বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
বুধবার, ৮ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
শ্রীকৃষ্ণের গীতার বাণীর সাথে একমত দুই মার্কিন পদার্থবিদ
প্রকাশ: ০৮:৪২ pm ০৭-০৪-২০১৮ হালনাগাদ: ০৮:৪২ pm ০৭-০৪-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছিলেন, নৈনং ছিন্দন্তি শস্ত্রানি নৈনং দহতি পাবকঃ। ন চৈনং ক্লেদয়ন্ত্যাপো ন শোষয়তি মারুতঃ॥ অর্থাৎ, হে অর্জুন, এই আত্মাকে শস্ত্রাদি কাটতে পারে না। একে অগ্নি দগ্ধ করতে পারে না। একে জল আর্দ্র করতে পারে না এবং বায়ু শুষ্ক করতে পারে না।

সম্প্রতি দুই মার্কিন পদার্থবিদ ডক্টর স্টুয়ার্ট হ্যামারহফ এবং পদার্থবিদ স্যার রজার পেনরোজের দাবি, আত্মা মস্তিষ্কের ‘মাইক্রোটিবিউলে’ থাকে। এমন কি শরীরের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া তথ্যরূপী আত্মা মস্তিষ্কের মাইক্রোটিবিউলে আবার ফেরত যেতে পারে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছিলেন, প্রাণী সকল জন্মের পূর্বে অব্যক্ত অর্থাৎ শরীর রহিত, মৃত্যুর পরেও শরীর বর্জিত কেবল মধ্য সময়ে শরীর যুক্ত হয়। 

মরগ্যান ফ্রিম্যান এর উপস্থাপনায় মার্কিন বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যচিত্রের সম্প্রচারমাধ্যম সায়েন্স চ্যানেলে সম্প্রচারিত ওই দুই পদার্থবিদের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে কয়েকটি বিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট সম্প্রতি এই বক্তব্যকে সামনে এনেছে। তারা এই প্রক্রিয়াটিকে ‘অর্কেস্ট্রেটেড অবজেক্টিভ রিডাকশন’ বা ‘অর্ক-অর’ নামে অভিহিত করেছেন। মানুষ যখন মারা যায় (ক্লিনিক্যালি ডেড) তখন মস্তিষ্কের মাইক্রোটিবিউলগুলোর অবস্থা পরিবর্তীত হতে থাকে, যদিও তাদের তথ্য ধরে রাখার সক্ষমতা তখনও থেকে যায়। শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছিলেন, অন্তবন্ত ইমে দেহা নিত্যস্যোক্তাঃ শরীরিনঃ। আনশিনোহপ্রমেয়স্য তষ্মাদ্ যুধ্যস্বভারত॥ অর্থাৎ, আত্মা যে দেহকে আশ্রয় করে অবস্থান করেন, সেই দেহ নশ্বর বলে কথিত হয়েছে। কিন্তু আত্মা নিত্য, বিনাশ রহিত ও প্রমাণের অতীত। অতএব হে অর্জুন যুদ্ধ করো। 

দ্যা সায়েন্স চ্যানেলের সম্প্রচারিত তথ্যচিত্র ‘থ্রু দ্যা ওয়ার্মহোলে’ ডক্টর হ্যামারহফ বলেছেন, ‘ধরুন হৃৎপিণ্ড কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। রক্ত প্রবাহও থেমে গেছে। তখন মাইক্রোটিবিউলগুলোও তাদের তথ্য ধরে রাখার সক্ষমতা হারাতে থাকে। কিন্তু মাইক্রোটিবিউলগুলোতে থাকা কোয়ান্টাম তথ্য একেবারে হারিয়ে যায় না। কারণ সেটাকে ধ্বংস করা যায় না। তা মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।’ তেমনি শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন, ন জায়তে রয়িতে বা কদাচিৎ-নায়ং ভূত্বা ভবিতা বা ন ভূয়ঃ। অজো নিত্যঃ শাশ্বতোহয়ং পুরানো ন হন্যমানে শরীরে॥ অর্থাৎ, এই আত্মা কখনো জন্মেন না বা কদাচ মরেন না। অন্যান্য জাত বস্তুর ন্যায় তিনি যে জন্ম লাভে অস্তিত্ব লাভ করেন তাও নয়। তিনি জন্মরহিত, সর্বদা একরূপ, বিনাশরহিত ও পুরান। শরীর হত হলেও তিনি হত হন না।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ‘কোমায় থাকা ব্যক্তি যদি চেতনা ফিরে পান তখন ওই কোয়ান্টাম তথ্য আবার কোষের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। ওইরকম সময়েই কোমা থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা বলেন যে তারা মৃত্যুকে অনুভব করেছেন। আর যদি ব্যক্তিটি কোমা থেকে ফিরে না আসেন, সেক্ষেত্রে তার মস্তিষ্কে থাকা কোয়ান্টাম তথ্য তার শরীরের বাইরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছড়িয়ে পড়ে আত্মা হিসেবে।’

বিডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71