সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোমবার, ৯ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
সরকারের দুই মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়ন
প্রকাশ: ০৯:৩৬ am ১০-০৭-২০১৭ হালনাগাদ: ০৯:৩৬ am ১০-০৭-২০১৭
 
 
 


ঢাকা: বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদে এবারই সবচেয়ে কম বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়িত হয়েছে

মূল এডিপি তো বাস্তবায়ন হয়নি; সংশোধিত এডিপির ৮৯ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার পর এবারই এডিপি বাস্তবায়নের হার ৯০ শতাংশের নিচে নেমে এল।

মূলত বড় এডিপি নেওয়ার পর তা বাস্তবায়নের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা না থাকাই এর মূল কারণ। এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাক্-প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নেই বলেই এমন হচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির আকার ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। এটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ব্যয়সহ সংশোধিত এডিপি। বছর শেষে এই এডিপির ১ লাখ ৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রাথমিক হিসাবে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজেটের সময় প্রতিবছরই বিশাল এডিপি নেওয়া হয়। পরে বাস্তবায়ন করতে না পারায় তা কাটছাঁট করা হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। কাটছাঁটের পরও খরচ হয়নি ১২ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত যাবে। এবার মূল এডিপির আকার ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা।

এডিপি বাস্তবায়নের প্রধান দুর্বলতা হলো, প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ধরে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। এর একটি উদাহরণ হলো, এবার প্রথম ছয় মাসে এডিপির ৩৩ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আর শেষ মাসে মানে জুনে খরচ হয়েছে ২৯ হাজার কোটি টাকা। গুণগত বাস্তবায়ন নয়; প্রকল্পের টাকা খরচই যেন উদ্দেশ্য। অবশ্য জুন মাসে এসে ঠিকাদারদের একযোগে বিল পরিশোধ করার ফলে খরচ বেশি দেখানো হয়।

এডিপি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম  বলেন, সংশোধিত এডিপি পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া নতুন কিছু নয়। কোনো বছরই এডিপি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয় না। প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণেই সব প্রকল্পের টাকা খরচ করা যায় না।

মির্জ্জা আজিজের মতে, এডিপি বাস্তবায়নের কোনো প্রাক্–প্রস্তুতি নেই। যেহেতু প্রতিটি মন্ত্রণালয় মধ্য মেয়াদি বাজেটকাঠামোর আওতায় বাজেটে বরাদ্দ পায়; তাই মন্ত্রণালয়গুলো বুঝতে পারে পরবর্তী বাজেটে কত টাকা বরাদ্দ থাকতে পারে। সেই হিসাবে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়ার আগ পর্যন্ত সব প্রক্রিয়া বাজেট পাসের আগেই শেষ করা সম্ভব। বাজেট পাসের পর কেবল ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হলে কাজের গতি বাড়বে।

উল্লেখ্য, প্রকল্পে কত টাকা ছাড় করা হলো, সেটাকেই বাস্তবায়ন হিসেবে ধরে নেয় আইএমইডি। প্রকল্পের গুণগত মান ঠিক থাকল কি না, তা মুখ্য বিষয় নয়; টাকা খরচই যেন মুখ্য।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত আট বছরে এবারই সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৯১ শতাংশ সংশোধিত এডিপির ৯১ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছিল। এরপর বার্ষিক এডিপি বাস্তবায়ন ৯১ থেকে ৯৩ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এবার তা ৯০ শতাংশের নিচে নেমে এল।

আইএমইডি সূত্রে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে বিদেশি সহায়তা ব্যবহার পরিস্থিতি বেশ নাজুক ছিল। ৩৫ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে খরচ করা সম্ভব হয়েছে ২৭ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। যা বরাদ্দের ৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে দেশজ উৎসের ৭৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকার মধ্যে খরচ ৭২ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ ছিল ৫ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। খরচ বেশি হয়েছে; ৬ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা।

বাস্তবায়নে দুর্দশা

৫৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ করেছে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ। এই বিভাগের একটি প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। খরচ হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৭ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের হার ৩৯ শতাংশ। সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দের ৭৫ শতাংশ খরচ করতে পারেনি ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এগুলো হলো আইন ও বিচার বিভাগ; জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়; পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ; রেলপথ মন্ত্রণালয়; প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; দুর্নীতি দমন কমিশন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; সেতু বিভাগ; অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ। 

এইবেলাডটকম/পপি

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71