বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৩০শে কার্তিক ১৪২৫
 
 
হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মহাসমাবেশ
সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি
প্রকাশ: ১১:২০ am ২৯-০৯-২০১৮ হালনাগাদ: ১১:২০ am ২৯-০৯-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই সরকারের কাছে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও ধর্মবৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়নের ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। 

শুক্রবার বিকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে-সংখ্যালঘু-আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রক্ষায়’ মহাসমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

মহাসমাবেশ থেকে আরো দাবি জানানো হয়, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং ভূমি কমিশন কার্যকর করাসহ পার্বত্য শান্তিচুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নে অতি দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত সমতলের ‘আদিবাসীদের’ জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবাই মিলে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বর্জন এবং সংখ্যালঘু ‘আদিবাসী’ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত যে কোনো বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত বা সংখ্যালঘু নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত এমন ব্যক্তিকে মনোনয়ন না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় রাজনৈতিক দলগুলোকে।

জাতীয় সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

মহাসমাবেশে ৫ দফা ও ৭ দফা সম্বলিত এ ঘোষণা পাঠ করেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।

রানা দাশ গুপ্ত বলেন, আমরা সব রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে সুস্পষ্টভাবে জানাতে চাই, এমন কাউকে আপনারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেবেন না, যারা ইতঃপূর্বে জনপ্রতিনিধি হয়ে ও থেকে ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বার্থবিরোধী কোনোরূপ কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ লিপ্ত ছিলেন বা আছেন। এমন কাউকে নির্বাচনে প্রার্থী করা হলে আমরা তাদের ভোট দেব না। যদি কোনো নির্বাচরী এলাকায় কাউকে ভোট দেয়া সম্ভব না হয় তবে সেই নির্বাচনী এলাকায় প্রয়োজনে ভোট বর্জন করতে সংখ্যালঘু-আদিবাসী জনগোষ্ঠী বাধ্য হবে। এ পরিস্থিতির দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক দল ও জোটকে বহন করতে হবে। সংখ্যালঘু নির্যাতন, অগণতান্ত্রিক সাম্প্রদায়িক আচরণ ও কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেশের সব রাজনৈতিক দল ও জোটকে দিতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বাস্তবতায় আগামী সংসদে সংখ্যালঘু-আদিবাসী জনগোষ্ঠীর যথাযথ প্রতিনিধিত্ব যাতে নিশ্চিত হয়, সেজন্য গণতান্ত্রিক সব রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা ফিরে এসেছে। এই সাম্প্রদায়িকতাকে আমাদের প্রতিহত করতে হবে। রাষ্ট্রের কাছে সংখ্যালঘুদের যে প্রত্যাশা, সেটা রাষ্ট্র পূরণ করতে পারছে না।

পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ। বিনাযুদ্ধে আমরা সাম্প্রদায়িকতাবাদিদের কাছে পরাজিত হতে পারি না। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই দেশকে সাম্প্রদায়িক দেখতে চাই না। রামু, নাসিরনগর, সাতক্ষীরা, গোবিন্দগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে। বর্তমান সরকারের  আমলে কেন সন্ত্রাস হবে। এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।

সুলতানা কামাল বলেন, আমাদের ভাবতে হবে স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও কেন আজ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংখ্যালঘু সম্প্রাদায়ের লোকজন তাদের অধিকার আদায়ের জন্য মহাসমাবেশ করতে আসছে। সংবিধান অনুযায়ী সবার মতো তাদেরও যথাযথ অধিকার পাওয়ার কথা ছিল। স্বাধীনতার লক্ষ্যই তো ছিলে দেশে মানুষে মানুষের কোনো পার্থক্য থাকবে না। ভিন্নতা থাকবে না, যে কোনো বর্ণে আমরা জন্মগ্রহণ করতে পারি। রাষ্ট্রের চোখে সব নাগরিক সমান, সবার অধিকার সমান হবে। কিন্তু আজ আমরা কী দেখতে পাচ্ছি, সংখ্যালঘুরা পদে পদে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

শাহরিয়ার কবির বলেন, যখনই নির্বাচন আসে তখনই ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন-আক্রমণ নেমে আসে। এই অত্যাচারীদের শাস্তি দিতে হবে। সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন করতে হবে।

মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক, বৌদ্ধ পন্ডিত ড. চিনারোধ ভিক্ষু, খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নেতা সঞ্জিব দ্রং প্রমুখ।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71