রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
রবিবার, ৫ই ফাল্গুন ১৪২৫
 
 
সাঁড়াশি অভিযানে ‘দৌড়ের ওপর’ জঙ্গিরা
প্রকাশ: ০৩:৩৩ pm ৩০-০৬-২০১৭ হালনাগাদ: ০৩:৩৩ pm ৩০-০৬-২০১৭
 
 
 


ঢাকা : সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একের পর এক সাঁড়াশি অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়া জঙ্গিরা এখন ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষায়, ‘দৌড়ের ওপর’ রয়েছে জঙ্গিরা।

প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানোয় জঙ্গিরাও নতুন কৌশল নিচ্ছে।

সবশেষ গত মে-তে সাভারের গেন্ডায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। কিন্তু অভিযানের আগেই তারা সটকে পড়েন। সেখান থেকে বিপুল বিস্ফোরক দ্রব্য, সুইসাইডাল ভেস্ট জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকাসহ সারাদেশের শহর এলাকায় গড়ে তোলা জঙ্গি আস্তানায় একের পর এক পুলিশি অভিযানের পর কৌশল বদলাতে শুরু করে জঙ্গিরা। সহজে বাড়ি ভাড়া না পাওয়ায় আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারিতে শহরের পরিবর্তে গ্রামের নির্জন এলাকায় আস্তানা গড়ছে জঙ্গিরা। বিভিন্ন ধরনের বোমা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র মজুদের পাশাপাশি জঙ্গিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এসব আস্তানা।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, জঙ্গিরা অনেক চতুর। নিজেদের আস্তানা গড়তে সবসময় কৌশল বদলায়। কখনও জনবহুল এলাকা, কখনও নির্জন ও দুর্গম সীমান্ত তারা বেছে নিচ্ছেন।

গত ২৬ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলে অভিযান চালায় পুলিশ। স্থানীয় রফিকুল ইসলাম আবু নামে এক জঙ্গি ওই বাড়িতে আস্তানা বানিয়েছিলো। সেই জঙ্গি সংগঠনের অন্য সদস্যদের আশ্রয় দিয়ে সেখানে আস্তানা গড়ে তোলেন তিনি। বিপুল বিস্ফোরক দ্রব্য মজুদ রাখার পাশাপাশি জঙ্গিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা হতো নির্জন এলাকার ওই বাড়িকে।

গত ৭ মে ঝিনাইদহের সীমান্ত এলাকা মহেশপুরের একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। স্থানীয় ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম দুই ছেলেসহ জঙ্গিবাদে জড়িয়ে নিজ বাড়িকেই ব্যবহার করছিলেন আস্তানা হিসেবে। এর দুইদিন আগে গত ৫ মে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লেবুতলা গ্রামে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ।

গত ২২ এপ্রিল ঝিনাইদহের সদর উপজেলার পোড়াহাটিতে জঙ্গি আস্তানায় বিপুল বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ১১ মে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় যে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়, সেটিও একেবারে নির্জন এলাকায়। মাঠের মধ্যে টিন আর মাটি দিয়ে তৈরি জীর্ণশীর্ণ বাড়িতেই জঙ্গি কার্যক্রম চালাতেন নিহত জঙ্গি সাজ্জাদ হোসেনসহ তার পরিবারের সদস্যরা। এরপর ২৪ মে চাপাঁইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর ও নাচোলে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ৩ বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব।

সর্বশেষ ২৬ মে শুক্রবার রাজধানীর অদূরে সাভারের গেন্ডায় দুটি আস্তানার সন্ধান পায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। শনিবার দ্রুত সেখানে অভিযানও চালানো হয়। কিন্তু অভিযানের আগেই জঙ্গিরা সটকে পড়েন। জব্দ করা হয় বিপুল সংখ্যক বোমা, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও সুইসাইডাল ভেস্ট।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ছানোয়ার হোসেন নতুন সময়কে বলেন, প্রতিনিয়ত কৌশল পাল্টায় জঙ্গিরা। নতুন কৌশলে তারা সংগঠিত হন। তাদের কোনো কৌশল পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জেনে গেলে আবার নতুন কৌশলে সক্রিয় হয়। এখন শহরের চেয়ে নির্জন এলাকা নিরাপদ ভেবে তারা সেখানে আস্তানা গাড়ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পিছু লেগেই আছে।

তিনি বলেন, এজন্য প্রতিটি এলাকার জনসাধারণকে এগিয়ে আসতে হবে। নির্জন এলাকায় হঠাৎ অপরিচিত কারও আনাগোনা সন্দেহজনক হলে শুরুতেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71