বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৩০শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
সংখ্যালঘুদের মন্দির ভাঙচুর ঘটনার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নাই
প্রকাশ: ০৬:৩৮ pm ৩০-০৫-২০১৭ হালনাগাদ: ০৬:৪৬ pm ৩০-০৫-২০১৭
 
 
 


জয়পুরহাট : জয়পুরহাটের বেল আমলা বারো শিবালয় মন্দিরে গত শুক্রবার রাতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা মন্দিরে ১২টি শিবশিলা ভাঙচুরের পাশাপাশি তাহাতে দাহ্য পদার্থ দ্বারা অগ্নিসংযোগ করে।

ভাঙিয়া ফেলে মূল মন্দিরের মাঝে স্থাপিত দেবতা মহাদেবের সঙ্গী গরু’র স্থাপনাটি। তাহা ছাড়া তুলসি বেদী, হনুমান মন্দির, কালী মন্দিরেও তাহারা হামলা চালায়। ফলে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

হিন্দু সমপ্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানান, মন্দিরটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য অন্যতম একটি ধর্মীয় তীর্থস্থান হিসাবে বিবেচিত। তাহা ছাড়া ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান হিসেবে পাঁচশত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরটির বিশেষ গুরুত্বও রহিয়াছে। নয়নাভিরাম এই মন্দিরটি দেখিবার জন্য বহু পর্যটক এইখানে আসেন। উল্লেখ্য যে, ১২টি মন্দিরে স্থাপিত ১২টি শিবশিলার এমন দর্শনীয় মন্দির দেশের আর কোথাও নাই।

 

সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় ও বাড়িঘর ভাঙচুর করিবার বিষয়টি নূতন বা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নহে। কালে কালেই ঘটিয়া আসিতেছে এহেন ন্যক্কারজনক ঘটনা। এই ধরনের ঘটনার নেপথ্যে ধর্মীয় আক্রোশ যতটা না কাজ করে, তাহার চাইতে বহুগুণে প্রাধান্য পায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও ব্যক্তিগত স্বার্থ সিদ্ধির বিষয়টি। বিশেষ করিয়া সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি গ্রাসের বিষয়টিকে প্রধান কারণ হিসাবে উল্লেখ করা যায়।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরিয়া দেশে সংখ্যালঘুদের উপর এই ধরনের ১৬টি হামলার ঘটনা ঘটে। অতর্কিত হামলা ও সম্পত্তি লুট, বাড়িঘর ও মন্দিরে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের কারণে অনেক সংখ্যালঘু পরিবার তখন তাহাদের বাড়িঘর ছাড়িতে বাধ্য হন। যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন ইউএসসিআইআরএফের ২০১৬ সালের প্রতিবেদনেও এই ধরনের ঘটনার নেপথ্য কারণ হিসাবে অবৈধভাবে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখলের বিষয়টিকে তুলিয়া ধরা হয়। ২০১৬ সালের অক্টোবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু-অধ্যুষিত গ্রামে হামলার ঘটনার তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও হিন্দুদের সম্পত্তি গ্রাসের সংশ্লিষ্টতা খুঁজিয়া পায়। সংখ্যালঘু বিশেষ করিয়া হিন্দু সমপ্রদায়েরও অনেকে তাহাই মনে করেন।

 

কিছু সংখ্যক ভূমিলিপ্সুর নিকট সংখ্যালঘু সমপ্রদায় কোনোভাবেই জিম্মি হইতে পারে না। বিচ্ছিন্ন হইতে পারে না দেশের সামপ্রদায়িক সম্প্রতির সেতুবন্ধন। তাই বিষয়টি লইয়া সরকারের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য হইয়া পড়িয়াছে। কেবল সর্বসাধারণের সহমর্মিতা বা সুবিবেচনার উপর বিষয়টি কোনোভাবেই ছাড়িয়া দেওয়া যায় না। ইহাতে কোনোদিনই বন্ধ হইবে না এই ধরনের পরিকল্পিত হামলার ঘটনা। কেননা, সম্পত্তি গ্রাসের লোভ কখনো নীতিকথা বা সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির বন্ধনজনিত সচেতনতা বোধ জাগ্রত করিবার মাধ্যমে দমনযোগ্য নহে। এই জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নাই। আমরা জানি, দেশে এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বর্তমান সরকার জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে বিশেষ সাফল্য দেখাইয়াছেন। তবে এই ক্ষেত্রে কেন অন্যথা হইবে?

এইবেলাডটকম /আরডি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71