শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯
শনিবার, ৫ই শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
সব তীর্থ বার বার পণতীর্থ একবার 
প্রকাশ: ১২:০৭ pm ১৪-০৩-২০১৮ হালনাগাদ: ১২:১১ pm ১৪-০৩-২০১৮
 
এইবেলা ডেস্ক
 
 
 
 


সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার অন্তর্গত জাদুকাটা নদীর তীর। পবিত্র এ স্থানটি সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে তীর্থস্থান  হিসেবে বিশেষ মাহাত্ম্য বহন করে। স্থানটি পণতীর্থ ধাম হিসেবে সর্বজন পরিচিত। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পার্ষদ মহাবিষ্ণুর অবতার শ্রীল অদ্বৈত আচার্য ঠাকুরের আবির্ভাব স্থল বা লীলাভূমি এই পণতীর্থ ধাম। 

অদ্বৈত আচর্য ঠাকুরের মূল আবির্ভাব ভূমি বাদাঘাট ইউনিয়নের নবগ্রামে। নব গ্রাম ছিল লাউড় রাজ্যের (প্রাচীন শ্রীহট্রের একটি রাজ্য) লাউড়ের গড় এলাকা। কিন্তু নব গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বহু আগে। বর্তমানে অদ্বৈত আচার্য ঠাকুরের যে মন্দিরটি রয়েছে তা যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী লাউড়ের গড়ের পাশের রাজারগাঁও গ্রামে। যদিও অদ্বৈত আচার্যের স্মৃতিচিহ্ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে তবুও স্থানটি সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছে মহা তীর্থ স্থান।

স্থানটি সম্পর্কে অদ্বৈত প্রকাশ, অদ্বৈত মঙ্গল ও ভক্তিরত্নাকরসন সহ বহু বৈষ্ণবীয় গ্রন্থে বিস্তর বর্ণনা রয়েছে। চৈত্র  মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিকে বলা হয় মহা বারণী। "বারুণী যোগেতে স্নান বহু ফলপ্রদ। "অদ্বৈত প্রকাশ গ্রন্থ ২য় অধ্যায়। তাই প্রতিবছর বারুণী যোগে জাদুকাঠা নদীর তীরে বহু লোকের সমাগম হয় স্নানযাত্রা মহোৎসবে। সব তীর্থ বার বার স্নানে যে পূর্ণ লাভ হয় পণতীর্থ একবার স্নানে সেই পূর্ণ লাভ হয়ে থাকে। কারণ সেখানে সপ্ত গঙ্গা একসঙ্গে প্রবাহিত হয় উক্ত তিথিতে। তাই সব তীর্থ স্নান করলে ও পণতীর্থে স্নান আবশ্যক। তাই বলা হয় সব তীর্থ বার বার পণতীর্থ একবার। তীর্থগণ ও পণ করে গিয়েছিলেন পৃথিবী যতদিন বর্তমান থাকবে ততদিন প্রতিবছর মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে তীর্থগণের আগমন ঘঠবে এ স্থানে। সেই থেকে আজ অবধি উক্ত তিথিতে সপ্ত গঙ্গা প্রবাহিত হন জাদুকাটায়। 

পণতীর্থ নামকরণের মাহাত্ম্য : 'অদ্বৈত প্রকাশ' গ্রন্থে পণতীর্থের মাহাত্ম্য সম্পর্কে বলা হয়েছে; অদ্বৈত আচার্য প্রভুর বৃদ্ধা মা জননী নাভাদেবী একদিন রাত্রে স্বপ্নে দর্শন করেন যে, তিনি সমস্ত তীর্থ জলে স্নান করছেন। ভোর বেলা স্বপ্ন ভেঙ্গে ধর্মশীলা নাভাদেবী স্বপ্নের কথা চিন্তা করে বড়ই বিমর্ষ হয়ে পড়েন। কারণ চলার মত এই অযোগ্য দেহ নিয়ে কিভাবে তিনি গঙ্গা স্নান করতে যাবেন। অদ্বৈত আচার্য প্রভু মায়ের এই বিমর্ষতার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তার মা তাকে স্বপ্নের কথা জানান এবং চলার এই অযোগ্য দেহ নিয়ে তীর্থ যাত্রা তার জন্য বড়ই দুষ্কর সে কথা ও জানান। যার জন্যই তিনি বিমর্ষ। মায়ের তীর্থ স্নান করার অভিলাষ এবং বিমর্ষতার কথা চিন্তা করে অদ্বৈত আচার্য ঠাকুর পণ করলেন যে, এই স্থানেই তিনি সমস্ত তীর্থ অর্থাৎ সপ্ত গঙ্গার আর্বিভাব করাবেন এবং মায়ের অভিলাষ পূর্ণ করবেন। অদ্বৈত আচার্য প্রভুর অপ্রাকৃত শক্তির বলে তীর্থ সমূহকে আকর্ষণ করে লাউড়ের এক ক্ষুদ্র পাথরের অপর একটি ঝরণার ধারায় তীর্থ পরিপূর্ণ হয়ে গেল। তাতে তার মা জননী স্নান করে পরিতৃপ্ত হলেন। শুধু সপ্ত গঙ্গা নয়, যার হুহুংকারে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এ ধরাধামে আসতে বাধ্য হন। যার জন্য অদ্বৈত আচার্য প্রভু গৌর আনা গোঁসাই নামেও পরিচিত। অদ্বৈত আচার্য প্রভু পণ (প্রতিজ্ঞা) করে সপ্ত গঙ্গার আনয়ন করেছিলেন বলেই স্থানটির নাম হল পণতীর্থ।
         
পথ পরিচিতি : বাংলাদেশের যেকোন স্থান থেকে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে এসে রিক্সা বা নৌকাযোগে মণিপুরী নদীঘাট পার হয়ে অটোরিকশা, সি.এন.জি অথবা মোটরসাইকেল যোগে পণতীর্থ ধামে পৌছানো  যায়। জয় পণতীর্থ ধাম কি জয়। জয় অদ্বৈত আচার্য প্রভু কি জয়।

লেখক সজল চন্দ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71