বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বুধবার, ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫
 
 
সাহিত্যিক নরেন্দ্র দেবের ৪৭তম মৃত্যূ বার্ষিকী আজ
প্রকাশ: ০২:২০ am ২০-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ০২:২০ am ২০-০৪-২০১৭
 
 
 


প্রতাপ চন্দ্র সাহা ||

কবি, সাহিত্যিক এবং সম্পাদক নরেন্দ্র দেব ( জন্মঃ- ৭ জুলাই, ১৮৮৮ - মৃত্যুঃ- ১৯ এপ্রিল, ১৯৭১ )
তাঁর জন্ম হয় কলকাতার এক প্রগতিশীল পরিবারে। পিতার নাম নগেন্দ্র চন্দ্র দেব। তিনি কবি, ঔপন্যাসিক, ভ্রমণ কাহিনীর রচয়িতা ও অনুবাদকও ছিলেন। তার অন্যতম সৃষ্টিগুলি হল - বোঝাপড়া (১৯২০), যাদুঘর (১৯৩০), আকাশ কুসুম (১৯৩৭) প্রভৃতি তাঁর গল্প ও উপন্যাস। বসুধারা (১৯২৮) তাঁর কাব্যগ্রন্থ। ওমর খৈয়াম (১৯২৬) এবং মেঘদূত (১৯২৯) এর অনুবাদের জন্য তিনি বাংলা সাহিত্যে বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি কিছুকাল "পাঠাশালা" পত্রিকা সম্পাদনা করেন। এ ছাড়া স্ত্রী রাধারাণী দেবী-র সহায়তায় প্রকাশক এন সি সরকার এন্ড সন্স এর তরফে, আধুনিক যুগের বাংলা কবিতার সংকলন "কাব্য দীপালী" সম্পাদনা করেন।
কালিদাসের মেঘদূত শ্লোক (উত্তর মেঘ) – অনুবাদ নরেন্দ্র দেব
৮৮
হয়ত দেখিবে গণিতেছে দিন দেহলী হইতে নামায়ে ফুল।
কতদিন আর বাকি ফিরিবার, হিসাবের তার না হয় ভুল।
কিংবা হয়ত কল্পনা লোকে মিলনের স্মৃতি স্মরিছে মনে,
বিরহিনী নারী এইভাবে জেনো ভুলায় নিজেরে বিরহ ক্ষণে
৮৯
রহি’ সারাদিন কর্মে নিরত আপনার গৃহে প্রেয়সী মোর,
বিচ্ছেদ ব্যথা চাহে পাশরিতে, কিন্তু, নামিলে রজনী ঘোর
পারে না সহিতে বিরহ বেদনা; যেও বাতায়নে তখন তুমি,
কহি মোর কথা কোরো তারে সুখী, বিনিদ্র সে যে, শয্যারভূমি!
৯০
কৃশতনু তার বিরহশয়নে একপাশ আধো মিশিয়া আছে
প্রাচীকোলে যেন ক্ষীণ-কলা শশী। যেও সাবধানে প্রিয়ার কাছে।
আমার সঙ্গ-সুখ-ভোগে তার মনে হ’ত যেন ক্ষণিক রাত!
বিরহে যে রাতি কাটে না যে আর, করিছে তপ্ত অশ্রুপাত।
৯১
সুধা-কৌমুদী অনিন্দ্যপদে গবাক্ষদ্বারে দাড়াঁলে এসে,
পূর্ব প্রীতির পরিচয়ে প্রিয়া নেহারিবে জানি নির্নিমেষে;
হয়ত সহসা আবরিয়া আখিঁ অশ্রুসাগরে ভাসিয়া যাবে,
দেখে মনে হবে স্থল-কমলিনী ফুটেও ফোটেনি পূর্ণভাবে।
১০৪
সখীর সমুখে যাহা বলা যায়, সে কথাও যেবা কহিত কানে,
কথার সুযোগে মুখে মুখ দিয়ে আনন্দ যার উপজে’ প্রাণে,
সে প্রিয় সুদূরে, শ্রবণ নয়ন পায়না এখন নাগাল তার,
মোর মুখে তাই পাঠাল বারতা, উৎকন্ঠা যে সহেনা আর!
১০৫
প্রিয়ঙ্গু-লতা রচিত অঙ্গ, চকিতা-হরিণী-চাহনি চোখে,
বদনে তোমার শশীকলাদ্যুতি, শিখীর পুচ্ছ অলক লোকে;
নাচে তরঙ্গ ভ্রুভঙ্গে তব মুগ্ধ করিয়া নয়ন মোর,
জানি মিলিবেনা তোমার তুলনা খুঁজি যদি আমি জীবন ভোর!
১০৬
প্রণয়-কুপিতা ছবিখানি তব আকিঁ ধাতুরাগে শিলার স্তুপে
পড়ি আছাড়িয়া পদতলে তার প্রসন্নতার প্রার্থীরুপে!
কিন্তু নয়নে বহি’ ঘন ধারা দৃষ্টি আমার ঝাপ্‌সা হয়,
ঘটে পাছে পটে মিলন মোদের-ক্রুর বিধাতার ইচ্ছা নয়।
১০৭
স্বপন-মিলনে যদি কভু প্রিয়ে তোমারে হৃদয়ে ধরিতে যায়,
শূন্য আকাশে প্রসারিয়া বাহু বৃথাই কেবল দুঃখ পাই!
হেরি অভাগার গভীর যাতনা দেবতারও আখিঁ সজল হয়,
তরু কিশলয়ে অশ্রু মুকুতা ঝরি’ ঝরি’ পড়ে বেদনাময়!
১০৮
স্বপন-মিলনে যদি কভু প্রিয়ে তোমারে হৃদয়ে ধরিতে যায়,
শূন্য আকাশে প্রসারিয়া বাহু বৃথাই কেবল দুঃখ পাই!
হেরি অভাগার গভীর যাতনা দেবতারও আখিঁ সজল হয়,
তরু কিশলয়ে অশ্রু মুকুতা ঝরি’ ঝরি’ পড়ে বেদনাময়!
১০৯
দেবদারু বনে সদ্য ছিন্ন কিশলয়চ্যুত রসের বাসা,
সুরভিত হ’য়ে শীতল সমীর দক্ষিণাপথে যখন আসে,
তোমার পরশ অঙ্গে বুলায় আসিছে বুঝিবা, ভাবিয়া মনে
আমি যে তাহারে, অয়ি গুণবতি! ধরিবারে ধাই আলিঙ্গনে!
১১০
চটুলা নয়না! দীর্ঘ রজনী কেমনে বলনা কাটিবে ত্বরা,
কেমনে ঘুচিবে সন্তাপ-দাহ সারাটি দিনের পাগল করা?
জানি জানি প্রিয়ে কামনা আমার দুর্লভ অতি, উপায় নাই,
তোমার বিরহ-বেদনে-বিপুল বক্ষে আমার বহিগো তাই!
১১১
ওগো কল্যাণি! নিরুপায় আমি, রহিয়াছি একা নিজেরে ল’য়ে
তুমিও আমার দুঃখ অপার কোনওমতে প্রিয়ে থাকিও স’য়ে।
যেথা বেশি সুখ, দুখ ততোধিক, সুখ দুখ নহে চিরস্থায়ী;
চাকার মতই ঘুরিতেছে তাই, উপরে ও নিচে দু’য়েরে পাই!
১১২
শারঙ্গধর বিষ্ণু যখন সর্প-শয়ান উঠিবে ছাড়ি’,
আমার শাপের অন্ত তখন, দেখা হবে পুন ফিরিলে বাড়ি!
শারদ নিশীথে চাদেঁর আলোয় আবার দু’জনে মিলিব সুখে
এই ক’টা মাস স’য়ে থাকো সখী যা-কিছু কামনা কাঁদায় দুখে।
১১৩
একদা আমার কন্ঠ বেড়িয়া আরামে যখন ঘুমায়ে ছিলে,
সুপ্তির মাঝে সহসা কাঁদিয়া আমারেও সখী কাঁদায়ে দিলে!
শুধানু তোমারে কি হ’ইয়েছে বলো নিবিড় আদরে জড়ায়ে বুকে
‘হেরিনু স্বপনে আন নারী লয়ে খেলিছ’ কহিলে সহাস মুখে!
১১৪
আমার কুশল বারতা যেদিন জানিবে আমার অভিজ্ঞানে,
হয়ত সেদিন, কাজল-নয়না! খনেক শান্তি লভিবে প্রাণে!
থাকনা যেখানে দয়িত তোমার, সে নহে কখনো অবিশ্বাসী,
মিলন অভাবে বাড়ে ভালবাসা, বিচ্ছেদে প্রেম যায়না ভাসি’।
১১৫
উগ্র হয়েছে প্রথম বিরহে তোমার সখির যে দুখ ভার
আশ্বাসবাণী শুনাইয়া প্রিয়, লঘু ক’রে দেই বেদনা তার,
মহেশ বাহন বৃষভশৃঙ্গে বিদীর্ণ শিলা লঙ্ঘি’ ত্বরা
বাঁচাও আমারে শুভ সংবাদে, সে যে প্রভাতের কুন্দ ঝরা!
১১৬
তোমার তুল্য সৌম্য যে-জন বন্ধুকৃত্য করেই জানি,
স্তব্ধ গভীর তব মৌনতা সম্মতি বলি লইব মানি’
চাতক যাচিলে পিপাসার বারি নীরবে যেমন নামাও ধারা,
ভক্তজনের বাঞ্ছা তেমনি পূর্ণ করেন মহৎ যাঁরা।
১১৭
বন্ধু তোমার বিরহ-কাতর; কৃপাপরবশ হইয়া প্রিয়;
হেন অনুচিত প্রার্থনা তার করুণায় তুমি মানিয়া নিও।
তারপরে যেও গৌরবে তব প্রাবৃট্‌-শোভায় ধরণীময়
বিজলি প্রিয়ার সঙ্গে তোমার বিচ্ছেদ যেন কভু না হয়!
....
আকাশ প্রদীপ -নরেন্দ্র দেব
কুহেলি-আচ্ছন্ন-ঘন শিশির সন্ধ্যার অন্ধকারে
কে যেন প্রসারি দীপ আকাশের নীহারিকা পারে
মেলিয়া সাগ্রহ দৃষ্টি অণ্বেষিছে কোথা শূণ্য-সীমা
সন্ধানে ব্যাকুল যেন নিঃশেষিয়া অনন্ত নীলিমা।
অনিমেষ প্রতীক্ষায় আছে চাহি ছায়া পথ পরে।
সময় গিয়েছে চলি ; কে যেন ফেরেনি ঘরে
গগহ গহন হতে ;
তারায় তারায় সে কি তার
তুলিয়া প্রদীপখানি খুঁজিয়া ফিরিছে বারে বার
হারানো সে বন্ধুটিরে?
বহু যুগ হয়েছে অতীত।
ঋতু-চক্র এল ঘুরে ; দূরে ওই আসে বৃদ্ধ শীত,
রজনী বাড়িয়া চলে বিদলিয়া স্বল্প-আয়ু দিনে ;
প্রভাতের অশ্রুকণা কাতরে লুটায় তৃণে তৃণে ;
কেঁপে ওঠে চ্যুত পত্রে অতি মৃদু পদশব্দ কার।
অরণ্য মর্মরে যেন রণি উঠি ধ্বনি বেদনার।
শরতের স্বর্ণ-আভা ঝলমলি কাঁপে যে লগনে
সদ্য ধৌত ধরণীর শ্যাম স্নিগ্ধ নির্মল প্রাঙ্গণে
অজস্র কাশের হাসি শুচি-শুভ্র ওঠে বিকশিয়া
নন্দিত আনন্দিত রসে নিখিলের বেদনার হিয়া।
শুধু তব অন্তরের অবরুদ্ধ পাষাণ মন্দিরে
নিঃসঙ্গ সমাধি কার তিতিয়া উঠেছে অশ্রুনীরে।
লোকে লোকে শুরু হল হেমন্তের হিম অভিযান,
স্পর্শে অকস্মাৎ — উচকিত হয়ে ওঠে প্রাণ —
তোমার মর্মের মাঝে।
আকাশে প্রদীপ জ্বালি তাই,
গৃহবল্লভির চূড়ে তুলে ধরি ভাব যদি পাই —
নক্ষত্র নগর পথে আচম্বিতে তাহার সন্ধান?
তোমার ও দীপশিখা দীপ্ত হয়ে করিবে আহ্বান
অখণ্ড আঁধারে তারে, কে তোমারে হেন আশা দিল —।
খোঁজা কি করেছ শেষ — সেথা তার যত দেশ ছিল।
পথের মাঝে
উপোস করে' চলব তবু কিছুর ভয়ে টলবো না,
মনের কথা লুকিয়ে মুখে শত্রুকে আর ছল্ বো না।
বিঁধ্ ছে কাঁটা? ফুট্ ছে কাঁকর? ফুটুক তবু ছুট্ বো হে,
ইন্দ্রদেবের স্বর্গটাকে সবাই মিলে লুটবো হে।
চাঁদের ঘরে কী ধন আছে উট্ কো চলো দেখবো রে,
ধাক্কা দিয়ে তারায় তারায় সূর্যে গিয়ে ঠেক্ বো রে।

 

এইবেলাডটকম/প্রচ

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71