শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯
শুক্রবার, ৪ঠা শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
সর্বকালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলোর অন্যতম ‘পথের পাঁচালী
প্রকাশ: ০৪:০৩ pm ২৭-০৮-২০১৫ হালনাগাদ: ০৪:০৩ pm ২৭-০৮-২০১৫
 
 
 


শিল্পসাহিত্য ডেস্ক :  ১৯৫৫ সালের ৩ মে নিউ ইয়র্কের মিউজিয়ম অব মডার্ন আর্ট-এ প্রথম দেখানো হয়েছিল ‘পথের পাঁচালী’।

২০১৫ সালের ৪ মে তারা পালন করল ‘পথের পাঁচালী’র ষাট বছর। কলকাতায় ‘পথের পাঁচালী’ মুক্তি পেয়েছিল তারও সাড়ে তিন মাস পর, অর্থাৎ ২৬ আগস্ট।

আজ ‘পথের পাঁচালী’ মুক্তির ষাট বছর।

উপন্যাস পথের পাঁচালী অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিটি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র তথা তার প্রসিদ্ধ চলচ্চিত্র-সিরিজ অপু ত্রয়ী-র প্রথম ছবি। ছবির মুখ্য চরিত্র অপু। বিশ শতকের বিশের দশকে বাংলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে অপুর বেড়ে ওঠার গল্পই এই ছবির প্রধান বিষয়।

পথের পাঁচালী ছবিটির প্রযোজক ছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পথের পাঁচালী ছবিটির নির্মাণকালীন বাজেট ছিল মাত্র দেড় লাখ টাকা (তিন হাজার মার্কিন ডলার)। ছবির অভিনেতারা সেই অর্থে জনপ্রিয় কোনো তারকা ছিলেন না। অন্যান্য কলাকুশলীরাও যথেষ্ট অনভিজ্ঞ ছিলেন।কিন্তু তা সত্ত্বেও পথের পাঁচালী সমালোচক ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়োতে সক্ষম হয়।

ইতালিয়ান নিওরিয়ালিজম দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সত্যজিৎ রায় এই ছবিতে কাব্যিক বাস্তবতাবাদের নিজস্ব এক শৈলীর বিকাশ ঘটান। পথের পাঁচালী স্বাধীন ভারতে নির্মিত আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনকারী প্রথম চলচ্চিত্র। ১৯৫৬ কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটি ‘বেস্ট হিউম্যান ডকুমেন্ট’ পুরস্কার লাভ করে। এর ফলে সত্যজিৎ রায়ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। আজ পথের পাঁচালী ছবিটিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলির অন্যতম মনে করা হয়।

বিশ শতকের বিশের দশকে বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অপু (সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়) ও তাঁর পরিবারবর্গের জীবনযাত্রার কথাই পথের পাঁচালী ছবির মুখ্য বিষয়। অপুর বাবা হরিহর রায় (কানু বন্দ্যোপাধ্যায়) নিশ্চিন্দিপুরের পৈত্রিক ভিটেয় তার নাতিবৃহৎ পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। তিনি পেশায় পুরোহিত। আয় সামান্য। লেখাপড়া জানেন। তাই কিছু ভালো যাত্রাপালা লিখে অধিক উপার্জনের স্বপ্ন দেখেন। বাস্তবে তিনি অত্যন্ত ভালোমানুষ এবং লাজুক প্রকৃতির লোক। সকলে সহজেই তাকে ঠকিয়ে নেয়। পরিবারের তীব্র অর্থসংকটের সময়েও তিনি তার প্রাপ্য বেতন আদায় করার জন্য নিয়োগকর্তাকে তাগাদা দিতে পারেন না।

হরিহরের স্ত্রী সর্বজয়া তার দুই সন্তান দুর্গা (উমা দাশগুপ্ত) ও অপু এবং হরিহরের দূর সম্পর্কের বিধবা পিসি ইন্দির ঠাকরুনের (চুনীবালা দেবী) দেখাশোনা করেন। দরিদ্রের সংসার বলে নিজের সংসারে বৃদ্ধ ন্যূজদেহ ইন্দির ঠাকরুনের ভাগ বসানোটা ভালো চোখে দেখেন না সর্বজয়া। সর্বজয়ার অত্যাচার অসহ্য বোধ হলে ইন্দির মাঝে মাঝে অন্য এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন।

দুর্গা পড়শির বাগান থেকে ফলমূল চুরি করে আনে ও ইন্দির ঠাকরুনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খায়। পড়শিরা এসে সর্বজয়াকে গঞ্জনা দেয়। একবার তো পড়শিরা এসে দুর্গাকে একটি পুতির মালা চুরির দায়ে অভিযুক্ত করে। তবে দুর্গাই যে চোর, সেকথা তারা প্রমাণ করতে পারেনি।

ভাইবোন অপু ও দুর্গার মধ্যে খুব ভাব। দিদি দুর্গা, অপুকে মায়ের মতোই ভালোবাসে। তবে মাঝেমধ্যে তাকে খেপিয়ে তুলতেও ছাড়ে না। তারা কখনও কখনও চুপচাপ গাছতলায় বসে থাকে। কখনও মিঠাইওয়ালার পিছু পিছু ছোটে। কখনও ভ্রাম্যমাণ বায়োস্কোপ-ওয়ালার বায়োস্কোপ দেখে বা যাত্রাপালা দেখে। সন্ধ্যাবেলা দু’জনে দূরাগত ট্রেনের বাঁশি শুনতে পায়।

একদিন অপু-দূর্গা বাড়িতে না বলে অনেক দূরে চলে যায় ট্রেন দেখবে বলে। কাশের বনে ট্রেন দেখার জন্য অপু-দুর্গার ছোটাছুটির দৃশ্যটি এই ছবি এক স্মরণীয় মুহূর্ত। আবার একদিন জঙ্গলের মধ্যে খেলা করতে গিয়ে তারা ইন্দির ঠাকরুনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।

গ্রামে ভালো উপার্জন করতে সক্ষম না হয়ে হরিহর একটা ভালো কাজের আশায় শহরে যান। সর্বজয়াকে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান যে, ভালো উপার্জন হলে ফিরে এসে ভাঙা বসতবাড়িটা সারাবেন। হরিহরের অনুপস্থিতিতে বাড়ির অর্থসংকট তীব্রতর হয়। সর্বজয়া অত্যন্ত একা বোধ করতে থাকেন। বর্ষাকাল আসে। একদিন দুর্গা অনেকক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর বাধায়। ওষুধের অভাবে তার জ্বর বেড়েই চলে। শেষে এক ঝড়ের রাতে দুর্গা মারা যায়।

এরপর একদিন হরিহর ফিরে আসে। শহর থেকে যা কিছু এনেছে, তা সর্বজয়াকে বের করে দেখাতে থাকে। সর্বজয়া প্রথমে চুপ করে থাকেন। পরে স্বামীর পায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। হরিহর বুঝতে পারেন যে, তিনি তার একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছে। তারা ঠিক করেন গ্রাম ও পৈত্রিক ভিটে ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাবেন জীবিকার সন্ধানে। যাত্রার তোড়জোড় শুরু হলে, অপু, দুর্গার চুরি করা পুতির মালাটা আবিষ্কার করে। সে মালাটা ডোবার জলে ছুড়ে ফেলে দেয়।

ছবির শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, অপু, বাবামায়ের সঙ্গে গরুর গাড়িতে চড়ে নতুন এক গন্তব্যের উদ্দেশে চলেছে।

অভিনয়ে : কানু বন্দ্যোপাধ্যায় (হরিহর- অপু ও দুর্গার বাবা), করুণা বন্দ্যোপাধ্যায় (সর্বজয়া- অপু ও দুর্গার মা), সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় (অপু), রুমকি বন্দ্যোপাধ্যায় (শিশু দুর্গা), উমা দাশগুপ্ত (কিশোরী দুর্গা), চুনীবালা দেবী (ইন্দির ঠাকরুন), হরেন বন্দ্যোপাধ্যায় (মিঠাইওয়ালা) প্রমুখ।

উপন্যাস : বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়। চিত্রগ্রহণ : সুব্রত মিত্র। শিল্পনির্দেশক : বংশী চন্দ্রগুপ্ত। সম্পাদনা : দুলাল দত্ত। সঙ্গীত : পণ্ডিত রবিশঙ্কর। প্রযোজনা : পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পরিবেশনা : অরোরা ফিল্ম। সময়সীমা : ১১৫ মিনিট/সাদা-কালো। চিত্রনাট্য ও পরিচালনা : সত্যজিৎ রায়।

’পথের পাঁচালী’ দেশে-বিদেশে অনেক পুরস্কার অর্জন করেছে।

 
এইবেলা ডট কম/এইচ আর
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71