শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯
শুক্রবার, ৪ঠা শ্রাবণ ১৪২৬
 
 
সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা যেতে পারে অন্তত ৭ অপরাধে
প্রকাশ: ০৬:৫৪ pm ২৩-০৫-২০১৬ হালনাগাদ: ০৬:৫৪ pm ২৩-০৫-২০১৬
 
 
 


এইবেলা ডেস্ক: গুজব ছড়াতে সহায়তা, শারীরিক হেনস্তা করা, ক্রিমিনাল ইন্টিমিড্যাশন, মানহানিসহ অন্তত সাত ধারায় সেলিম ওসমানের বিরেুদ্ধে অভিযোগ আনা যেতে পারে।

নারায়ণগঞ্জে জনতার সামনে লাঞ্ছিত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের ওপর যে অন্যায় হয়েছে, স্বপদে বহাল করে তার সুরাহা হলেও তার প্রতি যে অপরাধ করা হয়েছে তার বিচার হয়নি বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। তারা বলছেন- একজন জনপ্রতিনিধি, যিনি আইন প্রণয়ন করেন, তিনি বিচারকের আসনে নিজেকে বসিয়ে অপরাধ করেছেন।

এদিকে অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, সেলিম ওসমান গত শুক্রবার থেকে যে ধরনের আচরণ এবং বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে আবারও শিক্ষককের কটূক্তি করা নিয়ে যে ভাষায় কথা বলেছেন তার বিচার হওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন: শিক্ষক লাঞ্ছনাকারীদের আইনী সহায়তা দেবে না সুপ্রিম কোর্ট বার

আইনজীবীরা বলছেন, পুরো ঘটনার সঙ্গে সেলিম ওসমানের সম্পৃক্ততা বিশ্লেষণ করলে দণ্ডবিধির ২৯৫ (এ) ও ২৯৮সহ তার বিরুদ্ধে ৫০৩ থেকে ৫০৭ এর সব কয়টা অভিযোগ আনা যেতে পারে। এসব ধারায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মতো, হেয় করার মতো কাজ, শারীরিক হেনস্তা, হুমকি, মারধরের মতো অপরাধের শাস্তি উল্লেখ আছে।

শারীরিক হেনস্তা ও হেয় করার প্রমাণ মেলে শ্যামল কান্তি ভক্ত যখন বলেন, ‘ঘটনার দিন বিকেলে সেলিম ওসমান আমার কক্ষে আসেন। তখন আমি চেয়ারের হাতলে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। তিনি (সেলিম ওসমান) ভেতরে প্রবেশ করার পর আমি তাকে সালাম দিয়ে শুধু ‘স্যার’ বলতে পেরেছিলাম। তিনি ভেতরে প্রবেশ করে আমার কোনও কথা না শুনে দুই হাত দিয়ে আমার দুই গালে চারটি থাপ্পড় মারেন। পরে আমাকে বাইরে এনে বলেন, ‘শালা কান ধর, ১০ বার কান ধরে উঠবোস করবি। আমি কয়েকবার কান ধরে উঠবোস করার পরেই পড়ে যাই। পরে আমাকে হাত ধরে ওঠানোর পর এমপি বলেন- এই শালা মাফ চা। আমি মাফ চাইলে আমাকে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আমাকে প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যায়।’

পরবর্তীতে সেলিম ওসমান বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ঘটনার দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন বলেও প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যে জানা গেছে। শ্যামল কান্তি ভক্ত বলেন, ‘‘তিনি (সেলিম ওসমান) আমাকে বলেছেন, ‘আপনি আমাকে সেভ করেন আমিও আপনাকে সেভ করব।’ তিনি নিজেই আমাকে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন। আমাকে সেলিম ওসমানের এক লোক মারফত প্রলোভন দেখিয়েছেন এবং নিজে কল করে বলেছেন, যত সুযোগ-সুবিধা চান আপনাকে দেওয়া হবে। চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠানো হবে।’’

ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেন, তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০৩ থেকে শুরু করে ৫০৭ পর্যন্ত সব অভিযোগ আনা যেতে পারে। প্রধান শিক্ষককে পুনরায় পদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে তার প্রতি হওয়া অনিয়মের সুরাহা করে দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু যে অপরাধগুলো সেদিন সংঘটিত হয়েছে সেগুলোর কোনও বিচার এখনও হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এখন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে আমজনতা তার কার্যক্রমের সমালোচনা করছেন। আর উনি সংবাদ সম্মেলন করে আবারও উচ্চারণ করছেন, আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ করার জন্য ফাঁসি হলেও তিনি পিছপা হবেন না। তিনি তো বিচার করার কেউ না। যদি সেই শিক্ষক কোনও অপরাধ করেই থাকেন তাহলে সেলিম ওসমান আদালতের দ্বারস্থ হতে পারতেন। তা না করে তিনি জনতার সামনে শিক্ষককে কান ধরে উঠবোস করালেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী, শ্যামল ভক্তের অপমানকারীদের শক্ত হাতে সাজা দিন

একজন জনপ্রতিনিধি কখনোই বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন না এবং তার অপরাধের শাস্তি সেলিম ওসমানের পাওয়া উচিত উল্লেখ করে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, প্রথম প্রশ্ন- জনপ্রতিনিধি হওয়ার কারণে তিনি কোনওভাবেই বিচারকের আসনে নিজেকে বসাতে পারেন কিনা? তিনি যেহেতু আইনপ্রণেতা তিনি বিচারকের আসনে বসতে পারেন না। তারপরও তিনি এ ধরনের কাজে নিজেকে জড়িয়ে বড় ধরনের অপরাধ করেছেন।

তিনি বলেন, আইনি লড়াইয়ের বিষয়টা কেন একেবারেই আলোচনার বাইরে থেকে গেলো সে দিকটি নিয়ে আমাদের ভেবে দেখা দরকার। আমজনতা এ অপরাধ করলে সেটাকে যত বড়ভাবে দেখা হতো তার চেয়ে সেলিম ওসমানের অপরাধ কয়েকগুণ বেশি, কেননা তিনি তার অবস্থান সম্পর্কে অবহিত হয়েও এ ধরনের ঘটনায় জড়িয়েছেন এবং তার উপস্থিতি ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ অপরাধ ঘটেছে।

 

এইবেলাডটকম/এমআর

 
 
 
   
  Print  
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
আরও খবর

 
 
 
 
 

সম্পাদক : সুকৃতি কুমার মন্ডল 

 খবর প্রেরণ করুন # info.eibela@gmail.com

ফোন : +8801517-29 00 02

+8801711-98 15 52

a concern of Eibela Foundation

Request Mobile Site

 

 

Copyright © 2019 Eibela.Com
Developed by: coder71