বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮
বুধবার, ২৮শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫
 
 
সাতক্ষীরা-১ আসনে আ.লীগে বিভেদ সৃষ্টিকারী ভাড়াটে এমপি মুস্তফালুৎফুল্লাহ্
প্রকাশ: ১০:২৩ am ১৪-১১-২০১৮ হালনাগাদ: ১০:২৩ am ১৪-১১-২০১৮
 
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
 
 
 
 


সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনটি বরাবরই সাতক্ষীরার রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আ.লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে নৌকা প্রতিক নিয়ে এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন ওয়ার্কাস পার্টির অ্যাড. মুস্তফালুৎফুল্লাহ্। নির্বাচিত হওয়ার পর কপাল পুড়ে যায় তালা-কলারোয়ার উপজেলা, ইউনিয়নসহ ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের।

তবে এমপি অ্যাড. মুস্তফালুৎফুল্লাহ্ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য গুটি কয়েক নামধারী আ.লীগ নেতাকে তুষ্ট রেখেছেন বরাবরই। যা আ.লীগের বৃহৎ একটি গোষ্ঠি গত ৫ বছর ধরে ভালো নজরে দেখেননি।

এছাড়া তালা এলাকায় নামধারী একটি এনজিওর পক্ষ নিয়ে মন্দির ভেঙ্গে এনজিওর রাস্তা করে দেওয়ার বৃহৎ চেষ্টাকে হিন্দুমহলের মনে দাগ কেঁটে যায়। এমপি পদকে ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে মুষ্টিকয়েক মানুষকে হাতে রেখেছেন বামপহ্নি এই হঠাৎ এমপি বনে যাওয়া মুস্তফা লুৎফুল্লাহ্।

তালা-কলারোয়া আসনের আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক ও বাংলাদেশ আ.লীগের ধর্ম বিষয়ক উপকমিটির সদস্য কামরুজ্জামান সোহাগ জানান, তালা-কলারোয়া আসন থেকে ২০১৪ সালের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে ওয়ার্কাস পার্টির মুস্তফা লুৎফুল্লাহ্ এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশ আ.লীগ তালা ও কলারোয়ায় দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিগত দিনে দলীয় কোন্দল থাকলেও মুস্তফালুৎফুল্লাহ্ এমপি নির্বাচিত হয়ে ব্যক্তিস্বার্থে ও নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে দলের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি করে দিয়েছেন। যা এখন প্রকট। 

তালা উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শেখ নুরুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন বাংলাদেশ আ.লীগ আমাকে মনোনয়ন ও নৌকা প্রতিক দেয়। কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে দল মহাজোট থেকে ওয়ার্কাস পার্টির মুস্তফা লুৎফুল্লা মনোনীত হয়। নৌকা প্রতিক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে তৎপর থেকেছেন সব সময়। কোটা ভিত্তিক উন্নয়ন ছাড়া দুই উপজেলায় কোন উন্নয়ন হয়নি। 

তিনি আরও বলেন, এমপি পদকে কাজে লাগিয়ে দলের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তালা-কলারোয়ার আ.লীগ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ব্যক্তি ইমেজে একজন অগ্রহনযোগ্য ব্যক্তি। ২০০১ সালে তালা-কলারোয়া আসনে নির্বাচন করে দুই উপজেলায় ১২শ ভোট পেয়েছিলেন। এতেই জনগণের বুঝতে বাকি থাকে না তিনি কতটা গ্রহনযোগ্য মানুষ। এখন জনগণ তালা-কলারোয়ায় আ.লীগের দলীয় প্রার্থী চাই জনগণ। কোন ভাড়াটে লোককে চাই না। তাছাড়া তাকে মহাজোট থেকে মনোনয়ন দিলে ফল বিপর্যয় ঘটবে। এসকল বিষয়গুলো দলীয় হাইকমান্ডকে আগেই অবহিত করা হয়েছে।

তালা সদরের মোবারকপুর মহাশশ্মান ও মন্দির কমপ্লেক্সের সাধারণ সম্পাদক উদয় গুহ জানান, আমরা নৌকায় ভোট দিয়ে মহাজোটের প্রার্থী মুস্তফালুৎফুল্লাহকে এমপি নির্বাচিত করলাম। নির্বাচিত হয়ে তিনি আমাদের মন্দির ভেঙ্গে রাস্তা তৈরী করার বৃহৎ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হননি। ঘটনা নিয়ে আদালতে তিনটি মামলাও করেছি। যা এখনো চলমান। এছাড়া আমাদের নামে মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানিও করছে। এসব ঘটনার নেপথ্যের নায়ক ভাড়াটে এমপি মুস্তফা লুৎফুল্লাহ্। মহাজোটে যদি আবার মুস্তফালুৎফুল্লাহ্কে মনোনয়ন দেয় তবে মানুষ নৌকায় ভোট দেবে না। মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির সৈয়দ দিদার বখতকে মনোনয়ন দিলে ভোট দেবে না হলে নৌকার চরম বিপর্যয় ঘটবে তালা-কলারোয়া আসনে।

আ.লীগের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি ও বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে ওয়ার্কাস পার্টির জেলা সভাপতি ও তালা-কলারোয়া আসনের মহাজোটের সংসদ সদস্য, ওয়ার্কাস পার্টির এমপি প্রার্থী মুস্তফা লুৎফুল্লাহ্’র কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি মুখোমুখি ছাড়া এসব বিষয়ে কথা বলতে চাই না। 

নি এম/মাহফুজ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71