বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯
বৃহঃস্পতিবার, ১১ই মাঘ ১৪২৫
 
 
সিঙ্গাপুরে অভিবাসী শ্রমিকদের ক্রিকেট
প্রকাশ: ০৮:৪৪ pm ০৩-০৯-২০১৫ হালনাগাদ: ০৮:৪৪ pm ০৩-০৯-২০১৫
 
 
 


ক্রীড়া ডেস্ক : লাখ লাখ বিদেশী নির্মাণ শ্রমিকের আবাসস্থল সিঙ্গাপুর। এসব শ্রমিকের একটা বড় অংশই এসেছে ক্রিকেট পাগল বাংলাদেশ ও ভারত থেকে। সেখানে অভিবাসী শ্রমিকদের একটি ক্রিকেট লীগ হচ্ছে, যেখানে খেলছে বাংলাদেশী অভিবাসীদের নিয়ে গড়া ক্রিকেট দলও।

এই শ্রমিকরা দিনের বেশীরভাগ সময় কাজ করেন এবং মাস শেষে আটশো মার্কিন ডলারেরও কম রোজগার করতে পারেন, যার অধিকাংশই তারা দেশে পরিবার পরিজনের কাছে পাঠিয়ে দেন।

সারা সপ্তাহ কাজ করে একমাত্র ছুটির দিনটি এদের অনেকেই ক্রিকেট খেলে পার করতে ভালবাসেন। এখন সেখানে অভিবাসী শ্রমিকদের একটি ক্রিকেট লীগ হচ্ছে, যেখানে খেলছে বাংলাদেশী অভিবাসীদের নিয়ে গড়া ক্রিকেট দলও।

সিঙ্গাপুরের একটি জায়গার নাম লিটল ইন্ডিয়া। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও একটি ক্রিকেট ম্যাচ খেলা হচ্ছে। দুদলের খেলোয়াড়দের গায়েই সাদা পোশাক। এই খেলোয়াড়দের অধিকাংশই সপ্তাহের ছদিন বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে কঠোর পরিশ্রমের কাজ করেন। একমাত্র সাপ্তাহিক ছুটির দিনেই তারা খেলার সুযোগ পান।
সিঙ্গাপুরে থাকা বাংলাদেশী শ্রমিকদের একটি সংগঠন কেপিকেবি। চলমান এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টে এই সংগঠনটি থেকে তিনটি দল অংশ নিচ্ছে। পুরো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা চল্লিশ।

দলের প্রেসিডেন্ট এবং টিম ম্যানেজার জহির ইসলাম বলছেন, প্রবাসের জীবনে এটাই তাদের সেরা বিনোদন।

সিঙ্গাপুরে লাখ লাখ বিদেশী শ্রমিক কাজ করে। পরিবার পরিজন ছাড়াই দিন কাটে তাদের। অনেকেই হোস্টেলে তাকে অন্য শ্রমিকদের সাথে কামরা ভাগাভাগি করেন তারা।

অবশ্য সিঙ্গাপুরের মান অনুযায়ী তাদের বেতন একেবারেই ভাল নয়। অনেকেই মাসে আটশো ডলারের কম রোজগার করেন।

তবে জহির ইসলামের মতে, বাংলাদেশের হিসেবে এই রোজগার অনেক অনেক ভাল। প্রত্যেক শ্রমিককে দিনে চৌদ্দ থেকে ষোল ঘণ্টা কাজ করতে হয়। কিন্তু তাতেও তারা খুশী, কারণ তারা অন্ততপক্ষে এখানে কাজ করার সুযোগ তো পাচ্ছেন।

কেপিকেবি এ দলের অধিনায়ক বাইশ বছর বয়সী পাপন চন্দ্র দাসকে পরিবারকে সহায়তা করবার জন্য দৈনিক চৌদ্দ ঘণ্টা কাজ করতে হয় তাকে। অবশ্য এ নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই তার। কিন্তু সাপ্তাহিক ছুটির দিনটি খেলার মাঠ ছাড়া আর কিছুই টানে না তাকে।

সিঙ্গাপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের একজন কর্মকর্তা সারিকা প্রসাদ বলছেন, এই টুর্নামেন্টে ক্রিকেটীয় কোন নিয়ম নীতির ধার ধারছে না কেউ, স্রেফ আনন্দ করবার জন্যই যেন তারা খেলছে।

অবশ্য প্রচলিত ক্রিকেটের তুলনায় তাদের খেলার ধরণ কিছুটা আলাদা। এই ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক দল আট ওভার ব্যাট করতে পারবে। একজন বোলার সর্বোচ্চ দুই ওভার বল করতে পারবে। খেলা হচ্ছে আঠালো টেপে মোড়া টেনিস বল দিয়ে, বলটি খুব শক্ত নয়। ফলে মারাত্মক আঘাত লাগার কোনও আশঙ্কা নেই।

কারণ এদের বেশীরভাগই শ্রমিক ভিসায় এখানে রয়েছে এবং অনেকেরই হয়তো আঘাতজনিত চিকিৎসা সেবা পাবার উপযুক্ত ইনস্যুরেন্স নেই।

ম্যাচ শেষ হলো, কেপিকেবি এ দল হেরে গেছে, ফলে কোয়ার্টার ফাইনাল দিয়েই শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশী অভিবাসীদের এবারকার ক্রিকেট মৌসুম।

পাপন চন্দ্র দাস এটাকে দেখছেন ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে। অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে খুব বেশী সময় অপেক্ষা করতে হবে না মিস্টার দাসকে। কারণ কয়েক মাস বাদেই শুরু হচ্ছে তাদের পরবর্তী মৌসুম।


এইবেলা ডটকম/এইচ আর
 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71