বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮
বৃহঃস্পতিবার, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
সনাতন ধর্ম মতে মাঘী পূর্ণিমা গুরুত্ব
প্রকাশ: ১২:৫২ pm ৩১-০১-২০১৮ হালনাগাদ: ১২:৫২ pm ৩১-০১-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক:
 
 
 
 


সনাতন ধর্ম মতে মাঘী পূর্ণিমায় দান-ধর্ম এবং স্নানের বিশেষ গুরুত্ব আছে। শাস্ত্রানুসারে কর্কট রাশিতে চন্দ্র ও মকর রাশিতে সূর্যের প্রবেশের সময় মাঘী পূর্ণিমার জন্য পবিত্র সময়। এই স্নান করলে সূর্য এবং চন্দ্রের ত্রুটি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

পুরাণে বলা হয় যে মাঘী পূর্ণিমায় ভগবান বিষ্ণু স্বয়ং নিজেই গঙ্গাজলে বাস করে। এই সময় গঙ্গা জল দ্বারা সর্বত্র পাপের ধ্বংস হয় বলে সনাতনীরা মনে করে। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে বিখ্যাত কুম্ভ মেলা এবং মাঘী মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

পদ্মপুরান অনুযায়ী ভগবান বিষ্ণু ব্রত , দান ও উপবাসে ততটা খুশি হয়নি যতটা মাঘ মাসের এই পূর্ণ তিথিতে স্নানে খুশি হয়েছেন। মাঘী পূর্ণিমায় স্নান করলে ভগবান বিষ্ণু কৃপা সর্বদা আপনার সাথে থাকে। জীবনে ধন-দৌলত, সুখ-সাফল্য নিয়ে আসে ও আপনার জীবন থেকে সব বাধা ও কষ্ট দুর হয় । আপনার জীবনে ও আপনার পরিবারে নিয়ে আসে সাফল্য, সুস্থ জীবন।

শাস্ত্র মতে যারা স্বর্গ রাজ্যে স্থান পেতে চান তারা মাঘ মাসে সূর্য মকর রাশিতে অবস্থান কালে তীর্থ করা অবশ্যই উচিৎ। জ্যোতিষ শাস্ত্রের মতে মাঘ মাস স্বয়ং ভগবানের প্রকৃতি। তাই মানুষ যদি পূর্ণ মাঘ মাসের মধ্যে স্নান না করে থাকে তবে পূর্ণ দানপ্রাপ্তি হবে না। এই পূর্ণিমার দিন মহা স্নানের ফলে সর্বত্র থেকে রোগ ও কষ্ট ধ্বংস হয়ে যায়। মাঘ মাসের এই পূর্ণিমার দিন দান, স্নান ও পূর্ণ কাজ অন্য দিনের থেকে হাজার গুন বেশি ফল পাওয়া যায় ।

এই দিন স্নান ও দান করার সময় সর্বক্ষণ - " নম বাসুদেবায় নম" মন্ত্র জপ করা উচিৎ। এই দিন নদী , সমুদ্র , ও বিভিন্ন তীর্থ স্থান গুলোতে স্নান, দান ও ধর্মের জন্য ব্যবহার করা হয়। বলা হয়ে থাকে এই দিন সামর্থ্য অনুযায়ী সকল মানুষের দান করা উচিৎ। দানের ফলে দেহ ও মনের শান্তি ও পরকালের জন্য সুন্দর পথ উন্মোচিত হয়। যদি তীর্থ বা নদীতে স্নান করা না হয় তবে সূর্যোদয়ের আগে জলের মধ্যে গঙ্গা জল ও তুলসি পাতা দিয়ে স্নান করলেও সুফল পাওয়া যায়।

মাঘ পূর্ণিমার দিন সারা দেশে 'স্নান উৎসব' হিসেবে পালিত হয় এবং গঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় এই দিনের ধর্মীয় গুরুত্ব বিশেষ ভাবে প্রকাশ পায়। সনাতন ধর্মের ভক্তরা গঙ্গা বা যমুনা নদীর তীরে পবিত্র স্নান গ্রহণ করে। যারা পবিত্র নদীতে না যেতে পারে না, তারা অন্য কোন প্রবাহ, নদী বা পুকুরে স্নান করতে পারে যা পবিত্র ও শুভ হিসাবে বিবেচিত হয়। এই দিনে, গঙ্গা, যমুনা, কভারি, কৃষ্ণ, তপতী ইত্যাদি পবিত্র নদীগুলির উপর স্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। নদীতে স্নানের জন্য মানুষ মাইলের পর মাইল পথ অতিক্রম করে এই স্নানে উপস্থিত হয়।

সনাতন অনুসারীরা বিশ্বাস করেন - যে কোন অনুষ্ঠানের জন্য শারীরিক ও আধ্যাত্মিক পরিচ্ছন্নতা খুবি গুরুত্বপূর্ণ। আর বিশুদ্ধতা অর্জনের এক মাত্র উপায় জল, যার জন্য জল প্রতিটি অনুষ্ঠানের একটি অংশ। আমরা জানি যে পবিত্র স্থান সাধারণত নদী, পুকুর, সমুদ্র, উপকূল এবং পর্বতমালার উপর অবস্থিত হয়। জল প্রতিটি জীবের জন্য ও পৃথিবীর সকল উদ্ভিদ, প্রাণীর কাছে অমৃত সমান। জল যেমন আমাদের জীবন চক্র কে এগিয়ে নিয়ে যায় তেমনি পৃথিবীর একটি গুরুত্ব পূর্ণ অঙ্গ। হিন্দু ধর্মে তাই জলকে পবিত্র বলা হয়। তাই এই মাঘী পূর্ণিমার পূর্ণ স্নান শুধু আমাদের দেহ নয়, আমাদের মনকেও পবিত্র করে তোলে বলে মনে করা হয় সনাতন ধর্মে।

নি এম/

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71