৯:০৯ pm ২৪-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:০৯ pm ২৪-০৭-২০১৭
 
রনজিৎ, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :
 
 
 
 


এক সময়ে বলা হতো গ্রাম গঞ্জে কৃষকের বাড়ীতে গোলা ভরা ধান ছিল, পুকুর ভরা মাছ ছিল। কিন্ত এ গুলি এখন শুধু প্রবাদ বাক্য হিসেবে রয়ে গেছে। 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ঘটছে এ প্রবাদ বাক্যেটির উল্টোটি । শ্যামনগর উপজেলায় গোলা শুণ্য ধান, পুকুর শুণ্য মাছ। এ উপজেলাটি সাদা সোনা নামে খ্যাত হওয়ায় লবন পানিতে চিংড়ী হচ্ছে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে কম বেশী লবন পানির চিংড়ী ঘের রয়েছে। এর ফলে মিষ্টি পানির মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে।

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী শ্যামনগরে ১৫৬৫৫টি বাগদা চিংড়ীর ঘের রয়েছে যার আয়তন ১৭৪৪২ হেক্টর। ২৩৬টি গলদা চিংড়ীর ঘের আছে যার আয়তন ১২৫.২ হেক্টর। এ সকল চিংড়ী ঘের থেকে উৎপাদনের পরিমান ৮০৯৯.৯ মেট্রিকটন ও গলদা চিংড়ী থেকে উৎপাদনের পরিমান ১১৯.৯ মেট্রিক টন। উপজেলায় চিংড়ীর পাশাপাশি একই সাথে উৎপাদিত সাদা মাছের  (ভেটকি, খয়রা, তেলাপুয়ে প্রভূতি) পরিমান ৮১০৪ মেট্রিক টন। 

এ ছাড়া শ্যামনগর উপজেলায় ১০২৪ টি কাঁকড়ার খামার রয়েছে যার আয়তন ৬২ হেক্টর এবং উৎপাদিত কাঁকড়ার পরিমান ৬১.৩৮মেট্রিক টন। রয়েছে বাগদা হ্যাচারী, কার্প হ্যাচারী, মনোসেক্স তেলাপুয়ের হ্যাচারী, মৎস্য আড়ত, মাছের ডিপো, বরফ তৈরী কল, মাছ প্রসেসিং ফ্যাক্টরী সহ অন্যান্য প্রতিষ্টান। শ্যামনগরের মৎস্য সম্পদ বিদেশে রপ্তানী করা হয়।  এ সব মৎস্য সম্পদ থেকে উপজেলায় প্রতিবছর রাজস্ব আয় হয় বেশ। উপজেলায় বাগদা চিংড়ীর প্রতি কেজি মূল্য ৪৫০টাকা থেকে ৫৫০টাকা। সাদা মাছের প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০টাকা। এ সকল মাছের মূল্য কম বেশী হয়ে থাকে।


প্রবীন ব্যক্তিদের ভাষ্য মতে শ্যামনগর  উপজেলায়  ৮০এর দশক থেকে চিংড়ী চাষ শুরু হয়। বর্তমানে এ লবন পানির চিংড়ীচাষ ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। লবন পানিতে চিংড়ী চাষ হওয়ায় শুকনো মৌসুমে লবণাক্ততার পরিমানও বেড়ে গেছে। লবনাক্ততা বৃদ্ধির ফলে কৃষি জমির ফসল উৎপাদন কমেছে। গো-খাদ্য, সুপেয় পানির সংকট সহ অন্যান্য সংকট বেড়ে গেছে। বৃক্ষরাজি,ধানের জমি কমে গেছে। মিষ্টি পানির মাছ কমেছে। এমনকি অনেক মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে।

শ্যামনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা শিক্ষক রনজিৎ দেবনাথ, চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক জয়দেব বিশ্বাস বলেন, শ্যামনগর উপজেলা থেকে মিষ্টি পানির মাছ খলিশা, রয়না, বোয়াল, চাঁদা মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে। এর মধ্যে খলিশা মাছ একবারে হারিয়ে গেছে। 

শিল্পী তরুণ কর্মকার, নাট্য শিল্পী প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, মিষ্টি পানির মাছ যুবতী চিংড়ী, রুপ চাঁদা, বাইন হারিয়ে যেতে বসেছে। এ সকল মাছ হারিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে লবন পানির প্রভাব, নদনদীতে কারেন্ট জালের ব্যবহার, ফসলের জমিতে ব্যাপক হারে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহারকে দায়ী মনে করেন তারা। তবে তারা ভারতীয় কীটনাশকের ভয়াবহতাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেন, এ কীটনাশকের ক্রিয়া বেশ কয়েক বছর থেকে যায়।

উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল বলেন, শ্যামনগর উপজেলার নদ-নদীতে লবনাক্ততার পরিমান ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। লবন পানির চিংড়ী চাষ এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় লবনাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার ফারুক হোসাইন সাগরের উক্তি, শ্যামনগর উপজেলাটি মৎস্য সম্পদে ভরপুর। এ উপজেলায় চিংড়ী চাষের প্রভাব বেশী এর পাশাপাশি সাদা মাছ, কাঁকড়া উৎপাদন হয়ে থাকে যা থেকে রাজস্ব আয় হয়ে থাকে। তিনি বলেন, এ উপজেলায় যে সকল মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে তাদের মধ্যে রয়েছে মহাশোল, রয়না ও খলিশা মাছ। দেশী পাঙ্গাশ, দেশী কই সহ কয়েকটি মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে। এ সকল মাছ হারিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে মাছের আবাসস্থল নষ্ট হয়েছে বা হচ্ছে। নদী ও  জলাশয় সমূহ ভরাট হয়ে যাওয়া, জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা তৈরী করা সহ অন্যান্য বিষয় এর মূখ্য কারন।

এলাকার অভিজ্ঞ মহলের মতে বিলুপ্ত ও বিলুপ্ত প্রায় মৎস্য সম্পদকে টিকিয়ে রাখতে হলে মাছের অভয়াশ্রম তৈরী করতে হবে, কীটনাশক প্রয়োগ করে মাছ মারা নিষিদ্ধ করতে হবে ও কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, খাল, নদ-নদী পুণঃখনন করতে হবে, দেশীয় প্রজাতির পোনা মজুত করা, ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুর, ডোবা বন্ধে আইন প্রনয়ন করা, মৎস্য সম্পদের উপর গবেষনার ব্যবস্থা করা ,কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।

সর্বশেষ অনেকে মতামত প্রকাশ করে বলেন বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এ উপজেলার মৎস্য সম্পদের অবদান একবারে কম নয় তাই মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে তথা পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ও অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে উপজেলার মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে সরকারী-বেসরকারী ভূমিকা প্রয়োজন। 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71