মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১০ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন
প্রকাশ: ১২:২৯ pm ২৭-১১-২০১৭ হালনাগাদ: ১২:২৯ pm ২৭-১১-২০১৭
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা পুরুষ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে এদেশের সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন। সে ডাকে এদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কিন্তু ঘরে বসে থাকেননি, তারাও সেদিন এদেশের সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বাঙালি মুক্তির আন্দোলনে। ফলশ্রতিতে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি লাভ করে মুক্তির স্বাদ। অতঃপর ১৯৭২ সালে জাতির পিতার হাত ধরেই আসে এদেশের প্রথম সংবিধান। যার চারটি মূলনীতির অন্যতম একটি ছিল- ধর্মনিরপেক্ষতা।

কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, জাতির পিতা শাহাদাতবরণের পরই আবার এদেশের মাটিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচড়া দিয়ে ওঠে এবং নানা সময়ে নানা অজুহাতে তারা এদেশের শান্তিপ্রিয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চালিয়েছে বর্বরোচিত নৃশংসতা, যা এখনো বর্তমান। সর্বশেষ ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতির পিতার স্নেহধন্য কন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা একযোগে হামলা চালায় রামুর ঐতিহ্যবাহী ১২টি বৌদ্ধবিহার ও বৌদ্ধপল্লীতে। এরপর জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়-পরবর্তী দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর শুরু হয় আরেকটা তাণ্ডব। তারপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন-পরবর্তী হামলার ঘটনাও সুবিদিত। যশোরের অভয়নগরের মালোপাড়ার সে ঘৃণ্য ঘটনাই তার সাক্ষী। এরপর ২০১৫ সালে শুরু হয় সংখ্যালঘুদের ওপর নতুন আঙ্গিকে আক্রমণ। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তথ্য মতে, কেবল ২০১৫-তেই সংখ্যালঘুদের ওপর ২৬২টি হামলার ঘটনা ঘটে। ৩০ অক্টোবর ২০১৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় ২ শতাধিক হিন্দু বাড়িঘর ও ১৫টি মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া পিটিয়ে আহত করা হয় বহু নারী-পুরুষকে। সর্বশেষ ১০ নভেম্বর ২০১৭, রংপুরের ঠাকুরপাড়া গ্রামে দিনদুপুরে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীরা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায়। এ অপশক্তি এভাবেই জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলার মাটিতে দিনের পর দিন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করার অভিপ্রায়ে কাজ করছে।

আমি আজ সরকারের কাছে বলতে চাই- ‘সংখ্যালঘুদের মাতৃভূমিতে বাঁচার ন্যায্য অধিকার দিন। তাদের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার না করে, মানুষ হিসেবে বিচার করুন। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে আলাদা আইন পাস করুন এবং তাদের স্বাধীন বাংলার মুক্ত বায়ুতে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে দিন। ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করে সংখ্যালঘুদের সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হোন। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর গড়ে ০.৫% হারে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। আর এভাবে চলতে থাকলে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে এ সোনার বাংলার মাটি থেকে শেষ সংখ্যালঘুর অস্তিত্বটুকুও বিলীন হয়ে যাবে। সবশেষে, আমি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাই- রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার হরকলি ঠাকুরপাড়া গ্রামের নির্যাতিত এ সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনি সর্বপ্রকার সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন এবং প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবেন।

নিউটন মজুমদার

শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।

প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71