বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫
 
 
সামাজিক সম্মান না পেয়ে ভোলার হরিজন সম্প্রদায়ের আক্ষেপ
প্রকাশ: ০৫:০৩ pm ১০-০৭-২০১৮ হালনাগাদ: ০৫:০৩ pm ১০-০৭-২০১৮
 
অচিন্ত্য মজুমদার
 
 
 
 


কয়দিন পর পর দেশে সরকারের উদ্যোগে কত রকম উৎসব হয়। র‌্যালী, মিটিং মিছিল থেকে শুরু কইরা কত মেলা পর্যন্ত হয়। কিন্তু আমাগো তো ওই সকল কোনো উৎসব-পার্বণে ডাকা হয় না। এমনকি মে দিবসেও আমাগো কোনো ঠাই হয় না কোথাও। তাইলে আমাগো শ্রমের কি কোন দাম নাই। সরেজমিনে এমন সব কষ্টের কথা তুলে ধরেন ভোলা পৌরসভার হরিজন কলোনীর বাসিন্দা আরতী রাণী ও জীবন কৃষ্ণ ডোম। 

ওই কলোনীর ১২০ পরিবারের একই কষ্ট দিনরাত পরিশ্রম করেও যে শ্রমের মূল্য পায় তা দিয়ে সংসার চলে না। সংসারে অভাব-অনটন নিত্য দিনের সঙ্গি। পরিবারের অর্থের যোগান দিতে দিনরাত চলে হাড়ভাঙা খাটুনির স্ট্রিম রোলার। তবুও মুখে কষ্টের ছাপ নেই। হাসিমুখে পথচলা আর হাসিমুখে কথা বলা তাদের জীবন। কিন্তু দুঃখ রাষ্ট্রীয় কোন উৎসব অনুষ্ঠানে তাদের ডাকা হয়না। ফলে সব সময় তারা সমাজের একটি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন বলে মনে করেন। এছাড়া তাদের নিজস্ব কিছু আচার-অনুষ্ঠান ও সংস্কৃতি রয়েছে। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে এ সকল আচার-অনুষ্ঠান তাদের পক্ষে পালন করা সম্ভব হয় না। সরকারিভাবে এসব অনুষ্ঠান পালনে তাদেরকে সহযোগিতা করা হলে দলিতদের নিজস্ব সংস্কৃতি পালনের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন তারা। 

তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী ও দোল পূর্ণিমা। এ দিনটি তারা খুব আনন্দের সাথে পালন করে থাকেন। তিন দিন ধরে চলে এ উৎসব। রঙ খেলা, দোলযাত্রা, আনন্দ ভোজন থেকে শুরু করে নানা পার্বণের মধ্যদিয়ে তারা দিনগুলো পালন করেন। তবে তাদের এসব উৎসব ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আর আনুষ্ঠানিক ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করে থাকেন দূর্গাপূজা ও কালীপূজা। কিন্তু এসব উৎসবে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা-তো দুরের কথা খোঁজও নেয়া হয় না।

বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠির অধিকার আন্দোলন ভোলা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার দে জানান, প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে সকল বাঙালীর মতো দলিত জনগোষ্ঠির ঘরে ঘরে চলে উৎসবের আমেজ। কিন্তু জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে যে শোভাযাত্রা বের করা হয় সেখানে আমাদের ডাকা হয় না। ওই শোভাযাত্রায় আমাদের সুযোগ দেয়া হলে আমরাও নিজেদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি সকলের মাঝে তুলে ধরার সুযোগ পেতাম। সেই সাথে দলিত জনগোষ্ঠির যে হীনমন্যতা তা অনেকাংশে দূর হতো বলে মনে করেন তিনি।

ভোলা জেলা হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি মানিক লাল ডোম বলেন, সকল বাধা উপেক্ষা তারা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সম্মিলিতভাবে পালন করে থাকেন। সে ক্ষেত্রে তারা কারো সহযোগীতা পান না। দেশে সকল নাগরিকের জন্য সকাম সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও দলিতরা সে ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পহেলা বৈশাখসহ বাঙালিদের বিভিন্ন উৎসব স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পালন করা হলেও কখনো তাদের ওই উৎসবে আমন্ত্রণ জানানো হয় নি।

এসময় বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠির অধিকার আন্দোলন ভোলা জেলা শাখার সভাপতি চন্দ্র মোহন ছিডু অভিযোগ করে বলেন, তাদের অনেকেই চামড়াজাত পণ্যদ্রব্য তৈরির পাশাপাশি হস্তশিল্প পেশায় জড়িত ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে এসব পেশায় থেকে যে আয় হয় তা দিয়ে তাদের সংসার চলে না। তাই অনেকেই পৈত্রিক পেশা ছেড়ে বিকল্প পেশায় পাড়ি জমিয়েছেন। এখনও যে ক’জন রয়েছেন তাদের টিকিয়ে রাখতে সরকার যদি সহজ শর্তে ক্ষদ্রঋণ দানের প্রকল্প হাতে নিতেন, তাহলে এসব দলিত সম্প্রদায়ের লোকগুলো তাদের পূর্ব-পুরুষের পেশা ত্যাগ করতেন না বলে মনে করেন তিনি।

এছাড়া বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি যথাযথ বিকাশে রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দিবসের মেলাগুলোতে দলিত জনগোষ্ঠিকে সুযোগ কওে দিতে হবে। পাশাপাশি কুটির শিল্পে দলিত জনগোষ্ঠিীকে উৎসাহিত করতে তাদের প্রশিক্ষণ, বিপণনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই তাদের হাত ধরে অতি দ্রত বিকশিত হবে আমাদের কুটির শিল্প ও বাঙালি সংস্কৃতি। যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে আমাদের মাঝে।

লেখক- ভোলা প্রতিনিধি, ডিবিসি নিউজ, ডেইলী অবজারভার ও পরিবর্তন ডট কম। সদস্য, দলিত এন্ড মাইনরিটি হিউম্যান রাইটস মিডিয়া ডিফেন্ডার ফোরাম।

বিডি
 

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71