শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শনিবার, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫
 
 
সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কারের পিছনে রয়েছে এক বাঙালির অবদান
প্রকাশ: ০৭:০৩ pm ১৩-০৪-২০১৭ হালনাগাদ: ০৭:০৩ pm ১৩-০৪-২০১৭
 
 
 


১৮৪২ সালে চার্লস ম্যাসন তাঁর ন্যারেটিভস অফ ভেরিয়াস জার্নিস ইন বালোচিস্তান, আফগানিস্তান অ্যান্ড দ্য পাঞ্জাব গ্রন্থের হরপ্পার ধ্বংসাবশেষের কথা প্রথম উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীকালে ১৮৭২-৭৫ সালে আলেকজান্ডার কানিংহাম প্রথম হরপ্পা সিলমোহর প্রকাশ করেন। 

যদিও ভুলবশত এটি ব্রাহ্মী লিপি মনে করেছিলেন। এর প্রায় অর্ধশতাব্দী পরে ১৯১২ সালে জে. ফ্লিট আরও কতকগুলি হরপ্পা সিলমোহর আবিষ্কার করেন। ওইসব সিলমোহর দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯২১-২২ সালে স্যার জন মার্শাল ওই অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য অভিযান চালান।

এই অভিযান মর্সালের প্রধান দুই সঙ্গী ছিলেন রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়,  রায়বাহাদুর দয়ারাম সাহানি৷ ওই কাজে নেমে স্যার জন মার্শাল, রায়বাহাদুর দয়ারাম সাহানি ও মাধোস্বরূপ ভাট হরপ্পা আবিষ্কার করেন৷ অন্যদিকে রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, ই. জে. এইচ. ম্যাককি ও স্যার জন মার্শাল মহেঞ্জোদাড়ো আবিষ্কার করেন।

মহেঞ্জোদারোর আবিষ্কর্তা হিসেবে রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (সংক্ষেপে আর.ডি ব্যানার্জী) একটি অতি পরিচিত নাম। পশ্চিম অঞ্চলের প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রত্নতাত্ত্বিক হিসেবে তিনি গ্রিক বিজয় স্তম্ভের সন্ধানে সিন্ধু অঞ্চলে গিয়েছিলেন এবং ঢিবির শীর্ষদেশে বৌদ্ধ বিহারের উৎখননকালে তিনি এমন কতগুলি নিদর্শনের সন্ধান পান যা তাঁকে হরপ্পায় সাহানী কর্তৃক প্রাপ্ত অনুরূপ নিদর্শনের কথা মনে করিয়ে দেয়। ১৯২২ সালে তিনি খননকার্য শুরু করেন। এসময়ে প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শনাদি আবিষ্কৃত হয়। এ সভ্যতা সম্পর্কে তাঁর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ বেশ কিছু প্রবন্ধ ও গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে।

মহেঞ্জোদাড়োর আবিষ্কাকর্তা রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একাধারে ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব, উৎকীর্ণ লিপিতত্ত্ব ও প্রাচীন হস্তলিপি বিষয়ের পথপ্রদর্শক এবং সাহিত্যিক। ১৮৮৫ সালের আজকের দিনে অর্থাৎ ১২ এপ্রিল মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা মতিলাল ও মা কালিমতী। রাখালদাস ১৯০৭ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ হতে ইতিহাস বিষয়ে সম্মানসহ স্নাতক এবং ১৯১০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

এরপর রাখালদাস ১৯১০ সালে কলকাতার ভারতীয় জাদুঘরের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের সহকারী কর্মকর্তা এবং ১৯১১ সালে ভারতের  প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগএ সহকারী তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ১৯১৭ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক তত্ত্বাবধায়ক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। কিন্তু ১৯২৬ সালে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। এর পর ১৯২৮ সালে তিনি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির মণিন্দ্রচন্দ্র নন্দী অধ্যাপক পদে যোগ দেন এবং ৪৫ বছর বয়সে ১৯৩০ সালের ৩০ মে কলকাতায় তাঁর অকাল মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ওই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

তবে ৪৫ বছরের জীবনেও রাখালদাস কমপক্ষে ১৪টি এককগ্রন্থ (monographs) ও পুস্তক, ৯টি উপন্যাস এবং বাংলা ও ইংরেজিতে তিনশোরও বেশি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। প্রাচীন হস্তলিপি বিদ্যা ও লিপি উৎকীর্ণ বিদ্যায় রাখালদাসের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ The Origin of the Bengali Scripts’ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও থিওডর ব্লককে উৎসর্গ করেন এবং এজন্য তিনি ১৯১৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়এর মর্যাদাকর ’জুবিলী গবেষণা পুরস্কার’ পান। ১৯১৯ সালে (১৯৭৩ সালে পুনঃমুদ্রিত) প্রথম প্রকাশিত তাঁর এ গ্রন্থ ছিল তাম্রলিপি ও পান্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে বাংলা লিপির বিকাশ তুলে ধরার প্রথম প্রচেষ্টা। তিনিই প্রথম আদি বাংলা লিপির প্রতি পন্ডিতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আদি বাংলা লিপিই পরবর্তীকালে বাংলা লিপির রূপ পরিগ্রহ করে।  আবার ভারতীয় মুদ্রা গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাচীন মুদ্রা, প্রথম পর্ব (বাংলায় লিখিত) ছিল সন্দেহাতীতভাবে রাখালদাসের সবচেয়ে বড় অবদান। এ গ্রন্থে প্রাচীন ও প্রাক-মধ্যযুগীয় ভারতের মুদ্রাসমূহের বিজ্ঞানসম্মত বর্ণনা ও সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। ১৯১৪ সালে প্রকাশিত এটিই ভারতীয় ভাষায় মুদ্রাতত্ত্বের ওপর লিখিত সর্বপ্রথম গ্রন্থ।

আবার রাখালদাস প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাস সম্পর্কিত কলা, স্থাপত্য ও মূর্তিতত্ত্বের গবেষণায় অবদান রেখে গিয়েছেন। Temple of Shiva at Bhumara, Bas Reliefs of Badami  ‰es The Haihayas of Tripra and their Monuments-এর ওপর লিখিত তাঁর তিন খন্ড  Memoirs of the Archaeological Survey of India যথাক্রমে, ১৯২৪, ১৯২৮ এবং ১৯৩১ (মরণোত্তর প্রকাশিত) সালে প্রকাশিত৷ মূর্তিতত্ত্বে রাখালদাসের গভীর অনুরাগ ছিল। ভারতীয় গবেষণার এ বিষয়ের ওপর তাঁর জ্ঞান ১৯০৯-১০ সালে Annual Report of the Archaeological Survey of India-ˆZ ‘Three Sculptures in the Lucknow Museum’ নামক শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধে দৃষ্টান্তস্বরূপ প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি এ তিনটি ভাস্কর্যের মধ্যে একটিকে পঞ্চমুখ শিবলিঙ্গ হিসেবে যথার্থভাবেই শনাক্ত করেন। তিনি তাঁর Eastern Indian Medieval School of Sculpture-এ বেশ কিছু বিভ্রান্তিকর মূর্তি শনাক্ত করেন এবং পৌরাণিক কাহিনী ও যথার্থ উদাহরণসহ পাল-সেন যুগের ধ্যানমগ্ন মূর্তির ব্যাখ্যা দেন।

এইবেলাডটকম/এএস

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
Study in RUSSIA
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : নিন্দ্রা ভৌমিক

খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2018 Eibela.Com
Developed by: coder71