মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
মঙ্গলবার, ১০ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
সংখ্যালঘুর মেঘলা দিন
প্রকাশ: ০৯:৫৯ am ০৪-১২-২০১৭ হালনাগাদ: ১০:০৮ am ০৪-১২-২০১৭
 
ডা. বিএম আতিকুজ্জামান 
 
 
 
 


 আজ অরলান্ডোতে মেঘলা দিন। ঠাণ্ডা মৃদুমন্দ বাতাস। গরমকাল শেষ। বৃষ্টির দিনও শেষ। বাড়ির পেছনের উঠোনে বসে সবুজ দেখছি। আমার মায়ের হাতে লাগানো গাছগুলো অনেক বড়ো এখন। দীঘির পাড়ে মৃদুমন্দ বাতাসের সাথে ওরা খেলছে।

 জেনি নামের প্রায় আশি ছুঁই ছুঁই এক ভদ্রমহিলা আমার অফিসে এসেছিলেন। জেনিকে দেখলেই আমার মায়ের কথা মনে হয়। তিনিও তাঁর মতো শিক্ষকতা করাতেন। তাঁর জন্ম নিউ ইয়র্ক। বড়ো হয়েছেন সেখানেই। খুব মমতাময়ী একজন মানুষ।

‘জেনি এদেশের সংখ্যালঘু কৃষ্ণাঙ্গ। ওর জীবনের পথচলা কখনই সহজ হয়নি। তাই যে কোন সংখ্যালঘুদের কষ্ট তাকে স্পর্শ করে।’ 

ব্রনক্স নামে সেখানের এক দরিদ্র এলাকাতে স্কুলে চাকরি করতেন তিনি। পোর্টারিকো নামের এক দ্বীপের প্রচুর গরিব লোকজন ওখানে থাকতো। তাদের বাচ্চাগুলোকে ইংরেজি শেখানো থেকে শুরু করে তাদের সামাজিক সমস্যা সমাধানের কাজগুলো তিনিই করতেন। নিজের পরিবারকে আগলে রেখে সারা দুনিয়ার মানুষের জন্য কাজ করে বেড়াতেন তিনি।
 খানিকটা আমার মায়ের মতো। অবসর নেবার পর নিউ ইয়র্কের ঠাণ্ডা ছেড়ে চলে এসেছেন এ শহরে। একমাত্র মেয়ে থাকেন ওখানে। সেই মেয়ে তাঁর নাতিপুতিদের নিয়ে ছুটিতে এখানে বেড়াতে আসেন। এখানে আসলে সেও তাঁর মায়ের খোঁজখবর নিতে তাঁর মায়ের সাথে আমার কাছে আসেন। জেনি খুব আত্মনির্ভর। তিনি আমাকে প্রায়ই বলেন যেদিন তিনি পরনির্ভর হবেন বিধাতা যেন তাকে তুলে নিয়ে যান। গতকাল জেনি বলল ইরমা নামের ঘূর্ণিঝড়ে যে সব পোর্টারিকান তাদের পরিচয়পত্র, ঘরবাড়ি হারিয়েছে তাদের জন্য ‘আই চেক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলেছেন তিনি।

এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি প্রায় তিনশো জনকে সাহায্য করেছেন। আমি তাঁর কাজে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। জেনি আমাকে জিজ্ঞেস করলো, “খবরে দেখলাম বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কিছু করছ তোমরা? আমি কিছু সাহায্য করতে চাই তাদের।” আমি নীরব হয়ে গেলাম।

জেনি এদেশের সংখ্যালঘু কৃষ্ণাঙ্গ। ওর জীবনের পথচলা কখনই সহজ হয়নি। তাই যে কোন সংখ্যালঘুদের কষ্ট তাকে স্পর্শ করে। ও ঝাঁপিয়ে পড়তে চায় তাদের জন্য। আমার মেয়ে যখন রোহিঙ্গাদের জন্য সবার কাছে সাহায্য চাইছিল জেনি তাঁর চার্চে যেয়ে কিছু পয়সা তুলে তার হাতে তুলে দিয়েছিল।

আমি জেনিকে কথা দিলাম ওকে জানাবো। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে, সংবাদপত্র আর খবরে এ ব্যাপারটি বেশ ঝড় তুলেছে। বাংলাদেশে আর অনেক ঘটনার সাথে এটিও হয়ত মিশে যাবে। হারিয়ে যাবে। আমি এখনো খুঁজছি এ সংখ্যালঘুদের সাহায্যের জন্য কেউ কোন উদ্যোগ নিয়েছেন কিনা। এদেশে তো আমরা সংখ্যালঘু। এরকম কি হতে পারে আমদের ভাগ্যে? দূরে কোথাও বিজলি চমকাল। এ মেঘলা দিনে বৃষ্টি হতেও পারে। মেঘলাদিনে কত কি মনে আসে। মেঘলা আকাশের কি আসে যায় তাতে?

লেখক : পরিপাকতন্ত্র ও লিভার বিভাগীয় প্রধান, ফ্লোরিডা হাসপাতাল, ফ্যাকাল্টি, কলেজ অব মেডিসিন, সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটি।


প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71